৪৩/৯৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৫০০৬ - মন জয়ের জন্য কথার অপব্যবহার
বাকপটুতা সম্পর্কে
চিত্তাকর্ষক কথার ভুল উদ্দেশ্য থেকে সতর্কতা
সুনানে আবূ দাউদ : ৫০০৬
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৫০০৬
حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا وَهْبٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ شُرَحْبِيلَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " مَنْ تَعَلَّمَ صَرْفَ الْكَلاَمِ لِيَسْبِيَ بِهِ قُلُوبَ الرِّجَالِ أَوِ النَّاسِ لَمْ يَقْبَلِ اللَّهُ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَرْفًا وَلاَ عَدْلاً " .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মানুষের অন্তরকে আকৃষ্ট করার জন্য চিত্তাকর্ষক কথাবার্তা শিখে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার কোন তাওবাহ ও ফিদইয়া (অথবা ফরজ ও নফল ইবাদত) গ্রহণ করবেন না।
৫০০৪ মিশকাত। এর সানাদ মুনকাতি।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৫০০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এমন ব্যক্তির ব্যাপারে কঠিন সতর্কতা দিয়েছেন, যে মানুষের অন্তর আকৃষ্ট করার জন্য চিত্তাকর্ষক কথাবার্তা শেখে। এখানে মূল সমস্যা শুধু সুন্দর কথা বলা নয়; বরং উদ্দেশ্য হলো মানুষকে মুগ্ধ করা, নিজের দিকে টানা বা কথার জাদু দিয়ে প্রভাব তৈরি করা। হাদিসে বলা হয়েছে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তার কোনো তওবা ও ফিদইয়া, অথবা ব্যাখ্যা অনুযায়ী ফরজ ও নফল ইবাদত গ্রহণ করবেন না। তাই বক্তৃতা, লেখা, আলোচনা বা বিতর্কে নিয়ত খুব গুরুত্বপূর্ণ। কথা যদি সত্যের জন্য হয়, তা ভালো। কিন্তু কথা যদি মানুষের মন দখল করার কৌশল হয়ে যায়, তখন তা বিপজ্জনক। এই হাদিস আমাদের শেখায়, ভাষার শক্তি আছে; তাই ভাষা ব্যবহার করতে হবে সততা, বিনয় এবং আল্লাহভীতির সঙ্গে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষকে প্রভাবিত করার ভুল উদ্দেশ্যে কথা শেখা বিপজ্জনক।
- সুন্দর কথা বলার সঙ্গে সঠিক নিয়ত থাকা জরুরি।
- বক্তৃতা ও আলোচনায় সত্যকে প্রাধান্য দিতে হবে।
- কথার শক্তি আছে, তাই তা দায়িত্ব নিয়ে ব্যবহার করতে হবে।
