পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণে হাজিরা দেওয়া প্রতিটি মুমিনের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্বপ্ন। হজ ও উমরার দীর্ঘ সফরে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা ও ইবাদতের মাঝে মনকে শান্ত এবং আল্লাহর প্রতি নিমগ্ন রাখতে দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। কখন কোন দোয়া পড়বেন, তার অর্থ ও সঠিক উচ্চারণ আগে থেকেই জেনে নিলে ইবাদত অনেক সহজ এবং প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এই গাইডে আমরা অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হাদিসের সূত্রসহ হজ ও উমরার ৭টি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও সহজ দোয়া আলোচনা করব।
হজ ও উমরার দোয়া শুরু করার আগে কিছু জরুরি কথা
হজ ও উমরা কেবল একটি সফর বা ভ্রমণ নয়; এটি মূলত আল্লাহর সমীপে নিজেকে সম্পূর্ণ সঁপে দেওয়ার এক মহান ইবাদত। তাই কোনো দোয়া মুখস্থ করার আগে নিজের নিয়তকে পরিশুদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। আপনি যখন কাবা তওয়াফ করবেন বা সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাঈ করবেন, তখন বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে অন্তরের বিনয় ও আকুলতা আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় হবে।
যেকোনো ইবাদতের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো পদ্ধতিতে দোয়া করা সর্বোত্তম। যদিও নিজের ভাষায় যেকোনো বৈধ বিষয় আল্লাহর কাছে চাওয়া যায়, তবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী সহিহ দোয়াগুলো পড়লে ইবাদতের সওয়াব ও একাগ্রতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার—হজ বা উমরার প্রতিটি নির্দিষ্ট স্থানের জন্য হুবহু নির্দিষ্ট কোনো দোয়া করা বাধ্যতামূলক নয়। উম্মতের সুবিধার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ দোয়ার স্বাধীনতা দিয়েছেন। তাই আমরা অযথা বিভ্রান্ত না হয়ে সহিহ সুন্নাহ সমর্থিত দোয়াগুলো বেশি বেশি পড়ার চেষ্টা করব।
হজ ও উমরার ৭টি অতি জরুরি দোয়া ও যিকির
১. ইহরামের পর তালবিয়াহ পাঠ
ইহরামের কাপড় পরিধান করে নিয়ত করার পর থেকে হজ ও উমরার মূল সফর শুরু হয়। এই সময় আল্লাহর দরবারে নিজের উপস্থিতি ঘোষণা করার জন্য বেশি বেশি তালবিয়াহ পাঠ করতে হয়।
উচ্চারণ: লাব্বায়কা আল্লাহুম্মা লাব্বায়কা, লাব্বায়কা লা শারীকা লাকা লাব্বায়কা, ইন্নাল-হামদা ওয়ান-নি’মাতা লাকা ওয়াল-মুলকা, লা শারীকা লাকা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার দরবারে হাজির। আমি হাজির, আপনার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা, নেয়ামত এবং রাজত্ব একমাত্র আপনারই। আপনার কোনো শরিক নেই।
রেফারেন্স: সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৫৪৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৮৪
কখন ও কীভাবে পড়বেন: ইহরামের নিয়ত করার পর থেকেই এই দোয়া পড়ার নিয়ম। পুরুষরা স্বাভাবিক আওয়াজে একটু জোরে তালবিয়াহ পড়বেন এবং নারীরা নিচু স্বরে পড়বেন, যেন নিজেরা শুনতে পান।
২. রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মাঝের দোয়া
কাবা শরিফ তওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করার সময় নির্দিষ্ট কোনো দোয়া পড়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে রুকনে ইয়ামানি (কাবার দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ) থেকে হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) পর্যন্ত হেঁটে যাওয়ার সময় এই অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ দোয়াটি পড়া সুন্নাত।
উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ-দুনিয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল-আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া কিনা আজাবান-নার।
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ইহকালে কল্যাণ দান করুন, পরকালেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের দোজখের আজাব থেকে রক্ষা করুন।
রেফারেন্স: সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১৮৯২; আল-কুরআন, সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২০১
