২/১৫৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৮৮৭ - তিলাওয়াতের শেষে ঈমানের জবাব
রুকু ও সিজদায় অবস্থানের পরিমাণ সম্পর্কে
কুরআন তিলাওয়াতের জবাব: সূরা তীন, কিয়ামাহ ও মুরসালাত
সুনানে আবূ দাউদ : ৮৮৭
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৮৮৭
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الزُّهْرِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ أُمَيَّةَ، سَمِعْتُ أَعْرَابِيًّا، يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَنْ قَرَأَ مِنْكُمْ { وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ } فَانْتَهَى إِلَى آخِرِهَا { أَلَيْسَ اللَّهُ بِأَحْكَمِ الْحَاكِمِينَ } فَلْيَقُلْ بَلَى وَأَنَا عَلَى ذَلِكَ مِنَ الشَّاهِدِينَ وَمَنْ قَرَأَ ﴾لاَ أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ﴿ فَانْتَهَى إِلَى ﴾أَلَيْسَ ذَلِكَ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يُحْيِيَ الْمَوْتَى﴿ فَلْيَقُلْ بَلَى وَمَنْ قَرَأَ ﴾وَالْمُرْسَلاَتِ﴿ فَبَلَغَ { فَبِأَىِّ حَدِيثٍ بَعْدَهُ يُؤْمِنُونَ } فَلْيَقُلْ آمَنَّا بِاللَّهِ " .قَالَ إِسْمَاعِيلُ ذَهَبْتُ أُعِيدُ عَلَى الرَّجُلِ الأَعْرَابِيِّ وَأَنْظُرُ لَعَلَّهُ فَقَالَ يَا ابْنَ أَخِي أَتَظُنُّ أَنِّي لَمْ أَحْفَظْهُ لَقَدْ حَجَجْتُ سِتِّينَ حَجَّةً مَا مِنْهَا حَجَّةٌ إِلاَّ وَأَنَا أَعْرِفُ الْبَعِيرَ الَّذِي حَجَجْتُ عَلَيْهِ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ “ওয়াত ত্বীন-ওয়ায যাইতূণ”-এর “আলাইসাল্লাহু বি-আহকামিল হাকিমিন” বলার সময় তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই বলেঃ “বালা ওয়া আনা ‘আলা যালিকা মিনাশ শাহিদীন”। এমনিভাবে কেউ “লা উক্বসিমু বি-ইয়াওমিল ক্বিয়ামাতি”-এর শেষ আয়াত “আলাইসা যালিকা বি-ক্বাদিরীন ‘আলা আই যুহইয়াল মাওতা” পাঠ করার সময় যেন অবশ্যই বলেঃ “বালা।” আর যে ব্যক্তি “সূরা মুরসালাত” তিলাওয়াত করবে এবং তার “ফাবি-আইয়ি হাদীসিন বা’দাহু য়ুউমিনূন” আয়াতটি পাঠ করবে, যে যেন অবশ্যই বলেঃ “আমান্না”।বর্ণনাকারী ইসমাইল বলেন, অতঃপর আমি আরবের ঐ বেদুইন বর্ণনাকারীকে দেখতে যাই তার বর্ণনাটি সঠিক কিনা জানার জন্য। তখন বর্ণনাকারী আমাকে বলেন, হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি মনে করেছো আমি হাদীস ভুলে গিয়েছি? আমি ষাটবার হজ্জ করেছি এবং প্রত্যেক হজ্জে আমি কি ধরনের উটের উপর আরোহণ করেছি, তা এখনও আমার স্মরণ আছে।
[৮৮৭] তিরমিযী (অধ্যায়ঃ তাফসীরুল কুরআন, অনুঃ সূরা ত্বীন হতে, হাঃ ৩৩৪৭, ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান), আহমাদ। এর সানাদে নাম উল্লেখহীন জনৈক বেদুইন ব্যক্তি রয়েছে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৮৮৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নামে তিনটি সূরার নির্দিষ্ট আয়াতের শেষে কী বলা যায় তা বর্ণিত হয়েছে। কেউ সূরা তীন পড়ে ‘আলাইসাল্লাহু বিআহকামিল হাকিমীন’ পর্যন্ত পৌঁছালে বলবে, ‘বলা ওয়া আনা আলা যালিকা মিনাশ শাহিদীন’। কেউ সূরা কিয়ামাহ পড়ে ‘আলাইসা যালিকা বিকাদিরিন আলা আয়্যুহইয়াল মাউতা’ পর্যন্ত পৌঁছালে বলবে, ‘বলা’। আর কেউ সূরা মুরসালাত পড়ে ‘ফাবি-আইয়ি হাদিসিন বাদাহু ইউমিনুন’ পড়লে বলবে, ‘আমান্না বিল্লাহ’। বর্ণনায় ইসমাঈল বর্ণনাকারীর স্মরণশক্তি যাচাই করতে গিয়েছিলেন, আর বেদুইন বর্ণনাকারী নিজের স্মৃতির দৃঢ়তা উল্লেখ করেন। এই হাদিসে তিলাওয়াতের জবাব, ঈমানের ঘোষণা এবং আয়াতের অর্থে সাড়া দেওয়ার শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআনের কিছু আয়াতের শেষে ঈমান ও স্বীকারোক্তির জবাব বর্ণিত হয়েছে।
- তিলাওয়াতের সময় আয়াতের অর্থে মনোযোগ দেওয়া দরকার।
- আল্লাহর বিচার, ক্ষমতা ও বাণীর প্রতি বিশ্বাস প্রকাশ করা যায়।
- বর্ণনাকারীরা হাদিসের স্মৃতি ও বর্ণনা যাচাইয়ে যত্নবান ছিলেন।
