২৪/৫৪. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ১৪৭৮ - দানের পেছনের নববী প্রজ্ঞা

মহান আল্লাহর বাণীঃ তারা মানুষের কাছে নাছোড় হয়ে যাঞ্ছা করে না- (আল-বাকারাঃ ২৭৩), আর ধনী হওয়ার পরিমাণ কত?

وَقَوْلِ النَّبِيُّ ﷺ وَلَا يَجِدُ غِنًى يُغْنِيهِ لِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى ﴾لِلْفُقَرَاءِ الَّذِينَ أُحْصِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا يَسْتَطِيعُونَ ضَرْبًا فِي الْأَرْضِ﴿ إِلَى قَوْلِهِ ﴾فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ﴿নবী (ﷺ)-এর বাণী: “এবং এতটুকু পরিমাণ সম্পদ তার কাছে নেই, যা তাকে অভাবমুক্ত করতে পারবে।” (আল্লাহ বলেন) এ ব্যয় ঐ সব অভাবগ্রস্ত লোকদের জন্য যারা আল্লাহর পথে এমনভাবে ব্যাপৃত হয়ে পড়েছে যে, তারা জীবিকার সন্ধানে যমীনে ঘোরাফেরা করতে পারে না। ভিক্ষা না করার দরুন অজ্ঞ লোকেরা তাদের অভাবমুক্ত বলে মনে করে। তাদের লক্ষণ দেখলেই তুমি তাদের চিনতে পারবে। কাকুতি-মিনতি করে তারা মানুষের কাছে ভিক্ষা চায় না। আর যে সম্পদ তোমরা ব্যয় কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত। (আল-বাকারা: ২৭৩)"

দান বণ্টনে প্রজ্ঞা: নবী صلى الله عليه وسلم কেন কাউকে দিতেন

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৪৭৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ غُرَيْرٍ الزُّهْرِيُّ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَامِرُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَعْطَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ رَهْطًا وَأَنَا جَالِسٌ فِيهِمْ قَالَ فَتَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مِنْهُمْ رَجُلاً لَمْ يُعْطِهِ، وَهُوَ أَعْجَبُهُمْ إِلَىَّ، فَقُمْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَسَارَرْتُهُ فَقُلْتُ مَا لَكَ عَنْ فُلاَنٍ وَاللَّهِ إِنِّي لأُرَاهُ مُؤْمِنًا. قَالَ «أَوْ مُسْلِمًا» قَالَ فَسَكَتُّ قَلِيلاً ثُمَّ غَلَبَنِي مَا أَعْلَمُ فِيهِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ. مَا لَكَ عَنْ فُلاَنٍ وَاللَّهِ إِنِّي لأُرَاهُ مُؤْمِنًا. قَالَ «أَوْ مُسْلِمًا». قَالَ فَسَكَتُّ قَلِيلاً ثُمَّ غَلَبَنِي مَا أَعْلَمُ فِيهِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا لَكَ عَنْ فُلاَنٍ وَاللَّهِ إِنِّي لأُرَاهُ مُؤْمِنًا. قَالَ «أَوْ مُسْلِمًا ـ يَعْنِي فَقَالَ ـ إِنِّي لأُعْطِي الرَّجُلَ وَغَيْرُهُ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْهُ، خَشْيَةَ أَنْ يُكَبَّ فِي النَّارِ عَلَى وَجْهِهِ».وَعَنْ أَبِيهِ عَنْ صَالِحٍ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدٍ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ هَذَا فَقَالَ فِي حَدِيثِهِ فَضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِيَدِهِ فَجَمَعَ بَيْنَ عُنُقِي وَكَتِفِي ثُمَّ قَالَ " أَقْبِلْ أَىْ سَعْدُ إِنِّي لأُعْطِي الرَّجُلَ ". قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ ﴾فَكُبْكِبُوا﴿ قُلِبُوا {مُكِبًّا} أَكَبَّ الرَّجُلُ إِذَا كَانَ فِعْلُهُ غَيْرَ وَاقِعٍ عَلَى أَحَدٍ، فَإِذَا وَقَعَ الْفِعْلُ قُلْتَ كَبَّهُ اللَّهُ لِوَجْهِهِ، وَكَبَبْتُهُ أَنَا.

সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) একদল লোককে কিছু দান করলেন। আমি তাদের মধ্যে উপবিষ্ট ছিলাম। নবী (ﷺ) তাদের মধ্য হতে এক ব্যক্তিকে কিছুই দিলেন না। অথচ সে ছিল আমার বিবেচনায় তাদের মধ্যে সবচাইতে উত্তম। আমি আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ)-এর কাছে গিয়ে চুপে চুপে বললাম, অমুক সম্পর্কে আপনার কি হলো? আমি তো তাকে অবশ্য মু’মিন বলে মনে করি। তিনি বললেনঃ বরং মুসলিম (বল)।সা’দ (রাঃ) বলেন, এরপর আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। আবার তার সম্পর্কে আমার ধারণা প্রবল হয়ে উঠলে আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! অমুক সম্পর্কে আপনার কি হলো? আল্লাহ্‌র কসম! আমি তো তাকে অবশ্য মু’মিন বলে মনে করি। তিনি বললেনঃ বরং মুসলিম। এবারও কিছুক্ষণ নীরব রইলাম। আবার তার সম্পর্কে আমার ধারণা প্রবল হয়ে উঠলে আমি বললাম, অমুক সম্পর্কে আপনার কি হলো? আল্লাহ্‌র কসম! আমি তো তাকে মু’মিন বলে মনে করি। নবী (ﷺ) বললেনঃ অথবা মুসলিম! এভাবে তিনবার বললেন। আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) বললেনঃ আমি একজনকে দিয়ে থাকি অথচ অন্য ব্যক্তি আমার কাছে অধিক প্রিয় এই আশঙ্কায় যে, তাকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।অপর সনদে ইসমাঈল ইব্‌নু মুহাম্মাদ (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে এভাবে বলতে শুনেছি, তিনি হাদীসটি বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন, অতঃপর আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) আমার কাঁধে হাত রাখলেন, এরপর বললেন, হে সা’দ! অগ্রসর হও। আমি সে লোকটিকে (এখন) অবশ্যই দিব।আবূ ‘আবদুল্লাহ্‌ (রহঃ) বলেন, -- অর্থ “উল্টিয়ে দেয়া হয়েছে।” (আল-ইসরা/বানী ইসরাঈলঃ ৯৪) -- -- বাগধারা অনুসারে -- হতে গৃহীত হয়েছে অর্থাৎ কর্তার কর্ম যখন কারো প্রতি না বর্তায় তখনই এরূপ বলা হয়ে থাকে। আর যদি কর্ম কারোর উপর বর্তায়, তখন বলা হয় --।

সহীহ বুখারী হাদিস ১৪৭৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সা‘দ রাঃ দেখলেন, নবী صلى الله عليه وسلم একদল লোককে দান করলেন, কিন্তু তাঁর পছন্দের একজনকে দিলেন না। তিনি মনে করতেন, সেই ব্যক্তি মুমিন। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে বললেন, বরং মুসলিম বল। বারবার প্রশ্নের পর নবী صلى الله عليه وسلم ব্যাখ্যা করলেন, তিনি কখনো একজনকে দেন, অথচ অন্যজন তাঁর কাছে বেশি প্রিয় থাকে। এর কারণ হলো, যাকে দিচ্ছেন তার বিষয়ে আশঙ্কা থাকে—সে যেন জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত না হয়। এই হাদিস দানের পেছনের নববী প্রজ্ঞা শেখায়। বাহ্যিকভাবে কারো বেশি পাওয়া বা না পাওয়া দেখে তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • দান বণ্টনের পেছনে কখনো গভীর প্রজ্ঞা থাকতে পারে।
  • কারো ঈমান সম্পর্কে নিশ্চিত ভাষা ব্যবহারে সতর্কতা দরকার।
  • বাহ্যিক দান পাওয়া সব সময় মর্যাদার মাপকাঠি নয়।
  • নবী صلى الله عليه وسلم মানুষের কল্যাণ ভেবে সিদ্ধান্ত নিতেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন