২/৬২. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৫৯১ - উম্মু ওয়ারাকা ও ঘরের ইবাদত
মহিলাদের ইমামতি করা প্রসঙ্গে
উম্মু ওয়ারাকা (রা.): ঘরের ইবাদত, কুরআন পাঠ ও শাহাদাত
সুনানে আবূ দাউদ : ৫৯১
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৫৯১
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جُمَيْعٍ، قَالَ حَدَّثَتْنِي جَدَّتِي، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ خَلاَّدٍ الأَنْصَارِيُّ، عَنْ أُمِّ وَرَقَةَ بِنْتِ نَوْفَلٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ لَمَّا غَزَا بَدْرًا قَالَتْ قُلْتُ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ائْذَنْ لِي فِي الْغَزْوِ مَعَكَ أُمَرِّضُ مَرْضَاكُمْ لَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يَرْزُقَنِي شَهَادَةً . قَالَ " قِرِّي فِي بَيْتِكِ فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَرْزُقُكِ الشَّهَادَةَ " . قَالَ فَكَانَتْ تُسَمَّى الشَّهِيدَةَ .قَالَ وَكَانَتْ قَدْ قَرَأَتِ الْقُرْآنَ فَاسْتَأْذَنَتِ النَّبِيَّ ﷺ أَنْ تَتَّخِذَ فِي دَارِهَا مُؤَذِّنًا فَأَذِنَ لَهَا قَالَ وَكَانَتْ دَبَّرَتْ غُلاَمًا لَهَا وَجَارِيَةً فَقَامَا إِلَيْهَا بِاللَّيْلِ فَغَمَّاهَا بِقَطِيفَةٍ لَهَا حَتَّى مَاتَتْ وَذَهَبَا فَأَصْبَحَ عُمَرُ فَقَامَ فِي النَّاسِ فَقَالَ مَنْ كَانَ عِنْدَهُ مِنْ هَذَيْنِ عِلْمٌ أَوْ مَنْ رَآهُمَا فَلْيَجِئْ بِهِمَا فَأَمَرَ بِهِمَا فَصُلِبَا فَكَانَا أَوَّلَ مَصْلُوبٍ بِالْمَدِينَةِ .
উম্মু ওয়ারক্বাহ বিনতু নাওফাল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) যখন বদরের যুদ্ধে গেলেন তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে আপনার সাথে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি দিন। আমি পীড়িত-আহতদের সেবা করব। হয়তো মহান আল্লাহ আমাকেও শাহাদাতের মর্যাদা দিবেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি তোমার ঘরেই অবস্থান কর। মহান আল্লাহ তোমাকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করবে। বর্ণনাকারী বলেন, ঐদিন থেকে উক্ত মহিলার নাম হয়ে গেল শাহীদাহ্। তিনি কোরআন মাজীদ ভাল পড়তেন। সেজন্য তিনি নবী (ﷺ)-এর কাছে অনুমতি চাইলে তিনি তাঁর ঘরে একজন মুয়াজ্জিন নিয়োগের অনুমতি দিলেন।তিনি একটি দাস ও একটি দাসীকে তাঁর মৃত্যুর পর আযাদ করে দেয়ার চুক্তি করেছিলেন। তাঁরা (দাস ও দাসী) দু’জন রাতে উঠে তাঁর নিকট গিয়ে তাঁর চাদর দিয়ে তাঁকে চেপে ধরে হত্যা করে উভয়ে পালিয়ে যায়। প্রত্যুষে এটা ‘উমর (রাঃ) জানতে পেরে লোকদের জানিয়ে দিলেন, এ দু’টি গোলাম-বাঁদী সম্পর্কে কারো জানা থাকলে বা তাদেরকে কেউ দেখে থাকলে, তাদের যেন (ধরে) নিয়ে আসে। (তাঁরা গ্রেফতার হলে) তাদেরকে নির্দেশ মোতাবেক শূলে চড়ানো হয়। মাদীনাহ্তে তাদের দু’জনকেই সর্বপ্রথম শূলে চড়ানো হয়।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৫৯১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উম্মু ওয়ারাকা (রা.)-এর একটি গভীর ঘটনা এসেছে। বদরের যুদ্ধে যাওয়ার সময় তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে অনুমতি চান, যাতে তিনি আহত ও অসুস্থদের সেবা করতে পারেন এবং হয়তো শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে ঘরে থাকতে বলেন এবং জানান যে, আল্লাহ তাকে শাহাদাতের মর্যাদা দেবেন। পরে তিনি শহিদা নামে পরিচিত হন। তিনি কুরআন ভালো পড়তেন এবং নিজের ঘরে মুয়াজ্জিন রাখার অনুমতি পান। এরপর তার দাস ও বাঁদী রাতের বেলা তাকে হত্যা করে পালায়। পরে তারা ধরা পড়ে এবং শাস্তি দেওয়া হয়। হাদিসটি কুরআন পাঠ, ঘরের ইবাদত, নববী নির্দেশ মানা এবং অন্যায় হত্যার ভয়াবহ দিক সামনে আনে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ মানা সাহাবিদের জীবনে বড় গুরুত্ব রাখত।
- কুরআন পাঠ ও ঘরের ইবাদতের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা যায়।
- অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা ভয়াবহ অপরাধ।
