২৩/৯৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৩৯০ - কবরকে সিজদার স্থান বানানো থেকে সতর্কতা
নবী (ﷺ), আবু বকর ও উমর (রাঃ)-এর কবর সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে।
قَوْلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَأَقْبَرَهُ أَقْبَرْتُ الرَّجُلَ أَقْبَرَهُ إِذَا جَعَلْتَ لَهُ قَبْرًا وَقَبَرْتُهُ دَفَنْتُهُ كِفَاتًا يَكُونُونَ فِيهَا أَحْيَاءً وَيُدْفَنُونَ فِيهَا أَمْوَاتًا(আল্লাহর বাণী) فَأَقْبَرَهُ “তাকে কবরস্থ করলেন” (আবাসা: ২১)। أَقْبَرْتُ الرَّجُلَ অর্থাৎ যখন তুমি কারোর জন্য কবর তৈরি করবে। قَبَرْتُهُ অর্থাৎ دَفَنْتُهُ কবরস্থ করা كِفَاتًا অর্থাৎ জীবিতাবস্থায় ভূপৃষ্ঠে কবরে ও মৃত্যুর পর এর মধ্যে সমাহিত হবে।"
কবরকে মসজিদ বানানো থেকে সতর্কতা: তাওহিদের সুরক্ষা
সহীহ বুখারী : ১৩৯০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৩৯০
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ هِلاَلٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي مَرَضِهِ الَّذِي لَمْ يَقُمْ مِنْهُ «لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى، اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ». لَوْلاَ ذَلِكَ أُبْرِزَ قَبْرُهُ، غَيْرَ أَنَّهُ خَشِيَ أَوْ خُشِيَ أَنَّ يُتَّخَذَ مَسْجِدًا. وَعَنْ هِلاَلٍ قَالَ كَنَّانِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ وَلَمْ يُولَدْ لِي.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অন্তিম রোগশয্যায় বলেন, ইয়াহুদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত বর্ষিত হোক। কারণ, তারা তাদের নবী গণের কবরকে সিজদার স্থানে পরিণত করেছে। (রাবী উরওয়া বলেন) এরূপ আশঙ্কা না থাকলে রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবরকে (ঘরের বেষ্টনীতে সংরক্ষিত না রেখে) খোলা রাখা হতো। কিন্তু তিনি (নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)) আশংকা করেন বা আশংকা করা হয় যে, পরবর্তীতে একে মসজিদে পরিণত করা হবে। রাবী হিলাল (রহঃ) বলেন, উরওয়া আমাকে (আবূ আমর) কুনিয়াতে ভূষিত করেন আর তখন পর্যন্ত আমি কোন সন্তানের পিতা হইনি।------------------ সুফিয়ান তাম্মার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবর উটের কুজের ন্যায় (উঁচু) দেখেছেন।------------------ উরওয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ওয়ালীদ ইবনু আবদুল মালিক-এর শাসনামলে যখন (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রাওযার) বেষ্টনী দেয়াল ধসে পড়ে, তখন তাঁরা সংষ্কার করতে আরম্ভ করলে একটি পা প্রকাশ পায়, তা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কদম মুবারক বলে ধারণা করার কারণে লোকেরা খুব ঘাবড়ে যায়। সনাক্ত করার মত কাউকে তারা পায়নি। অবশেষে উরওয়া (রাঃ) তাদের বললেন, আল্লাহর কসম এ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পা নয় বরং এতো ‘উমর (রাঃ)-এর পা।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৩৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো কবরকে সিজদার স্থান না বানানো। রাসূল صلى الله عليه وسلم তাঁর শেষ অসুস্থতায় বলেন, ইয়াহুদি ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত, কারণ তারা তাদের নবীদের কবরকে সিজদার স্থানে পরিণত করেছে। বর্ণনায় আরও এসেছে, এই আশঙ্কা না থাকলে তাঁর কবর খোলা রাখা হতো; কিন্তু ভয় ছিল, পরবর্তীতে সেটিকে মসজিদে পরিণত করা হতে পারে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, নবী-রাসূলদের ভালোবাসা ও সম্মান করতে গিয়ে এমন কাজ করা যাবে না, যা কবরকে ইবাদতের কেন্দ্র বানিয়ে ফেলে। হাদিসটি তাওহিদের সুরক্ষা, ইবাদতের শুদ্ধতা এবং কবর সংক্রান্ত সীমা মেনে চলার কথা শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীদের কবরকে সিজদার স্থান বানানো থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
- ইবাদত আল্লাহর জন্য; কবরকে ইবাদতের কেন্দ্র করা ঠিক নয়।
- তাওহিদ রক্ষায় সীমা মেনে চলা জরুরি।
