৪৩/৯৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৫০১৯ - স্বপ্নের তিন প্রকার ও করণীয়
স্বপ্ন সম্পর্কে
স্বপ্নের তিন প্রকার ও খারাপ স্বপ্নে করণীয়
সুনানে আবূ দাউদ : ৫০১৯
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৫০১৯
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «إِذَا اقْتَرَبَ الزَّمَانُ لَمْ تَكَدْ رُؤْيَا الْمُؤْمِنِ أَنْ تَكْذِبَ وَأَصْدَقُهُمْ رُؤْيَا أَصْدَقُهُمْ حَدِيثًا وَالرُّؤْيَا ثَلاَثٌ فَالرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ بُشْرَى مِنَ اللَّهِ وَالرُّؤْيَا تَحْزِينٌ مِنَ الشَّيْطَانِ وَرُؤْيَا مِمَّا يُحَدِّثُ بِهِ الْمَرْءُ نَفْسَهُ فَإِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ مَا يَكْرَهُ فَلْيَقُمْ فَلْيُصَلِّ وَلاَ يُحَدِّثْ بِهَا النَّاسَ " . قَالَ " وَأُحِبُّ الْقَيْدَ وَأَكْرَهُ الْغُلَّ وَالْقَيْدُ ثَبَاتٌ فِي الدِّينِ ". قَالَ أَبُو دَاوُدَ «إِذَا اقْتَرَبَ الزَّمَانُ ". يَعْنِي إِذَا اقْتَرَبَ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ يَعْنِي يَسْتَوِيَانِ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ সময় যখন কাছাকাছি হবে তখন মুসলিমের স্বপ্ন মিথ্যা হবে না এবং যে যতো সত্যবাদী হবে তার স্বপ্নও ততো সত্য হবে। স্বপ্ন তিন প্রকার,(ক) উত্তম স্বপ্ন যা আল্লাহর পক্ষ হতে সুসংবাদ,(খ) ভীতিপ্রদ স্বপ্ন যা শয়তানের পক্ষ হতে হয়ে থাকে,(গ) যা মানুষ চিন্তা-ভাবনা ও ধারণা অনুপাতে দেখে থাকে।যে ব্যক্তি কোন খারাপ স্বপ্ন দেখবে, তার উচিত ঘুম থেকে জেগে সালাত আদায় করা এবং ঐ স্বপ্ন সম্বন্ধে কারো সঙ্গে আলাপ না করা। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি স্বপ্নে পায়ে শিকল লাগানো দেখতে পাওয়াকে পছন্দ করি তবে গলায় শিকল লাগানো দেখাকে অপছন্দ করি। স্বপ্নে শিকল দেখার তাৎপর্য হলো, দ্বীনের উপর অবিচল থাকা।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, “সময় যখন কাছাকাছি হবে” অর্থাৎ যখন রাত ও দিনের দৈর্ঘ্য সমান হবে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৫০১৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে স্বপ্ন বিষয়ে বিস্তারিত শিক্ষা এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, সময় কাছাকাছি হলে মুমিনের স্বপ্ন প্রায় মিথ্যা হবে না, আর যে যত সত্যবাদী, তার স্বপ্নও তত সত্য হবে। এরপর স্বপ্ন তিন প্রকার বলা হয়েছে। উত্তম স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ। ভীতিপ্রদ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে দুঃখ বা ভয় সৃষ্টি করে। আর কিছু স্বপ্ন মানুষের নিজের চিন্তা-ভাবনা ও ধারণার ফল। যে ব্যক্তি খারাপ স্বপ্ন দেখে, তার উচিত উঠে সালাত আদায় করা এবং সেই স্বপ্ন মানুষের কাছে না বলা। এই হাদিসে স্বপ্নের ক্ষেত্রে ভারসাম্য আছে। সব স্বপ্নকে একভাবে বিচার করা যাবে না। ভালো স্বপ্নে আল্লাহর সুসংবাদ থাকতে পারে, খারাপ স্বপ্নে ভয় পেয়ে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। আরও এসেছে, পায়ে শিকল দেখা পছন্দনীয়, আর গলায় শিকল অপছন্দনীয়; পায়ের শিকলকে দ্বীনের উপর অবিচল থাকার অর্থ বলা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্বপ্ন তিন প্রকার: সুসংবাদ, শয়তানের ভয়, এবং নিজের চিন্তার প্রভাব।
- খারাপ স্বপ্ন দেখলে উঠে সালাত পড়া এবং তা না বলা উচিত।
- সত্যবাদী মানুষের স্বপ্ন বেশি সত্য হওয়ার কথা হাদিসে এসেছে।
- স্বপ্নের ব্যাখ্যায় তাড়াহুড়া বা বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়।
