৪৩/১৬৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৫২২৭ - কথার আদব ও সতর্কতা
কোন ব্যক্তির এরূপ বলা যে, আল্লাহ তোমার চক্ষু শীতল করুন
কথার আদব: কোন বাক্যে সতর্ক থাকতে হবে
সুনানে আবূ দাউদ : ৫২২৭
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৫২২৭
حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ قَتَادَةَ، أَوْ غَيْرِهِ أَنَّ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ، قَالَ كُنَّا نَقُولُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ أَنْعَمَ اللَّهُ بِكَ عَيْنًا وَأَنْعِمْ صَبَاحًا فَلَمَّا كَانَ الإِسْلاَمُ نُهِينَا عَنْ ذَلِكَ. قَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ مَعْمَرٌ يُكْرَهُ أَنْ يَقُولَ الرَّجُلُ أَنْعَمَ اللَّهُ بِكَ عَيْنًا وَلاَ بَأْسَ أَنْ يَقُولَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَيْنَكَ.
‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
জাহিলী যুগে আমরা বলতাম, “আল্লাহ তোমাদের চক্ষু শীতল করুন অথবা প্রত্যুষে তুমি আনন্দিত হও। ইসলামের আবির্ভাবের পর আমাদের এসব বলতে বাধা দেওয়া হয়। ‘আবদুর রায্যাক (রহঃ) বলেন, মা’মার বলেন, আল্লাহ তোমার জন্য তোমার চক্ষু শীতল করুন, এরূপ বলা অপছন্দনীয়। তবে ‘আল্লাহ তোমার চক্ষু শীতল করুন’ – এরূপ বলা দোষণীয় নয়।
[৫২২৫] কাতাদাহ হাদীসটি ‘ইমরান ইবনু হুসাইন হতে শুনেননি। সুতরাং এটি মুনকাতি। আত-তাহযীব গ্রন্থে রয়েছেঃ তিনি আনাস বিন মালিক ছাড়া কোন সাহাবী হতে হাদীস শুনেননি।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৫২২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) জাহিলী যুগের কিছু কথার কথা বলেছেন। তাঁরা তখন বলতেন, আল্লাহ তোমার চক্ষু শীতল করুন অথবা প্রত্যুষে তুমি আনন্দিত হও। ইসলামের আগমনের পর তাঁদের এসব বলতে বাধা দেওয়া হয়। পরে আবদুর রায্জাক (রহঃ) মা'মার (রহঃ)-এর বক্তব্য উল্লেখ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট বাক্য বলা অপছন্দনীয়, তবে আল্লাহ তোমার চক্ষু শীতল করুন—এভাবে বলা দোষনীয় নয়। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, কথাবার্তার শব্দ বাছাই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম শুধু বড় কাজ নয়, মুখের ভাষাকেও সুন্দর করে। কোন বাক্য কীভাবে বলা হচ্ছে, সেটিও বিবেচনার বিষয়। তাই মুসলিমের উচিত আনন্দ, শুভেচ্ছা বা দোয়ার কথাও এমনভাবে বলা, যাতে তা ইসলামী আদবের সঙ্গে মেলে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কথাবার্তায় ব্যবহৃত শব্দের বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার।
- ইসলাম মানুষের ভাষা ও অভ্যাসকেও সুন্দর করে।
- শুভেচ্ছার বাক্যেও আদব ও সঠিক রূপ মানা উচিত।
- যে বাক্য নিয়ে অপছন্দ এসেছে, তা এড়িয়ে চলা নিরাপদ।
