১৬/১২. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ১০৫৬ - গ্রহণের সালাত ও কবরের আযাব

মসজিদে সূর্যগ্রহণের সালাত।

গ্রহণের দীর্ঘ সালাত: শেষে কবরের আযাব থেকে আশ্রয়

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১০৫৬

ثُمَّ رَكِبَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ذَاتَ غَدَاةٍ مَرْكَبًا، فَكَسَفَتِ الشَّمْسُ فَرَجَعَ ضُحًى، فَمَرَّ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بَيْنَ ظَهْرَانَىِ الْحُجَرِ، ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى، وَقَامَ النَّاسُ وَرَاءَهُ، فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلاً، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً، ثُمَّ رَفَعَ فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلاً، وَهْوَ دُونَ الْقِيَامِ الأَوَّلِ، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً، وَهْوَ دُونَ الرُّكُوعِ الأَوَّلِ، ثُمَّ رَفَعَ فَسَجَدَ سُجُودًا طَوِيلاً ثُمَّ قَامَ فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلاً، وَهْوَ دُونَ الْقِيَامِ الأَوَّلِ، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً، وَهْوَ دُونَ الرُّكُوعِ الأَوَّلِ، ثُمَّ قَامَ قِيَامًا طَوِيلاً، وَهْوَ دُونَ الْقِيَامِ الأَوَّلِ، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً، وَهْوَ دُونَ الرُّكُوعِ الأَوَّلِ، ثُمَّ سَجَدَ وَهْوَ دُونَ السُّجُودِ الأَوَّلِ، ثُمَّ انْصَرَفَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقُولَ، ثُمَّ أَمَرَهُمْ أَنْ يَتَعَوَّذُوا مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

পরে একদা সকালে আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওয়ারীতে আরোহণ করেন। তখন সূর্যগ্রহণ আরম্ভ হয়। তিনি ফিরে এলেন, তখন ছিল সূর্যোদয় ও দুপুরের মাঝামাঝি সময়। আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর হুজরাগুলোর মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করলেন।অতঃপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন এবং লোকেরাও তাঁর পিছনে দাঁড়াল। তিনি দীর্ঘ কিয়াম করলেন। অতঃপর দীর্ঘ রুকূ’ করলেন। অতঃপর মাথা তুলে আবার দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে এ কিয়াম প্রথম রুকূ’র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি আবার দীর্ঘ রুকূ’ করেন। তবে এ রুকূ’ প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুললেন এবং দীর্ঘ সিজদা করলেন।অতঃপর তিনি আবার দাঁড়িয়ে কিয়াম করেন অবশ্য তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি দীর্ঘ রুকূ’ করলেন, তা প্রথম রুকূ’র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি আবার দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর দীর্ঘ রুকূ’ করেন। অবশ্য এ রুকূ’ প্রথম রুকূ’র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সিজদা করেন। এ সিজদা প্রথম সিজদার চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সালাত শেষ করেন। এরপরে আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ্‌র যা ইচ্ছা তাই বললেন। শেষে তিনি সবাইকে কবরের ‘আযাব হতে আশ্রয় প্রার্থনার আদেশ করলেন।

সহীহ বুখারী হাদিস ১০৫৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সূর্যগ্রহণের সময় নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সালাতের দীর্ঘ বর্ণনা এসেছে। তিনি ফিরে এসে সালাতে দাঁড়ালেন, লোকেরাও তাঁর পিছনে দাঁড়াল। তিনি দীর্ঘ কিয়াম করলেন, দীর্ঘ রুকু করলেন, তারপর আবার দাঁড়ালেন এবং আগের চেয়ে কম দীর্ঘ কিয়াম করলেন। এরপর আবার রুকু, সিজদা, তারপর দ্বিতীয় অংশেও দীর্ঘ কিয়াম ও রুকুর কথা এসেছে। শেষে তিনি সালাত শেষ করেন এবং আল্লাহ যা ইচ্ছা তাঁকে বলতে দেন। তারপর তিনি সবাইকে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাওয়ার আদেশ করেন। তাই এই হাদিসে গ্রহণের সালাতের সঙ্গে কবরের আযাবের স্মরণ জুড়ে গেছে। সূর্যগ্রহণের নামাজ মানুষকে শুধু একটি নিয়ম শেখায় না; বরং আল্লাহর সামনে বিনয়ী হয়ে দাঁড়াতে এবং আখিরাতের জন্য দোয়া করতে শেখায়। এ হাদিসের মূল বিষয় হলো গ্রহণ ও কবর, যা সরাসরি বর্ণনার কথার সঙ্গে যুক্ত।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সূর্যগ্রহণের সময় দীর্ঘ সালাত আদায়ের বর্ণনা এসেছে।
  • গ্রহণের সালাতের পর কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাইতে বলা হয়েছে।
  • আল্লাহর নিদর্শন মানুষকে দোয়া ও আখিরাতের স্মরণে ফেরায়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন