জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত ও আমল

আব্দুর রহমান
আব্দুর রহমান
১০ জুন, ২০২৬·০

ইসলামি বর্ষপঞ্জির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ একটি মাস হলো জিলহজ। বিশেষ করে জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন মহান আল্লাহর কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও বরকতময় সময়। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলা এই দিনগুলোর শপথ করেছেন, যা এর অপরিসীম গুরুত্বকে প্রমাণ করে। এই দিনগুলোতে সম্পাদিত যে কোনো নেক আমল বছরের অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে আল্লাহর কাছে অনেক বেশি প্রিয় এবং সওয়াবপূর্ণ।

জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের বিশেষ গুরুত্ব

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দিনগুলোর গুরুত্ব বর্ণনা করে বলেছেন যে, জিলহজের প্রথম দশ দিনের মতো অন্য কোনো দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে এত বেশি প্রিয় নয়। তাই এই পবিত্র সময়ে অলসতা না করে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এটি আমাদের আধ্যাত্মিক উন্নতির পাশাপাশি গুনাহ মাফের এক মহা সুযোগ এনে দেয়।

এই দিনগুলোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহ

জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনে বেশি বেশি ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায়। নিচে অত্যন্ত বরকতময় কয়েকটি আমল তুলে ধরা হলো:

  • ১. বেশি বেশি যিকির ও তাসবিহ পাঠ করা: এই দিনগুলোতে বেশি বেশি আল্লাহ তাআলার স্মরণ বা যিকির করা উচিত। বিশেষ করে ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ এবং ‘আল্লাহু আকবার’ নিয়মিত পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
  • ২. নফল রোজা রাখা: প্রথম নয় দিন রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ, বিশেষ করে জিলহজ মাসের ৯ তারিখ অর্থাৎ আরাফার দিনের রোজা রাখার গুরুত্ব অনেক বেশি।
  • ৩. কুরআন তিলাওয়াত বৃদ্ধি করা: প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততার মাঝেও পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের জন্য নির্দিষ্ট সময় বের করা উচিত। এটি অন্তরে মানসিক প্রশান্তি বয়ে আনে।
  • ৪. দান-সদকা করা: আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এই দিনগুলোতে সামর্থ্য অনুযায়ী অভাবী ও অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে দান-সদকা করা উচিত।
  • ৫. তাওবা ও ইস্তিগফার করা: অতীতের সব ছোট-বড় গুনাহের জন্য আল্লাহর দরবারে লজ্জিত হয়ে খাঁটি মনে তাওবা করা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা এই দিনগুলোর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত।

আরাফার দিনের ফজিলত ও বিশেষ দোয়া

যারা হজে যেতে পারেননি, তাদের জন্যও আরাফার দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনে আরাফার ময়দানে হাজিদের ইবাদতের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে অন্যান্য মুসলমানরাও রোজা ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত লাভ করতে পারেন। আরাফার দিনের একটি সর্বোত্তম ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হলো:

لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد، وهو على كل شيء قدير

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব একমাত্র তাঁরই এবং সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই, আর তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া। আর আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণ যে সমস্ত কথা বা দোয়া পাঠ করেছি, তার মধ্যে এই দোয়াটিই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ।

আধ্যাত্মিক ও ব্যবহারিক জীবনে এর প্রভাব

আধুনিক জীবনের কর্মব্যস্ততা ও পারিবারিক দায়িত্ব পালনের মাঝে অনেকেই ইবাদত করার পর্যাপ্ত সময় পান না। কিন্তু জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের বরকত থেকে বঞ্চিত হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। প্রতিদিন ছোট ছোট নেক আমল হলেও তা নিয়মিত ও আন্তরিকতার সাথে করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এই সময়টি মূলত আমাদের অলসতা কাটিয়ে নতুন করে আল্লাহর পথে চলার এবং আত্মশুদ্ধি অর্জনের একটি দারুণ সুযোগ।

জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের বিশেষ আমলগুলো কী কী?
এই দিনগুলোর প্রধান আমলগুলোর মধ্যে রয়েছে বেশি বেশি সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার পাঠ করা, রোজা রাখা (বিশেষ করে আরাফার দিন), কুরআন তিলাওয়াত করা, দান-সদকা করা এবং অতীতের সব গুনাহের জন্য আল্লাহর দরবারে তওবা ও ইস্তিগফার করা।
আরাফার দিনের রোজার ফজিলত কেমন?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আরাফার দিনের রোজা রাখার মাধ্যমে আশা করা যায় যে, আল্লাহ তাআলা বান্দার পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের সমস্ত ছোট গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।
যারা হজে যাননি তারা কি এই ১০ দিন থেকে উপকৃত হতে পারেন?
অবশ্যই। যারা হজে যেতে পারেননি, তারাও ঘরে বসে নফল রোজা, জিকির-আজকার, দান-সদকা, বিশেষ করে আরাফার দিনে রোজা রাখা এবং বেশি বেশি ইস্তিগফারের মাধ্যমে সমানভাবে এই বরকতময় দিনগুলো কাজে লাগাতে পারেন।
আব্দুর রহমান

আব্দুর রহমান

এসইও স্পেশালিস্ট ও কনটেন্ট রাইটার

আব্দুর রহমান একজন এসইও স্পেশালিস্ট এবং ইসলামিক কনটেন্ট রাইটার। তিনি ফিকহ, দৈনন্দিন ইবাদত, নামাজ, পারিবারিক দিকনির্দেশনা এবং বাস্তব মুসলিম জীবনধারা নিয়ে সহজ প্রবন্ধ লেখেন, যাতে পাঠকরা প্রতিদিনের জীবনে ইসলাম অনুসরণ করতে পারেন।

আপডেট থাকুন

আমাদের সর্বশেষ আপডেট ও রিলিজ মিস করবেন না