২/১৫১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৮৭৪ - রাতের সালাতে দীর্ঘ রুকু ও সিজদা
রুকু ও সিজদার দোয়া
রাতের সালাতে নবীজির দোয়া: রুকু, সিজদা ও বসার আদব
সুনানে আবূ দাউদ : ৮৭৪
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৮৭৪
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، وَعَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ، مَوْلَى الأَنْصَارِ عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي عَبْسٍ عَنْ حُذَيْفَةَ، أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ فَكَانَ يَقُولُ " اللَّهُ أَكْبَرُ - ثَلاَثًا - ذُو الْمَلَكُوتِ وَالْجَبَرُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ». ثُمَّ اسْتَفْتَحَ فَقَرَأَ الْبَقَرَةَ ثُمَّ رَكَعَ فَكَانَ رُكُوعُهُ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ وَكَانَ يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ «سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ». ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ فَكَانَ قِيَامُهُ نَحْوًا مِنْ رُكُوعِهِ يَقُولُ " لِرَبِّيَ الْحَمْدُ». ثُمَّ سَجَدَ فَكَانَ سُجُودُهُ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ فَكَانَ يَقُولُ فِي سُجُودِهِ «سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى». ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السُّجُودِ وَكَانَ يَقْعُدُ فِيمَا بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ نَحْوًا مِنْ سُجُودِهِ وَكَانَ يَقُولُ " رَبِّ اغْفِرْ لِي رَبِّ اغْفِرْ لِي». فَصَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فَقَرَأَ فِيهِنَّ الْبَقَرَةَ وَآلَ عِمْرَانَ وَالنِّسَاءَ وَالْمَائِدَةَ أَوِ الأَنْعَامَ شَكَّ شُعْبَةُ .
হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা রাতে তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সালাত আদায় করতে দেখলেন। এ সময় তিনি (ﷺ) তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলার পর ‘যুল-মালাকূতি ওয়াল জাবারূতি ওয়াল কিবরিয়াই ওয়াল ‘আযমাতি’ পাঠ করেন। অতঃপর তিনি সূরা বাকারাহ তিলাওয়াত শুরু করেন। এবং তাঁর রুকু ছিলো কিয়ামের সমপরিমাণ সময়। তিনি রুকুতে ‘সুবহানা রব্বিয়াল ‘আযীম, ’সুবহানা রব্বিয়াল ‘আযীম পাঠ করেন। অতঃপর রুকু হতে মাথা উঠিয়ে প্রায় রুকুর সমপরিমাণ সময় দাঁড়িয়ে থাকেন এবং এ সময় “লি-রব্বিয়াল হামদ” পাঠ করেন।অতঃপর তিনি সাজদাহয় গিয়ে তাতে কিয়ামের অনুরূপ সময় অবস্থান করেন এবং হে সময় ‘সুবহানা রব্বিয়াল আ’লা’ পাঠ করেন। অতঃপর সাজদাহ হতে মাথা উঠিয়ে দু’ সাজদাহর মাঝে সাজদাহয় অবস্থানের সমপরিমাণ সময় বসে থাকেন এবং এখানে তিনি ‘রব্বিগফিরলী’ পাঠ করেন। এরূপে তিনি চার রাক‘আত সালাত আদায় করেন এবং এ সালাত সূরা আল-বাকারাহ, সূরা আলে-’ইমরান, সূরা নিসা এবং সূরা মায়িদাহ অথবা সূরা আন’আম তিলাওয়াত করেন।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৮৭৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হুযাইফা (রাঃ) রাতে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে সালাত আদায় করতে দেখার বর্ণনা দেন। নবীজি তিনবার আল্লাহু আকবর বলেন এবং “যুল-মালাকূতি ওয়াল জাবারূতি ওয়াল কিবরিয়াই ওয়াল আযমাতি” পাঠ করেন। তারপর সূরা বাকারা তিলাওয়াত শুরু করেন। তাঁর রুকু ছিল কিয়ামের কাছাকাছি দীর্ঘ, আর রুকুতে তিনি “সুবহানা রব্বিয়াল আযীম” পড়তেন। রুকু থেকে উঠে দাঁড়ানোও দীর্ঘ ছিল এবং তিনি “লি-রব্বিয়াল হামদ” বলতেন। সিজদা ছিল কিয়ামের মতো দীর্ঘ, সেখানে “সুবহানা রব্বিয়াল আ’লা” পড়তেন। দুই সিজদার মাঝে বসেও “রব্বিগফিরলি, রব্বিগফিরলি” বলতেন। এই হাদিস রাতের সালাতে ধীরতা, দোয়া ও দীর্ঘ ইবাদতের ছবি তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাতের সালাতে দীর্ঘ কিয়াম, রুকু ও সিজদার বর্ণনা এসেছে।
- রুকুতে “সুবহানা রব্বিয়াল আযীম” পাঠ করা হয়েছে।
- সিজদায় “সুবহানা রব্বিয়াল আ’লা” পাঠ করা হয়েছে।
- দুই সিজদার মাঝে ক্ষমা চাওয়ার দোয়া পড়া হয়েছে।
