২৪/৫০. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৪৬৮ - যাকাত ও আল্লাহর পথে সম্পদ
আল্লাহর বাণীঃ দাসমুক্তির জন্য, ঋণ ভারাক্রান্তদের জন্য ও আল্লাহর পথে। (আত-তাওবাঃ ৬০)
وَيُذْكَرُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ؓ عَمَّنْ يُعْتِقُ مِنْ زَكَاةِ مَالِهِ وَيُعْطِي فِي الْحَجِّ وَقَالَ الْحَسَنُ إِنِ اشْتَرَى أَبَاهُ مِنَ الزَّكَاةِ جَازَ وَيُعْطِي فِي الْمُجَاهِدِينَ وَالَّذِي لَمْ يَحُجَّ ثُمَّ تَلَا ﴾إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ﴿ الْآيَةَ فِي أَيُّهَا أَعْطَيْتَ أَجْزَأَتْ وَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِنَّ خَالِدًا احْتَبَسَ أَدْرَاعَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَيُذْكَرُ عَنْ أَبِي لَاسٍ حَمَلَنَا النَّبِيُّ ﷺ عَلَى إِبِلِ الصَّدَقَةِ لِلْحَجِّইবন ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নিজের মালের যাকাত দ্বারা দাস মুক্ত করবে এবং হজ্জ আদায়কারীকে দিবে। হাসান (বসরী) (রহঃ) বলেন, কেউ যাকাতের অর্থ দিয়ে তার পিতাকে ক্রয় করলে তা জায়েয হবে। আর মুজাহিদীন এবং যে হজ্জ করেনি (তাকে হজ্জ করার জন্য) তাদেরও (যাকাত) দিবে। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করেন (আল্লাহর বাণী:) “যাকাত পাবে দরিদ্রগণ” (আত-তাওবা: ৬০)। এর যে কোনো খাত দিয়েই যাকাত আদায় হবে। নবী (ﷺ) বলেন: খালিদ (ইবন ওয়ালীদ) (রাঃ) তার বর্মসমূহ জিহাদের কাজে আবদ্ধ রেখেছেন। আবূ লাইস (রাঃ) হতে (দুর্বল সূত্রে) বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) আমাদের হজ্জ আদায় করার জন্য বাহনরূপে যাকাতের উট দেন।"
যাকাতের বিষয়ে ন্যায়: খালিদ ও আব্বাস রাঃ-এর ঘটনার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ১৪৬৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৪৬৮
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِالصَّدَقَةِ فَقِيلَ مَنَعَ ابْنُ جَمِيلٍ وَخَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ وَعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ. فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ «مَا يَنْقِمُ ابْنُ جَمِيلٍ إِلاَّ أَنَّهُ كَانَ فَقِيرًا فَأَغْنَاهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ، وَأَمَّا خَالِدٌ فَإِنَّكُمْ تَظْلِمُونَ خَالِدًا، قَدِ احْتَبَسَ أَدْرَاعَهُ وَأَعْتُدَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَأَمَّا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَعَمُّ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَهْىَ عَلَيْهِ صَدَقَةٌ وَمِثْلُهَا مَعَهَا».تَابَعَهُ ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ أَبِيهِ. وَقَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ هِيَ عَلَيْهِ وَمِثْلُهَا مَعَهَا. وَقَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ حُدِّثْتُ عَنِ الأَعْرَجِ بِمِثْلِهِ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যাকাত দেয়ার নির্দেশ দিলে বলা হলো, ইব্নু জামীল, খালিদ ইব্নু ওয়ালীদ ও ‘আব্বাস ইব্নু আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) যাকাত প্রদানে অস্বীকার করছে। নবী (ﷺ) বললেনঃ ইব্নু জামীলের যাকাত না দেয়ার কারণ এ ছাড়া কিছু নয় যে, সে দরিদ্র ছিল, পরে আল্লাহর অনুগ্রহে ও তাঁর রাসূলের বরকতে সম্পদশালী হয়েছে। আর খালিদের ব্যাপার হলো তোমরা খালিদের উপর অন্যায় করেছ, কারণ সে তাঁর বর্ম ও অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র আল্লাহর পথে আবদ্ধ রেখেছে। আর ‘আব্বাস ইব্নু ‘আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ) তো আল্লাহর রাসূলের চাচা। তাঁর যাকাত তাঁর জন্য সদকা এবং সমপরিমাণও তাঁর জন্য সদকা।ইব্নু আবুয যিনাদ (রহঃ) তাঁর পিতা হতে হাদীস বর্ণনায় শু’আইব (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন। আর ইব্নু ইসহাক (রহঃ) আবুয যিনাদ (রহঃ) হতে হাদীসের শেষাংশে ‘সদকা’ শব্দের উল্লেখ করেননি। ইব্নু জুরাইজ (রহঃ) বলেন, আ’রাজ (রহঃ) হতে অনুরূপ হাদীস আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৪৬৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যাকাত আদায়ের নির্দেশের পর কয়েকজনের বিষয়ে অভিযোগ তোলা হয়। নবী صلى الله عليه وسلم প্রতিটি বিষয়ের আলাদা জবাব দেন। ইবনু জামিল সম্পর্কে তিনি বলেন, সে দরিদ্র ছিল, পরে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের মাধ্যমে সম্পদশালী হয়েছে। খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রাঃ সম্পর্কে বলেন, তোমরা তাঁর ওপর অন্যায় করেছ; কারণ তিনি তাঁর বর্ম ও যুদ্ধসামগ্রী আল্লাহর পথে আটকে রেখেছেন। আর আব্বাস রাঃ সম্পর্কে আলাদা কথা বলেন। এই হাদিস যাকাতের বিষয়ে তাড়াহুড়া করে অভিযোগ না করার শিক্ষা দেয়। কারো অবস্থার পেছনে এমন বিষয় থাকতে পারে, যা সবার জানা নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যাকাতের বিষয়ে অভিযোগ করার আগে প্রকৃত অবস্থা জানা দরকার।
- আল্লাহর পথে সম্পদ আটকে রাখা বড় নেক কাজের মধ্যে পড়ে।
- কারো ব্যাপারে অন্যায় ধারণা করা থেকে সতর্ক থাকা উচিত।
- নবী صلى الله عليه وسلم প্রতিটি বিষয়ের জবাব ন্যায়ভিত্তিকভাবে দিয়েছেন।
