২/৬৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৫৯৩ - অপছন্দের ইমাম ও দেরিতে সালাত
মুক্তাদীদের অপছন্দনীয় লোকের ইমামতি করা
অপছন্দের ইমাম, দেরিতে সালাত ও অন্যায়ের সতর্কতা
সুনানে আবূ দাউদ : ৫৯৩
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৫৯৩
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ غَانِمٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ عَبْدٍ الْمَعَافِرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ كَانَ يَقُولُ «ثَلاَثَةٌ لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُمْ صَلاَةً مَنْ تَقَدَّمَ قَوْمًا وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ وَرَجُلٌ أَتَى الصَّلاَةَ دِبَارًا " . وَالدِّبَارُ أَنْ يَأْتِيَهَا بَعْدَ أَنْ تَفُوتَهُ «وَرَجُلٌ اعْتَبَدَ مُحَرَّرَهُ " .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেনঃ তিন ব্যক্তির সালাত আল্লাহর কবুল করেন না।(এক) যে ব্যক্তি নিজে আগে বেড়ে ইমামতি করে অথচ লোকেরা তাকে অপছন্দ করে।(দুই) যে ব্যক্তি ‘দিবারে’ সালাত আদায়ে অভ্যস্ত। ‘দিবার’ হচ্ছে ওয়াক্ত শেষ হবার মুহূর্তে সালাত আদায় করা।(তিন) যে ব্যক্তি কোন স্বাধীন লোককে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে।
[১] ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ সালাত ক্বায়িম, অনুঃ লোকেরা অপছন্দ করা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি তাদের ইমামত করে, হাঃ ৯৭০), বায়হাক্বী (৩/১২৮) ইফরীক্বী সূত্রে। সানাদে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর ইবনু গানিমকে সিক্বাহ বলেছেন ইবনু ইউনুস এবং অন্যরা। আবূ হাতিম তাকে চেনেননি। এছাড়া সানাদে ‘আবদুর রহমান ইবনু যিয়াদ ইফরীক্বী দুর্বল। সানাদের ‘ইমরান ইবনু ‘আবদুল মু’আফিরীকে দুর্বল বলেছেন হাফিয ‘আত-তাক্বরীব’ গ্রন্থে, মিশকাতের তাহক্বীক্বে রয়েছেঃ তিনি অজ্ঞাত ব্যক্তি।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৫৯৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তিন ধরনের মানুষের কথা বলা হয়েছে, যাদের সালাত আল্লাহ কবুল করেন না বলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সতর্ক করেছেন। প্রথমজন হলো, যে ব্যক্তি নিজে আগে বেড়ে ইমামতি করে অথচ লোকেরা তাকে অপছন্দ করে। দ্বিতীয়জন হলো, যে দিবার সালাত আদায় করে; ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, দিবার হলো সালাতের সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরে বা শেষ মুহূর্তে সালাতে আসা। তৃতীয়জন হলো, যে কোনো স্বাধীন মানুষকে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে। হাদিসটি ইমামতির আদব, সময়মতো সালাত এবং মানুষের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান শেখায়। এখানে অপছন্দের ইমাম বলতে সরাসরি সেই মানুষ বোঝানো হয়েছে, যাকে লোকেরা অপছন্দ করা সত্ত্বেও সে নিজে সামনে যায়। তাই নেতৃত্বে মানুষের আস্থা ও সালাতের সময়—দুটিই গুরুত্ব পায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- লোকেরা অপছন্দ করলে নিজে থেকে ইমামতির জন্য সামনে যাওয়া উচিত নয়।
- সালাতকে সময়ের শেষ দিকে অভ্যাসে পরিণত করা থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
- স্বাধীন মানুষকে দাসত্বে আবদ্ধ করা বড় অন্যায় হিসেবে এসেছে।
