রোজা বা সাওম ইসলামের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এর মাধ্যমে মুমিন বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাকওয়া অর্জন করতে পারে। রোজা রাখা কেবল সারাদিন না খেয়ে থাকা নয়, বরং এটি একটি আত্মিক ও দৈহিক পরিশুদ্ধির প্রক্রিয়া। সাহরি থেকে শুরু করে ইফতার পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তেই মুমিনের জন্য রয়েছে বিশেষ বরকত এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো চমৎকার কিছু সুন্নাহ ও দোয়া। এই নিয়মের সঠিক অনুসরণ আমাদের ইবাদতকে আরও ফলপ্রসূ ও গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
সাহরি ও রোজার সংকল্প (নিয়ত)
সাহরি খাওয়া রোজার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় অংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহরি খাওয়ার প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "তোমরা সাহরি গ্রহণ করো, কারণ সাহরিতে বরকত রয়েছে।" (সহিহ বুখারি)। শেষ রাতে সাহরির সময় আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও দোয়া করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ, কারণ এ সময় আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করেন।
রোজার জন্য অন্তরের সংকল্প বা নিয়ত করা আবশ্যক। নিয়ত মূলত মনের ইচ্ছা। অর্থাৎ, মনে মনে এই দৃঢ় সংকল্প রাখা যে আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখছি। মুখে নির্দিষ্ট কোনো আরবি বা বাংলা বাক্য উচ্চারণ করে নিয়ত করা বাধ্যতামূলক নয়, বরং অন্তরের আন্তরিক ইচ্ছাই যথেষ্ট।
ইফতারের সময় ও বরকতময় দোয়া
ইফতারের মুহূর্তটি অত্যন্ত আনন্দময় এবং আল্লাহর বিশেষ রহমতে পরিপূর্ণ। ইফতার করার সময় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো বরকতময় দোয়া পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও সুন্নত।
ইফতারের বরকতময় দোয়া
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্যই রোজা রেখেছি এবং তোমার দেওয়া রিজিক দিয়েই ইফতার করছি। (সুনানে আবু দাউদ)
পিপাসা দূর হওয়ার দোয়া
উচ্চারণ: জাহাবাজ জামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।
অর্থ: পিপাসা নিবারিত হয়েছে, শিরা-উপশিরা সিক্ত হয়েছে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় পুরস্কারও নির্ধারিত হয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ)
ইফতারের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ ও আদবসমূহ
ইফতারের সময় কিছু সুন্নাহ ও আদব মেনে চললে রোজার সওয়াব ও আধ্যাত্মিক বরকত বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। নিচে প্রধান কিছু আদব আলোচনা করা হলো:
- দ্রুত ইফতার করা: সূর্যাস্ত নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথেই দেরি না করে দ্রুত ইফতার করা সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "মানুষ যতদিন পর্যন্ত সময় হওয়ামাত্র দ্রুত ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে।" (সহিহ বুখারি)
- খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা: তাজা বা শুকনো খেজুর দিয়ে ইফতার করা অত্যন্ত উত্তম সুন্নত। যদি খেজুর না থাকে, তবে সাধারণ পানি দিয়ে ইফতার শুরু করা উচিত।
- বেশি বেশি দোয়া করা: ইফতারের ঠিক পূর্ব মুহূর্তটি দোয়া কবুল হওয়ার অন্যতম সেরা সময়। এ সময় নিজের ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ, পরিবারের সুখ-শান্তি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য বেশি বেশি ইস্তিগফার ও দোয়া করা উচিত।
- কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা: ইফতারের টেবিলে আল্লাহর দেওয়া অসংখ্য নেয়ামতের কথা স্মরণ করে মনে মনে বিনয়ী হওয়া এবং তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা মুমিনের অনন্য বৈশিষ্ট্য।