তাৎপর্য: এই দোয়ায় ব্যবহৃত "হাসানাহ" শব্দের অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক। এর মধ্যে উত্তম রিজিক, সুস্বাস্থ্য, নেক আমল, ঈমান এবং আখিরাতে জান্নাত লাভ—সবকিছুই শামিল রয়েছে। তাই এই দোয়াটি গভীর একাগ্রতার সাথে পাঠ করা উচিত।
৩. সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে সুন্নাত যিকির
সাঈ করার সময় সাফা এবং মারওয়া পাহাড়ের ওপরে উঠে কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও তাওহিদের এই বাণীটি ঘোষণা করা সুন্নাত। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাফা পাহাড় থেকে সাঈ শুরু করার সময় এই দোয়াটি পাঠ করেছিলেন।
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু, আনজাযা ওয়াদাহু, ওয়া নাসারা আবদাহু, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু।
অর্থ: একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই। তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব একমাত্র তাঁরই এবং সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই। তিনি সব কিছুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই। তিনি তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই সমস্ত কাফের বাহিনীকে পরাস্ত করেছেন।
রেফারেন্স: সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২১৮
কীভাবে পড়বেন: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের উঁচুতে দাঁড়িয়ে কিবলামুখী হয়ে দুই হাত তুলে এই যিকিরটি পাঠ করবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) এটি তিনবার করে পাঠ করতেন এবং মাঝখানে নিজের জন্য হাত তুলে দোয়া করতেন।
৪. আরাফাতের ময়দানের সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া
হজের মূল রুকন বা প্রাণ হলো ৯ই জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা। এই দিনটিকে দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ দিন বলা হয়। এদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে এবং পূর্ববর্তী নবীগণ যে দোয়াটি সবচেয়ে বেশি পাঠ করতেন, তা হলো তাওহিদের এই মহান বাণী।
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।
অর্থ: একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই। তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব একমাত্র তাঁরই এবং সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই। তিনি সব কিছুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
রেফারেন্স: জামি আত-তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৮৫
ফজিলত ও আমল: আরাফাহর দিনে এই তাসবিহটি বারংবার পাঠ করার পর চোখের পানি ফেলে নিজের সব গুনাহ খাতার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য কান্নাকাটি করতে হবে।
৫. ক্ষমা ও তাওবা কবুলের দোয়া (মুযদালিফা ও মিনায় বেশি পঠিত)
হজ ও উমরার দীর্ঘ সফরে শারীরিক ক্লান্তির মাঝেও আত্মিক প্রশান্তি বজায় রাখতে এবং নিজের গুনাহসমূহ মোচন করতে ইস্তিগফার পড়া অত্যন্ত জরুরি। এই দোয়াটি রাসুলুল্লাহ (সা.) মজলিশে ও সাধারণ অবস্থায় প্রচুর পরিমাণে পাঠ করতেন।
উচ্চারণ: রাব্বিগফিরলী ওয়া তুব আলাইয়্যা, ইন্নাকা আন্তাত-তাওয়্যাবুর-রাহীম।
অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি পরম তাওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু।
রেফারেন্স: সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১৫১৬; জামি আত-তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৩৪
কখন পড়বেন: তওয়াফ, সাঈ, আরাফাতের ময়দান কিংবা মিনায় অবস্থানকালে ক্লান্তি বা অবসরের মুহূর্তে বেশি বেশি এই দোয়াটি পড়া অত্যন্ত ফলদায়ক।
৬. সফর ও যেকোনো কঠিন পরিস্থিতির দোয়া
হজ ও উমরার সফরে ভিড়, তীব্র গরম, যানজট কিংবা ভাষা সমস্যার কারণে অনেক সময় কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। ধৈর্য ধারণের পাশাপাশি যেকোনো কাজকে সহজ করার জন্য এই সুন্নাত দোয়াটি নিয়মিত পাঠ করা উচিত।
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জাআলতাহু সাহলা, ওয়া আন্তা তাজআলুল হাযনা ইযা শি’তা সাহলা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি যা সহজ করে দিয়েছেন তা ছাড়া কোনো কিছুই সহজ নয়। আর আপনি চাইলে যেকোনো কঠিন বিষয়কেও সহজ করে দিতে পারেন।
রেফারেন্স: হিসনুল মুসলিম; সহিহ ইবনে হিব্বান
ব্যবহারিক পরামর্শ: বিপদের সময়ে দোয়ার পাশাপাশি বাস্তব প্রস্তুতি রাখুন। গ্রুপের মুয়াল্লিম বা গাইডের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করুন, মোবাইল সচল রাখুন এবং শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করুন।
৭. হজ ও উমরা শেষে নিজ দেশে ফেরার সময়ের দোয়া
সফলভাবে হজ বা উমরা সমাপ্ত করে যখন আপনি স্বদেশে বা পরিবারের কাছে ফিরে আসবেন, তখন এই শুকরিয়া ও ইবাদত কবুলের দোয়াটি পাঠ করা সুন্নাত।
উচ্চারণ: আইবূনা, তায়িবূনা, আবিদূনা, লি-রাব্বিনা হামিদূন।
অর্থ: আমরা ফিরে আসছি তাওবাকারী, ইবাদতকারী এবং আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসাকারী হিসেবে।
রেফারেন্স: সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৭৯৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৪২
জীবনের বড় শিক্ষা: উমরা বা হজ থেকে ফিরে আসার পর নিজের চরিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং নিয়মিত জামায়াতে নামাজ আদায় করা ও হালাল উপার্জনে অনড় থাকা অত্যন্ত জরুরি। এটিই হজ বা উমরা কবুল হওয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষণ।
হজ ও উমরার দোয়া মুখস্থ করার সহজ রুটিন
একসাথে এই দোয়াগুলো মুখস্থ করা কঠিন মনে হলে আপনি একটি সহজ দৈনিক রুটিন তৈরি করতে পারেন। মক্কা-মদিনার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার অন্তত ১ মাস আগে থেকেই প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট সময় নিয়ে একটি করে দোয়া মুখস্থ করুন। প্রথমে তালবিয়াহ, তারপর রুকনে ইয়ামানির দোয়া এবং পরে অন্যান্য যিকিরগুলো আয়ত্তে আনুন।
প্রথমে আরবি টেক্সটটি দেখুন, এরপর বাংলা উচ্চারণের সাথে মিলিয়ে নিয়ে বিশুদ্ধভাবে উচ্চারণ করুন। সবশেষে এর গভীর অর্থটি হৃদয়ঙ্গম করার চেষ্টা করুন। অর্থ বুঝে দোয়া করলে অন্তরে এক গভীর আবেদন সৃষ্টি হয়। সহজে মুখস্থ করার জন্য ইন্টারনেটে বিভিন্ন আলেমদের অডিও রেকর্ডিং শুনে শুনে অনুশীলন করতে পারেন।
হজ ও উমরার দোয়ায় সাধারণ কিছু ভুল যা এড়িয়ে চলা উচিত
১. নির্দিষ্ট দোয়াকে ফরজ মনে করা: কাবার প্রতিটি চক্করের জন্য আলাদা নির্দিষ্ট বইয়ের দোয়া মুখস্থ বা দেখে পড়া বাধ্যতামূলক মনে করা ভুল। সহিহ সুন্নাহে এমন কোনো নিয়ম নেই। আপনারা যেকোনো ভাষায় দোয়া করতে পারেন।
২. মনোযোগহীনভাবে দোয়া করা: মুখে গড়গড় করে দোয়া পড়ে যাওয়া কিন্তু মন অন্যদিকে রাখা উচিত নয়। দোয়া হলো আল্লাহর সাথে সরাসরি কথোপকথন, তাই অন্তরের আকুতি থাকা বাঞ্ছনীয়।
৩. অন্যকে কষ্ট দিয়ে চিৎকার করা: তাওয়াফ বা সাঈ করার সময় দলবদ্ধভাবে জোরে জোরে চিৎকার করে দোয়া পাঠ করার ফলে আশেপাশের অন্যান্য হাজিদের ইবাদতে বিঘ্ন ঘটে। শান্ত স্বরে নিজে নিজে দোয়া করা উত্তম ও সুন্নাত সম্মত।
প্রশ্নোত্তর: হজ ও উমরার দোয়া সংক্রান্ত কিছু জিজ্ঞাসা
হজ ও উমরার দোয়া কি কেবল আরবিতেই করতে হবে?
উমরার পুরো সফরে কোন দোয়াটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়?
হজ বা উমরার দোয়া মুখস্থ না থাকলে কি ইবাদত হবে না?
তাওয়াফের সময় কি মোবাইল দেখে দোয়া পড়া জায়েয?
আরাফাতের ময়দানে কোন দোয়া করা সবচেয়ে ভালো?
শেষ কথা: অন্তরের আকুতিই আসল দোয়া
হজ ও উমরার দোয়া কেবল কিছু শব্দ বা বাক্যের সমষ্টি নয়, এগুলো হলো রব্বুল আলামিনের দরবারে একজন অতি সাধারণ বান্দার আকুল আবেদন। সহিহ উচ্চারণ ও অর্থ উপলব্ধি করে যখন আপনি এই দোয়াগুলো পড়বেন, তখন আপনার ইবাদত প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে। মহান আল্লাহ আমাদের সকলের হজ ও উমরা কবুল করুন এবং তাঁর দরবারে আমাদের তাওবা মঞ্জুর করুন। আমিন।
রেফারেন্সসমূহ
- সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ১৫৪৯, ১৭৯৭
- সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ১১৮৪, ১২১৮, ১৩৪২
- সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং: ১৫১৬, ১৮৯২
- জামি আত-তিরমিজি, হাদিস নং: ৩৪৩৪, ৩৫৮৫
- আল-কুরআন, সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২০১
- হিসনুল মুসলিম (সফর ও বিপদ-আপদের দোয়াসমূহ)

