৩/৪৯. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ১২৮ - আন্তরিক শাহাদাতের মর্যাদা

বুঝতে না পারার আশঙ্কায় ইলম শিক্ষায় কোন এক গোত্র ছেড়ে আর এক গোত্র বেছে নেয়া।

وَقَالَ عَلِيٌّ حَدِّثُوا النَّاسَ بِمَا يَعْرِفُونَ أَتُحِبُّونَ أَنْ يُكَذَّبَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ‘আলী (রাঃ) বলেন, ‘মানুষের নিকট সেই ধরনের কথা বল, যা তারা বুঝতে পারে। তোমরা কি পছন্দ কর যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি মিথ্যা আরোপ করা হোক?

আন্তরিক শাহাদাতের ফজিলত: তাওহীদ ও আমলের ভারসাম্য

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১২৮

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ وَمُعَاذٌ رَدِيفُهُ عَلَى الرَّحْلِ قَالَ " يَا مُعَاذُ بْنَ جَبَلٍ ". قَالَ لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْدَيْكَ. قَالَ " يَا مُعَاذُ ". قَالَ لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْدَيْكَ. ثَلاَثًا. قَالَ " مَا مِنْ أَحَدٍ يَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ صِدْقًا مِنْ قَلْبِهِ إِلاَّ حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ ". قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَفَلاَ أُخْبِرُ بِهِ النَّاسَ فَيَسْتَبْشِرُوا قَالَ " إِذًا يَتَّكِلُوا ". وَأَخْبَرَ بِهَا مُعَاذٌ عِنْدَ مَوْتِهِ تَأَثُّمًا

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদা মু‘আয (রাঃ) নবী (ﷺ)-এর পিছনে সওয়ারীতে ছিলেন, তখন তিনি তাঁকে ডাকলেন, হে মু‘আয ইব্‌নু জাবাল! মু‘আয (রাঃ) বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল আমি আপনার সার্বিক সহযোগিতা ও খেদমতে হাজির আছি। তিনি ডাকলেন, মু‘আয! মু‘আয (রাঃ) উত্তর দিলেন, আমি হাজির হে আল্লাহর রাসূল ও প্রস্তুত। তিনি আবার ডাকলেন, মু‘আয। তিনি উত্তর দিলেন, ‘আমি হাজির এবং প্রস্তুত’। এরূপ তিনবার করলেন।অতঃপর বললেনঃ যে কোন বান্দা আন্তরিকতার সাথে এ সাক্ষ্য দেবে যে, ‘আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল’-তার জন্য আল্লাহ তা’আলা জাহান্নাম হারাম করে দিবেন। মু‘আয (রাঃ) বললেন, ‘হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি কি মানুষকে এ খবর দেব না, যাতে তারা সুসংবাদ পেতে পারে?’ তিনি বললেন, ‘তাহলে তারা এর উপরই ভরসা করবে।’ মু‘আয (রাঃ) (জীবন ভর এ হাদীসটি বর্ণনা করেননি) মৃত্যুর সময় এ হাদীসটি বর্ণনা করে গেছেন যাতে (ইলম গোপন রাখার) গুনাহ না হয়।

সহীহ বুখারী হাদিস ১২৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ)-কে বিশেষভাবে ডাকলেন এবং একটি বড় সুসংবাদ জানালেন। যে বান্দা অন্তর থেকে সত্যভাবে সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেবেন। মু’আয (রাঃ) মানুষকে সুসংবাদ দিতে চাইলেন, কিন্তু নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, তাহলে তারা এর উপরই ভরসা করবে। এখানে তাওহীদের মর্যাদা যেমন আছে, তেমনি দায়িত্বশীল শিক্ষা দেওয়ার আদবও আছে। হাদিসটি আমল ছেড়ে দেওয়ার অনুমতি দেয় না; বরং দেখায়, মানুষের দুর্বলতা বিবেচনা করে কখনো কিছু জ্ঞান বিশেষভাবে বলা হয়। তাই আন্তরিক ঈমান, সঠিক শাহাদাত, এবং আমলে অবহেলা না করা—এই হাদিসের ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • শাহাদাত শুধু মুখের কথা নয়, অন্তরের সত্যতা দরকার।
  • তাওহীদের মর্যাদা অত্যন্ত বড়।
  • মানুষ ভুলভাবে ভরসা করে বসতে পারে—এ জন্য শিক্ষায় হিকমাহ দরকার।
  • সুসংবাদ শুনেও আমলে অবহেলা করা ঠিক নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন