৫৪/১৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭৩৩ - মুহাজির নারীদের পরীক্ষা ও বৈবাহিক বিধান
যুদ্ধের প্রতিপক্ষীয়দের সাথে জিহাদ ও সমঝোতার ব্যাপারে শর্তারোপ এবং লোকদের সঙ্গে কৃত মৌখিক শর্ত লিপিবদ্ধ করা।
মুহাজির নারীদের পরীক্ষা: ঈমান, মোহর ও দাম্পত্য বিধানের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২৭৩৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৭৩৩
وَقَالَ عُقَيْلٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ عُرْوَةُ فَأَخْبَرَتْنِي عَائِشَةُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ كَانَ يَمْتَحِنُهُنَّ، وَبَلَغَنَا أَنَّهُ لَمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى أَنْ يَرُدُّوا إِلَى الْمُشْرِكِينَ مَا أَنْفَقُوا عَلَى مَنْ هَاجَرَ مِنْ أَزْوَاجِهِمْ، وَحَكَمَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ، أَنْ لاَ يُمَسِّكُوا بِعِصَمِ الْكَوَافِرِ، أَنَّ عُمَرَ طَلَّقَ امْرَأَتَيْنِ قَرِيبَةَ بِنْتَ أَبِي أُمَيَّةَ، وَابْنَةَ جَرْوَلٍ الْخُزَاعِيِّ، فَتَزَوَّجَ قَرِيبَةَ مُعَاوِيَةُ، وَتَزَوَّجَ الأُخْرَى أَبُو جَهْمٍ، فَلَمَّا أَبَى الْكُفَّارُ أَنْ يُقِرُّوا بِأَدَاءِ مَا أَنْفَقَ الْمُسْلِمُونَ عَلَى أَزْوَاجِهِمْ، أَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى ﴾وَإِنْ فَاتَكُمْ شَىْءٌ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ إِلَى الْكُفَّارِ فَعَاقَبْتُمْ﴿ وَالْعَقِبُ مَا يُؤَدِّي الْمُسْلِمُونَ إِلَى مَنْ هَاجَرَتِ امْرَأَتُهُ مِنَ الْكُفَّارِ، فَأَمَرَ أَنْ يُعْطَى مَنْ ذَهَبَ لَهُ زَوْجٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ مَا أَنْفَقَ مِنْ صَدَاقِ نِسَاءِ الْكُفَّارِ اللاَّئِي هَاجَرْنَ، وَمَا نَعْلَمُ أَحَدًا مِنَ الْمُهَاجِرَاتِ ارْتَدَّتْ بَعْدَ إِيمَانِهَا. وَبَلَغَنَا أَنَّ أَبَا بَصِيرِ بْنَ أَسِيدٍ الثَّقَفِيَّ قَدِمَ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ مُؤْمِنًا مُهَاجِرًا فِي الْمُدَّةِ، فَكَتَبَ الأَخْنَسُ بْنُ شَرِيقٍ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ يَسْأَلُهُ أَبَا بَصِيرٍ، فَذَكَرَ الْحَدِيثَ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘উরওয়াহ (রহঃ) বলেন যে, আমার নিকট ‘আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসলিম নারীদের পরীক্ষা করতেন এবং আমাদের নিকট এ বর্ণনা পৌঁছেছে যে, যখন আল্লাহ্ তা‘আলা নাযিল করেন, মুসলিমগণ যেন মুশরিক স্বামীদের সে সব খরচ আদায় করে দেয়, যা তারা তাদের হিজরতকারী স্ত্রীদের জন্য ব্যয় করেছে এবং মুসলিমদের নির্দেশ দেন যেন তারা কাফির স্ত্রীদের আটকিয়ে না রাখে। তখন ‘উমর (রাঃ) তাঁর দুই স্ত্রী কুরাইবাহ বিনতু আবূ উমায়্যাহ ও বিনতে জারওয়াল খুযায়ীকে তালাক দিয়ে দেন। অতঃপর কুরাইবাহকে মু‘আবিয়াহ ও অপরজনকে আবূ জাহাম বিয়ে করে নেয়।অতঃপর কাফিররা যখন মুসলিমদের তাদের স্ত্রীদের জন্য খরচকৃত অর্থ ফেরত দিতে অস্বীকার করল, তখন নাযিল হলঃ “তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেউ হাত ছাড়া হয়ে কাফিরদের কাছে চলে যায়, তবে তোমরা তার বদলা নিবে”- (আল-মুমতাহিনাহ ১১)। বদলা হলঃ কাফিরদের স্ত্রী যারা হিজরত করে চলে আসে, তাদের কাফির স্বামীকে মোহর মুসলিমদের যা দিতে হয়, এ সম্বন্ধে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দেন যে, তারা যেন মুসলিমদের যে সব স্ত্রী চলে গেছে ঐ অর্থ তাদের মুসলিম স্বামীদেরকে দিয়ে দেয়।[যুহরী (রহঃ) আরো বলেন] এমন কোন মুহাজির নারীর কথা আমাদের জানা নেই, যে ঈমান আনার পর মুরতাদ হয়ে চলে গেছে। আমাদের কাছে এ বর্ণনা পৌঁছেছে যে, আবূ বাসীর ইব্নু আসীদ সাকাফী (রাঃ) ঈমান এনে চুক্তির মেয়াদের মধ্যে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট হিজরত করে চলে আসলেন। তখন আখনাস ইব্নু শারীক আবূ বাসীর (রাঃ)-কে ফেরত চেয়ে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পত্র লিখল। অতঃপর তিনি হাদীসের বাকি অংশ বর্ণনা করেছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭৩৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় হুদাইবিয়ার পর মুসলিম নারীদের হিজরত নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এসেছে। আয়েশা (রাঃ) জানান, আল্লাহর রসূল (صلى الله عليه وسلم) মুসলিম নারীদের পরীক্ষা করতেন। এরপর মুশরিক স্বামীদের তাদের হিজরতকারী স্ত্রীদের জন্য করা খরচ ফেরত দেওয়ার কথা এবং মুসলিমদের কাফির স্ত্রীদের বন্ধনে না রাখার নির্দেশের কথা এসেছে। উমর (রাঃ) তখন তাঁর দুই স্ত্রীকে তালাক দেন, যারা মুশরিক অবস্থায় ছিলেন। পরে কাফিররা মুসলিমদের ব্যয় ফেরত দিতে অস্বীকার করলে আল্লাহর আয়াত নাযিল হয় এবং বদলার নিয়মের কথা বর্ণিত হয়। এই হাদিসে হিজরত, ঈমানের পরীক্ষা, বৈবাহিক সম্পর্ক এবং আর্থিক অধিকার—সব বিষয় সংক্ষেপে এসেছে। মূল শিক্ষা হলো, ঈমানের ভিত্তিতে সম্পর্কের বিধান আলাদা হতে পারে এবং আর্থিক অধিকার অবহেলা করা হয় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হিজরতকারী নারীদের ঈমানের বিষয় যাচাই করার কথা হাদিসে এসেছে।
- দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঈমান ও বৈধতার বিষয় গুরুত্ব পায়।
- মোহর বা ব্যয় সংক্রান্ত অধিকারকে অবহেলা করা হয়নি।
- কঠিন সামাজিক পরিবর্তনেও ন্যায্য আর্থিক সমাধানের নির্দেশ এসেছে।
