২/১৩৬. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৮২৪ - স্বরব কিরাআতে ফাতিহার নিয়ম

সালাতে কেউ সূরা ফাতিহা পড়া ছেড়ে দিলে

জেহরি সালাতে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৮২৪

حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنِي زَيْدُ بْنُ وَاقِدٍ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ نَافِعِ بْنِ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ الأَنْصَارِيِّ،قَالَ نَافِعٌ أَبْطَأَ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ عَنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ، فَأَقَامَ أَبُو نُعَيْمٍ الْمُؤَذِّنُ الصَّلاَةَ فَصَلَّى أَبُو نُعَيْمٍ بِالنَّاسِ وَأَقْبَلَ عُبَادَةُ وَأَنَا مَعَهُ، حَتَّى صَفَفْنَا خَلْفَ أَبِي نُعَيْمٍ وَأَبُو نُعَيْمٍ يَجْهَرُ بِالْقِرَاءَةِ فَجَعَلَ عُبَادَةُ يَقْرَأُ بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَلَمَّا انْصَرَفَ قُلْتُ لِعُبَادَةَ سَمِعْتُكَ تَقْرَأُ بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَأَبُو نُعَيْمٍ يَجْهَرُ قَالَ أَجَلْ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بَعْضَ الصَّلَوَاتِ الَّتِي يَجْهَرُ فِيهَا بِالْقِرَاءَةِ قَالَ فَالْتَبَسَتْ عَلَيْهِ الْقِرَاءَةُ فَلَمَّا انْصَرَفَ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ وَقَالَ " هَلْ تَقْرَءُونَ إِذَا جَهَرْتُ بِالْقِرَاءَةِ " . فَقَالَ بَعْضُنَا إِنَّا نَصْنَعُ ذَلِكَ. قَالَ " فَلاَ وَأَنَا أَقُولُ مَا لِي يُنَازَعُنِي الْقُرْآنُ فَلاَ تَقْرَءُوا بِشَىْءٍ مِنَ الْقُرْآنِ إِذَا جَهَرْتُ إِلاَّ بِأُمِّ الْقُرْآنِ " .

নাফী‘ ইবনু মাহমুদ ইবনু রাবী‘ আল-আনসারী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

একবার ‘উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাঃ) ফাজ্‌র সালাতের বিলম্বে উপস্থিত হন। ফলে মুয়াজ্জিন আবূ নু‘আইম (রহঃ) সালাতের তাকবির বলে লোকদের নিয়ে সালাত আরম্ভ করেন। তখন আমি এবং ‘উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাঃ) উপস্থিত হয়ে আবূ নু‘আইমের পিছনে ইকতিদা করি। আবূ নু‘আইম সালাতের স্বরবে ক্বিরাআত পড়ছিলেন। ‘উবাদাহ (রাঃ) (তার পিছনে) সূরা ফাতিহা পড়েন। সালাত শেষে আমি ‘উবাদাহ (রাঃ)-কে বললামঃ আবূ নু‘আইমের স্বরবে ক্বিরাআত পাঠকালে আমি আপনাকেও সূরা ফাতিহা পাঠ করতে শুনলাম? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন এক ওয়াক্তের স্বরব ক্বিরাআতের সালাতের আমাদের ইমামতি করেন। বর্ণনাকারী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ক্বিরাআতের সময় আটকে গেলেন।অতঃপর সালাত শেষে তিনি (ﷺ) আমাদের লক্ষ্য করে বলেনঃ আমার স্বরবে ক্বিরাআত পাঠকালে তোমরাও কি ক্বিরাআত করেছ? জবাবে আমাদের কেউ কেউ বললেন, হ্যাঁ, আমরাও ক্বিরাআত করেছি। তখন তিনি (ﷺ) বলেন, এমনটি করবে না। তিনি (ﷺ) আরও বলেন, ক্বিরাআত পাঠের সময় তাইতো ভাবছিলাম, আমার কোরআন পাঠে কিসে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে? অতএব আমি সালাতের যখন স্বরবে ক্বিরাআত করি, তখন তোমরা কোরআন (সূরা ফাতিহা) ছাড়া অন্য কিছু পড়বে না।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৮২৪-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাঃ)-এর আমল এবং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর একটি শিক্ষা একসাথে এসেছে। উবাদাহ (রাঃ) স্বরব কিরাআতের সালাতে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়েন। পরে তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ঘটনা বলেন। কোনো এক জেহরি সালাতে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কিরাআত আটকে যায়। সালাত শেষে তিনি জিজ্ঞেস করেন, তাঁর স্বরবে কিরাআতের সময় অন্যরা কি কিরাআত করেছে? উত্তরে কেউ কেউ হ্যাঁ বলেন। তখন তিনি বলেন, স্বরবে কিরাআতের সময় কুরআন পাঠে তাঁকে যেন কেউ বাধা না দেয়; তবে উম্মুল কুরআন বা সূরা ফাতিহা ছাড়া। এই হাদিসে সালাতে শৃঙ্খলা, ইমামের কিরাআতের সম্মান এবং সূরা ফাতিহার বিশেষ গুরুত্ব একসাথে পাওয়া যায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • জেহরি সালাতে ইমামের কিরাআত শুনতে মনোযোগ দরকার।
  • সূরা ফাতিহাকে অন্য কিরাআত থেকে আলাদা করা হয়েছে।
  • মুক্তাদির পাঠ যেন ইমামের কিরাআতে বিঘ্ন না ঘটায়।
  • সাহাবিদের আমল থেকে সালাতের নিয়ম শেখা যায়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন