৪৩/৬১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৯২৮ - নারীসাদৃশ্য ও শাস্তিতে সীমা
হিজড়া সম্পর্কে বিধান
নারীসাদৃশ্য গ্রহণ ও শাস্তিতে নববী সীমা
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৯২৮
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৯২৮
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَنَّ أَبَا أُسَامَةَ، أَخْبَرَهُمْ عَنْ مُفَضَّلِ بْنِ يُونُسَ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ أَبِي يَسَارٍ الْقُرَشِيِّ، عَنْ أَبِي هَاشِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ أُتِيَ بِمُخَنَّثٍ قَدْ خَضَبَ يَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ بِالْحِنَّاءِ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " مَا بَالُ هَذَا " . فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ يَتَشَبَّهُ بِالنِّسَاءِ . فَأُمِرَ بِهِ فَنُفِيَ إِلَى النَّقِيعِ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ نَقْتُلُهُ فَقَالَ " إِنِّي نُهِيتُ عَنْ قَتْلِ الْمُصَلِّينَ " . قَالَ أَبُو أُسَامَةَ وَالنَّقِيعُ نَاحِيَةٌ عَنِ الْمَدِينَةِ وَلَيْسَ بِالْبَقِيعِ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কোন একদিন এক হিজড়াকে নবী (ﷺ)-এর নিকট আনা হলো। তার হাত-পা মেহেদী দ্বারা রাঙ্গানো ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এর এ অবস্থা কেনো? বলা হলো, হে আল্লাহ্র রাসূল! সে নারীর বেশ ধরেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে আন-নকী নামক স্থানে নির্বাসন দেয়ার নির্দেশ দিলেন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি তাকে হত্যা করবো না? তিনি বললেন, সালাত আদায়কারীদের হত্যা করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে। আবূ-উসামাহ বলেন, আন-নাকী’ হলো মাদীনাহ্ এর প্রান্তবর্তী একটি জনপদ, এটা বাকী’ নয়।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৯২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এমন এক ব্যক্তির কথা এসেছে, যার হাত-পা মেহেদি দিয়ে রাঙানো ছিল এবং বলা হলো, সে নারীর বেশ ধরেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বিষয়টি জিজ্ঞেস করেন এবং পরে তাকে “আন-নাকী” নামক স্থানে নির্বাসনের নির্দেশ দেওয়া হয়। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করেন, তাকে হত্যা করা হবে কি না। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, সালাত আদায়কারীদের হত্যা করতে তাঁকে নিষেধ করা হয়েছে। এখানে দুটি বিষয় স্পষ্ট। একদিকে নারীসাদৃশ্য গ্রহণের আচরণকে অনুমোদন করা হয়নি। অন্যদিকে শাস্তির ক্ষেত্রেও সীমা রাখা হয়েছে। আবু উসামা (রহঃ) আরও বলেন, “আন-নাকী” মদিনার প্রান্তবর্তী স্থান, “বাকী” নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বাহ্যিক বেশভূষায় ইচ্ছাকৃত নারীসাদৃশ্য গ্রহণের বিষয়ে সতর্কতা এসেছে।
- ভুল আচরণের প্রতিকারেও সীমা মানা জরুরি।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সালাত আদায়কারীর জীবন রক্ষার কথা বলেছেন।
- স্থান ও শব্দের ব্যাখ্যায় বর্ণনাকারীর মন্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।
