২/৪৬. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৫৪৩ - প্রথম কাতারের ফজিলত

সালাতের ইকামত হওয়ার পরও ইমামের আগমনের অপেক্ষায় বসে থাকা

প্রথম কাতারের ফজিলত ও কাতার পূরণে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষা

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৫৪৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ سُوَيْدِ بْنِ مَنْجُوفٍ السَّدُوسِيُّ، حَدَّثَنَا عَوْنُ بْنُ كَهْمَسٍ، عَنْ أَبِيهِ، كَهْمَسٍ قَالَ قُمْنَا إِلَى الصَّلاَةِ بِمِنًى وَالإِمَامُ لَمْ يَخْرُجْ فَقَعَدَ بَعْضُنَا فَقَالَ لِي شَيْخٌ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ مَا يُقْعِدُكَ قُلْتُ ابْنُ بُرَيْدَةَ . قَالَ هَذَا السُّمُودُ . فَقَالَ لِي الشَّيْخُ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْسَجَةَ عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ كُنَّا نَقُومُ فِي الصُّفُوفِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ طَوِيلاً قَبْلَ أَنْ يُكَبِّرَ قَالَ وَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ وَمَلاَئِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الَّذِينَ يَلُونَ الصُّفُوفَ الأُوَلَ وَمَا مِنْ خَطْوَةٍ أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ مِنْ خَطْوَةٍ يَمْشِيهَا يَصِلُ بِهَا صَفًّا " .

বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

মিনায় আমরা সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে গেলাম, কিন্তু তখনো ইমাম বের হননি। এমতাবস্থায় আমাদের মধ্যকার কেউ কেউ বসে পড়ল। কুফাবাসী জনৈক শায়খ বললেন, কিসে আপনাকে বসিয়ে দিল? আমি বললাম, ইবনু বুরাইদাহ। তিনি বলেছেন, ইমামের জন্য এভাবে (দাঁড়িয়ে) অপেক্ষা করা নিষ্প্রয়োজন।তিনি বলেন, আমার শায়খ ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওসাজাহ (রহঃ) আল-বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে তাকবিরে তাহরীমা বলার পূর্বে সালাতের কাতারে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতাম। তিনি আরো বলেন, সম্মানিত মহান আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁর মালায়িকাহ্‌ (ফেরেশতাগণ) দোয়া করে থাকেন ঐ লোকদের জন্য যারা সামনের কাতারসমূহের দিকে ধাবিত হয়। আল্লাহর নিকট ঐ পদক্ষেপের চাইতে অধিক পছন্দনীয় পদক্ষেপ আর কোনটি নেই মানুষেরা যা কাতারবদ্ধ হবার জন্য করে থাকে।

[৫৪২] ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ সলাত ক্বায়িম, অনুঃ সামনে কাতারের ফাযীলাত, হাঃ৯৯৭) দারিমী (১২৬৪), আহমাদ (৪/২৮৫, ২৯৬) ইবনু খুযাইমাহ (১৫৫১, ১৫৫৬। মিশকাতের তাহক্বীক্বে শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেনঃ এর সানাদে অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছে। তবে হাদীসের প্রথমাংশের ভিন্ন আরেকটি সানাদ রয়েছে, যা সহীহ।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৫৪৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সালাতের কাতার, প্রথম কাতারের ফজিলত এবং কাতারবদ্ধ হওয়ার গুরুত্ব একসাথে এসেছে। মিনায় ইমাম বের হওয়ার আগে কিছু লোক দাঁড়িয়েছিল, আবার কেউ কেউ বসে পড়েছিল। এরপর আল-বারা ইবন আজিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করা হয় যে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর যুগে তাঁরা তাকবীরে তাহরীমার আগে কাতারে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতেন। হাদিসে আরও বলা হয়েছে, আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা দোয়া করেন তাদের জন্য, যারা সামনের কাতারের দিকে এগিয়ে যায়। কাতার মিলানোর জন্য যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা আল্লাহর কাছে প্রিয় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ হয়েছে। তাই জামাতে নামাজে প্রথম কাতার, কাতার পূরণ এবং শৃঙ্খলা—সবই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সালাতের কাতারে দাঁড়িয়ে ইমামের অপেক্ষা করা সাহাবীদের আমলের মধ্যে ছিল।
  • সামনের কাতারের দিকে এগিয়ে যাওয়া রহমত ও ফেরেশতাদের দোয়ার কারণ।
  • কাতার পূরণের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া আল্লাহর কাছে প্রিয় হিসেবে এসেছে।
  • জামাতে নামাজে শৃঙ্খলা ও কাতারের যত্ন নেওয়া উচিত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন