তাহিয়্যাতুল মসজিদ দোয়া কি নির্দিষ্ট?
ইসলামের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সুন্দর আমল হলো মসজিদে প্রবেশ করার পর তাহিয়্যাতুল মাসজিদ বা তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামাজ আদায় করা। তবে অনেকের মনেই এই প্রশ্ন জাগে যে, তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায়ের জন্য কি নির্দিষ্ট কোনো দোয়া বা নিয়ত রয়েছে? মূল কথা হলো, এটি কোনো নির্দিষ্ট \"একটি দোয়া\" বা শব্দমালা নয়, বরং এটি একটি সুন্নাত নামাজ যা দুই রাকাত আদায় করতে হয়।
মসজিদে প্রবেশ করার পর বসার আগেই আল্লাহর ঘরের সম্মানার্থে এই দুই রাকাত নামাজ পড়তে হয়। তাই এই নামাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সূরা বা দোয়া মুখে উচ্চারণ করা বাধ্যতামূলক নয়। সাধারণ নফল বা সুন্নাত নামাজের মতোই এটি আদায় করা যায়।
তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামাজের গুরুত্ব ও ইসলামিক বিধান
রাসূলুল্লাহ ﷺ উম্মতকে মসজিদে প্রবেশের পর বসার আগে এই সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। একে আল্লাহর ঘরের অভিবাদন বা সম্মান প্রদর্শনমূলক নামাজ বলা হয়। এ প্রসঙ্গে সহিহ হাদিসে অত্যন্ত সুস্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে। আবু কাতাদা আল-আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
অনুবাদ: \"তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করবে, সে যেন বসার পূর্বে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে নেয়।\" (সহিহ বুখারি: ১১৬৭, সহিহ মুসলিম: ৭১৪)
এই আমলটি মূলত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বা অত্যন্ত গুরুত্ববহ একটি সুন্নাত আমল। এর মাধ্যমে একজন মুমিন ব্যক্তি আল্লাহর ঘরের মর্যাদা রক্ষা করে এবং নামাজের মাধ্যমে নিজের আমলনামায় প্রভূত সওয়াব যুক্ত করে নেয়।
তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামাজে কোন সূরা পড়তে হয়?
এই নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে সূরা বা দোয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আপনি সাধারণ নামাজের মতোই প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে আপনার মুখস্থ থাকা যেকোনো একটি সূরা মিলাবেন এবং দ্বিতীয় রাকাতে একইভাবে অন্য আরেকটি সূরা মিলাবেন। বিশেষ কোনো দোয়া বা সূরা পড়া জরুরি মনে করা এক ধরনের মনগড়া ধারণা বা বিদআত, যা থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে।
তাহিয়্যাতুল মাসজিদ নামাজের নিয়ম ও কিছু প্রয়োজনীয় আদব
মসজিদের মর্যাদা রক্ষা করতে এবং এই নামাজের পূর্ণ সওয়াব পেতে কিছু নিয়ম ও আদব মেনে চলা উচিত। নিচে তা তুলে ধরা হলো:
- বসার পূর্বে আদায় করা: মসজিদে প্রবেশ করার পর বসার আগেই এই দুই রাকাত নামাজ শুরু করা উচিত। যদি কেউ ভুলবশত বা অসচেতনতাবশত দীর্ঘ সময় বসে পড়েন, তবে আর এই নামাজ আদায় করতে হয় না।
- ফরজ নামাজের জামাত শুরু হলে: মসজিদে প্রবেশের পর যদি দেখা যায় ফরজ নামাজের জামাত বা একামত শুরু হয়ে গেছে, তবে তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়ার প্রয়োজন নেই। সরাসরি জামাতে শরিক হতে হবে। কারণ, ফরজের সামনে অন্য কোনো নফল বা সুন্নাত নামাজের অনুমতি নেই।
- অন্য সুন্নাত ও ফরজের সাথে অন্তর্ভুক্তি: যদি আপনি মসজিদে প্রবেশ করে যোহর বা ফজরের সুন্নাত নামাজ আদায় করেন, কিংবা সরাসরি ফরজ নামাজে শরিক হন, তবে আলাদাভাবে আর তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়ার দরকার হয় না। সুন্নাত বা ফরজের মাধ্যমেই তাহিয়্যাতুল মসজিদের হক আদায় হয়ে যায় ইন শা আল্লাহ।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
তাহিয়্যাতুল মসজিদ দোয়া কি নির্দিষ্ট?
তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামাজ না পড়লে কি গুনাহ হবে?
এই নামাজে কোন কোন সূরা পড়া উত্তম?
মসজিদে ঢুকেই যদি আমি বসে পড়ি, তবে কি পরে তা পড়া যাবে?
ফরজ নামাজ পড়লে কি এই নামাজের সওয়াব পাওয়া যাবে?
উপসংহার
তাহিয়্যাতুল মসজিদ কোনো নির্দিষ্ট দোয়া নয়, বরং এটি অত্যন্ত বরকতময় একটি সালাত। দৈনন্দিন জীবনে মসজিদে যাতায়াতের সময় অলসতা পরিহার করে এই সুন্নাতটি পালনের চেষ্টা করা উচিত। এটি যেমন আমাদের আমলনামাকে সমৃদ্ধ করবে, তেমনি আল্লাহর ঘরের প্রতি আমাদের অন্তরের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ বাড়িয়ে দেবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
তথ্যসূত্র
- সহিহ বুখারি
- সহিহ মুসলিম
- ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ

