২/১৭১. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৯৩১ - নম্রভাবে সালাত শেখানো

সালাতরত অবস্থায় হাঁচির উত্তর দেয়া

নম্রভাবে সালাত শেখানো: কুরআন ও যিকরের নামাজ

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৯৩১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ النَّسَائِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّلَمِيِّ، قَالَ لَمَّا قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ عُلِّمْتُ أُمُورًا مِنْ أُمُورِ الإِسْلاَمِ فَكَانَ فِيمَا عُلِّمْتُ أَنْ قَالَ لِي «إِذَا عَطَسْتَ فَاحْمَدِ اللَّهَ وَإِذَا عَطَسَ الْعَاطِسُ فَحَمِدَ اللَّهَ فَقُلْ يَرْحَمُكَ اللَّهُ " .قَالَ فَبَيْنَمَا أَنَا قَائِمٌ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي الصَّلاَةِ إِذْ عَطَسَ رَجُلٌ فَحَمِدَ اللَّهَ فَقُلْتُ يَرْحَمُكَ اللَّهُ رَافِعًا بِهَا صَوْتِي فَرَمَانِي النَّاسُ بِأَبْصَارِهِمْ حَتَّى احْتَمَلَنِي ذَلِكَ فَقُلْتُ مَا لَكُمْ تَنْظُرُونَ إِلَىَّ بِأَعْيُنٍ شُزْرٍ قَالَ فَسَبَّحُوا فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الصَّلاَةَ قَالَ «مَنِ الْمُتَكَلِّمُ " . قِيلَ هَذَا الأَعْرَابِيُّ فَدَعَانِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ لِي " إِنَّمَا الصَّلاَةُ لِقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ وَذِكْرِ اللَّهِ جَلَّ وَعَزَّ فَإِذَا كُنْتَ فِيهَا فَلْيَكُنْ ذَلِكَ شَأْنَكَ» . فَمَا رَأَيْتُ مُعَلِّمًا قَطُّ أَرْفَقَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ .

মু‘আবিয়াহ ইবনুল হাকাম আস-সুলামী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর নিকট আসার পর আমাকে ইসলামের কিছু বিষয় শেখানো হলো। আমাকে তখন এটাও শেখানো হয়েছিল যে, তুমি হাঁচি দিলে “আলহামদুলিল্লাহ” বলবে। আর অন্য কাউকে হাঁচি দেয়ার পর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে শুনলে তুমি বলবে “ইয়ারহামুকাল্লাহ” (অর্থঃ আল্লাহ্‌ তোমার প্রতি রহম করুন)।তিনি বলেন, একবার আমি রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সালাত আদায় করছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি হাঁচি দিল এবং “আলহামদুলিল্লাহ” বললো। আমি উচ্চস্বরে বললাম, “ইয়ারহামুকাল্লাহ”। এতে উপস্থিত সকলেই আমার দিকে রাগত দৃষ্টিতে তাকালো। তাতে আমিও রাগান্বিত হলাম। আমি তাদেরকে বললাম, তোমরা আমার দিকে এভাবে চোখ ঘুরিয়ে দেখছো কেন? বর্ণনাকারী বলেন, তখন তারা সুবহানাল্লাহ বললো।সালাত আদায় শেষে নবী (ﷺ) বললেন, (সালাতের মধ্যে) কে কথাবার্তা বলেছে? বলা হলো, এই গ্রাম্য লোকটি। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর নবী (ﷺ) আমাকে ডেকে নিয়ে বললেন, সালাত কোরআন পাঠ ও আল্লাহ্‌র স্মরণ করা হয়। কাজেই সালাতরত অবস্থায় তোমার তা-ই করা উচিত। বর্ণনাকারী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর চাইতে অধিক নম্র ও বিনয়ী শিক্ষক আর কখনো দেখিনি।

[৯৩১]- বায়হাক্বী ‘সুনান’ (২/২৪৯) আবূ দাউদ সূত্রে, বুখারী ‘খাল্কু আফ‘আলুল ‘ইবাদ’ (৬৭) এবং ‘জুযউল ক্বিরাআত খালফাল ইমাম’ (৬৮) সকলে ফুলাইহ হতে।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৯৩১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সালাতের আদব শেখানোর সঙ্গে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কোমল শিক্ষাদানের ধরণ দেখা যায়। মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম (রা.)-কে শেখানো হয়েছিল, নিজে হাঁচি দিলে “আলহামদুলিল্লাহ” বলতে হবে, আর অন্য কেউ হাঁচির পর আলহামদুলিল্লাহ বললে “ইয়ারহামুকাল্লাহ” বলতে হবে। কিন্তু তিনি সালাতের মধ্যে এই জবাব উচ্চস্বরে বলেছিলেন। লোকেরা তাকালে তিনি বিরক্ত হন, পরে তারা সুবহানাল্লাহ বলে তাঁকে সতর্ক করে। সালাত শেষে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে ডাকেন এবং বলেন, সালাত কুরআন পাঠ ও আল্লাহর যিকরের জন্য। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর চেয়ে নম্র শিক্ষক আর দেখেননি। তাই সালাতে কথা না বলা এবং কোমলভাবে শেখানো—দুই শিক্ষাই এখানে স্পষ্ট।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সালাত কুরআন পাঠ ও আল্লাহর যিকরের জন্য।
  • সালাতে হাঁচির জবাব উচ্চস্বরে বলা উচিত নয়।
  • ভুলকারীকে নম্রভাবে শেখানো নবী صلى الله عليه وسلم-এর সুন্দর পদ্ধতি।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন