২৫/১৩৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৭৫০ - তাকবীরসহ জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ
প্রতিটি কঙ্কর এর সঙ্গে তাকবীর পাঠ।
قَالَهُ ابْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ ﷺনবী (ﷺ) হতে ইবন ‘উমার (রাঃ) এ কথাটি বর্ণনা করেন।"
জামারায়ে আকাবায় তাকবীরসহ সাত কঙ্কর নিক্ষেপ
সহীহ বুখারী : ১৭৫০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৭৫০
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ قَالَ سَمِعْتُ الْحَجَّاجَ يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ السُّورَةُ الَّتِي يُذْكَرُ فِيهَا الْبَقَرَةُ وَالسُّورَةُ الَّتِي يُذْكَرُ فِيهَا آلُ عِمْرَانَ وَالسُّورَةُ الَّتِي يُذْكَرُ فِيهَا النِّسَاءُ قَالَ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لإِبْرَاهِيمَ فَقَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمٰنِ بْنُ يَزِيدَ أَنَّهُ كَانَ مَعَ ابْنِ مَسْعُودٍ حِينَ رَمَى جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ فَاسْتَبْطَنَ الْوَادِيَ حَتَّى إِذَا حَاذَى بِالشَّجَرَةِ اعْتَرَضَهَا فَرَمَى بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ يُكَبِّرُ مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ ثُمَّ قَالَ مِنْ هَا هُنَا وَالَّذِي لاَ إِلٰهَ غَيْرُهُ قَامَ الَّذِي أُنْزِلَتْ عَلَيْهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ صلى الله عليه وسلم
আ’মাশ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি হাজ্জাজকে মিম্বরের উপর এরূপ বলতে শুনেছি, যে সূরার মধ্যে বাকারাহ’র উল্লেখ রয়েছে, সে সূরার মধ্যে আল-ইমরানের উল্লেখ রয়েছে এবং যে সূরার মধ্যে নিসা-এর উল্লেখ রয়েছে অর্থাৎ সে সূরা আল-বাকারাহ সূরা আল ‘ইমরান ও সূরা আল নিসা বলা পছন্দ করতো না। বর্ণনাকারী আ’মাশ (রহঃ) বলেন, এ ব্যাপারটি আমি ইব্রাহীম (রহঃ)-কে বললাম।তিনি বললেন, আমার কাছে ‘আবদূর রহমান ইব্নু ইয়াযীদ (রহঃ) বর্ণনা করেছেন যে, জামারায়ে আকাবাতে কঙ্কর মারার সময় তিনি ইব্নু মাস’ঊদ (রাঃ) এর সঙ্গে ছিলেন। ইব্নু মাস’ঊদ (রাঃ) বাতেন ওয়াদীতে গাছটির বরাবর এসে জামারাকে সামনে রেখে দাঁড়ালেন এবং তাকবির সহকারে কঙ্কর মারলেন। এরপর বললেন, সে সত্তার কসম যিনি ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, এ স্থানেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি, যাঁর উপর নাযিল হয়েছে সূরা বাকারাহ (অর্থাৎ সূরা বাকারাহ বলা বৈধ)
সহীহ বুখারী হাদিস ১৭৫০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জামারায়ে আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এসেছে—প্রতিটি কঙ্করের সঙ্গে তাকবীর বলা। ইবনু মাসউদ রাঃ বাতনে ওয়াদীতে গাছের বরাবর দাঁড়ান, জামারাকে সামনে রাখেন এবং সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করেন। প্রতিটি কঙ্করের সঙ্গে তিনি তাকবীর বলেন। তারপর কসম করে বলেন, এখানেই দাঁড়িয়েছিলেন তিনি, যাঁর ওপর সূরা আল-বাকারা নাজিল হয়েছে। বর্ণনার শুরুতে সূরাগুলোর নাম বলা নিয়ে একটি প্রসঙ্গ এসেছে, আর শেষে সূরা আল-বাকারা বলার ব্যবহারও দেখা যায়। মূল শিক্ষাটি হলো, সাহাবীরা নবী صلى الله عليه وسلم-এর পদ্ধতি ও ভাষা দুটোই গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করতেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কঙ্কর নিক্ষেপের সময় প্রতিটি কঙ্করের সঙ্গে তাকবীরের বর্ণনা এসেছে।
- ইবনু মাসউদ রাঃ নবী صلى الله عليه وسلم-এর দাঁড়ানোর স্থান স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
- সূরা আল-বাকারা নামে উল্লেখ করার ব্যবহার এই বর্ণনায় এসেছে।
- হজের আমলে পদ্ধতি ও যিকির—দুটিই গুরুত্ব পায়।
