৪৩/৮৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৯৯০ - হাসানোর জন্য মিথ্যার ভয়
মিথ্যাচার সম্পর্কে কঠোরতা
হাসানোর জন্য মিথ্যা বলা নিয়ে নববী সতর্কতা
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৯৯০
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৯৯০
حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ «وَيْلٌ لِلَّذِي يُحَدِّثُ فَيَكْذِبُ لِيُضْحِكَ بِهِ الْقَوْمَ وَيْلٌ لَهُ وَيْلٌ لَهُ».
মুআবিয়াহ ইবনু হাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমার পিতা তার পিতার সূত্রে আমাকে হাদীস বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ মানুষকে হাসানোর জন্য যে ব্যক্তি মিথ্যা বলে তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৯৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষকে হাসানোর জন্য কথা বলে এবং সেই কথায় মিথ্যা বলে, তার জন্য ধ্বংস। তিনি এই সতর্কতা তিনবারের মতো জোর দিয়ে বলেছেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, হাসি-মজা করলেও মিথ্যা ব্যবহার করা ঠিক নয়। অনেক সময় মানুষ মনে করে, কৌতুকের জন্য বানানো কথা বলা বড় কিছু নয়। কিন্তু হাদিসটি দেখায়, মিথ্যা শুধু গুরুতর আলোচনায় নয়, হাসানোর কথাতেও ক্ষতিকর। কারণ মিথ্যা মুখের অভ্যাস হয়ে গেলে মানুষ সত্যের গুরুত্ব হারায়। ইসলামে আনন্দ, হাসি ও হালকা রসিকতা নিষিদ্ধ নয়; কিন্তু মিথ্যা দিয়ে কাউকে হাসানো নিন্দিত। তাই বক্তা, লেখক, বন্ধুদের আড্ডা বা সামাজিক মাধ্যমে—যেখানেই কথা বলা হোক, সত্যের সীমা মানা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষকে হাসানোর জন্য মিথ্যা বলা নিন্দিত কাজ।
- রসিকতা করলেও সত্যের সীমা রাখা দরকার।
- মিথ্যা অভ্যাসে পরিণত হলে চরিত্রে ক্ষতি হয়।
