৪৬/১২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৪৫১ - ডান পাশের অধিকার ও অনুমতির আদব
যদি কোন ব্যক্তি কাউকে কোন বিষয়ে অনুমতি প্রদান করে, তাকে মাফ করে, কিন্তু কি পরিমাণ ক্ষমা করল বা কতটুকুর জন্য অনুমতি প্রদান করল তা উল্লেখ না করে।
ডান পাশের অধিকার: পানীয় দেওয়ার আদবের হাদিস
সহীহ বুখারী : ২৪৫১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৪৫১
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي حَازِمِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أُتِيَ بِشَرَابٍ، فَشَرِبَ مِنْهُ وَعَنْ يَمِينِهِ غُلاَمٌ وَعَنْ يَسَارِهِ الأَشْيَاخُ، فَقَالَ لِلْغُلاَمِ «أَتَأْذَنُ لِي أَنْ أُعْطِيَ هَؤُلاَءِ». فَقَالَ الْغُلاَمُ لاَ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ لاَ أُوثِرُ بِنَصِيبِي مِنْكَ أَحَدًا. قَالَ فَتَلَّهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي يَدِهِ.
সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-এর কাছে কিছু পানীয় দ্রব্য আনা হল। তিনি তা থেকে কিছুটা পান করলেন। তাঁর (ﷺ) ডান দিকে বসা ছিল একটি বালক, আর বাম দিকে ছিলেন বয়োজ্যেষ্ঠরা। তিনি (ﷺ) বালকটিকে বললেন, এ বয়োজ্যেষ্ঠদেরকে দেয়ার জন্য তুমি আমাকে অনুমতি দিবে কি? তখন বালকটি বলল, না, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! আমি আপনার কাছ থেকে প্রাপ্য আমার অংশে কাউকে অগ্রাধিকার দিব না। রাবী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) পানির পেয়ালাটা তার হাতে ঠেলে দিলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৪৫১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে পানীয় আনা হলো। তিনি পান করলেন। তাঁর ডান পাশে ছিল একটি বালক, আর বাম পাশে ছিলেন বয়োজ্যেষ্ঠরা। নবী (صلى الله عليه وسلم) বালকটির কাছে অনুমতি চাইলেন, তিনি কি বয়োজ্যেষ্ঠদের আগে দিতে পারেন? বালকটি বলল, সে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছ থেকে পাওয়া নিজের অংশে কাউকে অগ্রাধিকার দেবে না। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) পাত্রটি তার হাতে দিলেন। হাদিসটি ডান পাশের অধিকার, অনুমতি নেওয়ার আদব এবং ছোটদের হক সম্মান করার শিক্ষা দেয়। বড়দের সম্মান আছে, কিন্তু যার অধিকার আগে, তার অনুমতি ছাড়া তা সরিয়ে দেওয়া হয়নি—এটি খুব সুন্দর আচরণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ডান পাশে বসা ব্যক্তির অধিকারকে সম্মান করা হয়েছে।
- ছোট হলেও যার হক আছে, তার অনুমতি নেওয়া উচিত।
- বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করতে গিয়ে অন্যের প্রাপ্য হক নষ্ট করা হয়নি।
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আচরণে শিষ্টাচার ও ন্যায় দুটোই দেখা যায়।
