৫৫/১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭৩৯ - নবীজির দুনিয়াবিমুখ জীবন
অসীয়ত প্রসঙ্গে
وَقَوْلِ النَّبِيِّ ﷺ وَصِيَّةُ الرَّجُلِ مَكْتُوبَةٌ عِنْدَهُوَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى ﴾كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِنْ تَرَكَ خَيْرًا ۖالْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ بِالْمَعْرُوفِ ۖ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِينَ فَمَنْ بَدَّلَهُ بَعْدَ مَا سَمِعَهُ فَإِنَّمَا إِثْمُهُ عَلَى الَّذِينَ يُبَدِّلُونَهُ ۚ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ فَمَنْ خَافَ مِنْ مُوصٍ جَنَفًا أَوْ إِثْمًا فَأَصْلَحَ بَيْنَهُمْ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ﴿ ( البقرة : ١٨٠-١٨٢এবং নবী (ﷺ)-এর বাণী, মানুষের ওসীয়াত তার নিকট লিখিত থাকবে।আল্লাহ তা‘আলা বলেন তোমাদের কারো মৃত্যুকাল উপস্থিত হলে সে যদি ধন-সম্পত্তি রেখে যায় তবে তা ন্যায্য পন্থায় তার পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য ওয়াসিয়াত করার বিধান .....পক্ষপাতিত্ব পর্যন্ত। (আল-বাকারা: ১৮০-১৮২) جَنَفًا অর্থ-ঝুঁকে যাওয়া, পক্ষপাতিত্ব করা مُتَجَانِفٌ ঐ ব্যক্তি, যে ঝুঁকে পড়ে, পক্ষপাতিত্ব করে।"
নবীজির দুনিয়াবিমুখতা: সম্পদ নয়, সদকার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২৭৩৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৭৩৯
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْجُعْفِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، خَتَنِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَخِي جُوَيْرِيَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ قَالَ مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عِنْدَ مَوْتِهِ دِرْهَمًا وَلاَ دِينَارًا وَلاَ عَبْدًا وَلاَ أَمَةً وَلاَ شَيْئًا، إِلاَّ بَغْلَتَهُ الْبَيْضَاءَ وَسِلاَحَهُ وَأَرْضًا جَعَلَهَا صَدَقَةً.
‘আম্র ইব্নুল হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর মৃত্যুকালে তাঁর সাদা খচ্চরটি, তাঁর হাতিয়ার এবং সে জমি যা তিনি সদকা করেছিলেন, তাছাড়া কোন স্বর্ণ বা রৌপ্য মুদ্রা, কোন দাস-দাসী কিংবা কোন জিনিস রেখে যাননি।’
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭৩৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মৃত্যুকালে কোনো স্বর্ণ বা রৌপ্য মুদ্রা, দাস-দাসী কিংবা সাধারণ সম্পদের মতো কিছু রেখে যাননি। তাঁর কাছে ছিল সাদা খচ্চর, হাতিয়ার এবং একটি জমি, যা তিনি সদকা করেছিলেন। এই বর্ণনা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সাদামাটা জীবন ও দুনিয়াবিমুখতার একটি স্পষ্ট ছবি দেয়। তিনি সম্পদ জমা করে যাওয়ার চেয়ে আল্লাহর পথে ব্যয় ও সদকার দিককে গুরুত্ব দিয়েছেন। হাদিস থেকে বোঝা যায়, মর্যাদা সম্পদের পরিমাণে নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে কীভাবে জীবন চালানো হলো, সেটাই বড় বিষয়। এটি আমাদের অপচয়, অহংকার ও সম্পদ জমানোর মানসিকতা থেকে সাবধান করে এবং দরকারি সম্পদকে কল্যাণের কাজে ব্যবহার করতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর জীবন ছিল সাদামাটা ও দুনিয়াবিমুখ।
- সম্পদ জমা করার চেয়ে সদকার দিককে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- মর্যাদা সম্পদের পরিমাণে নয়, বরং আমল ও তাকওয়ায়।
- প্রয়োজনীয় জিনিস রাখা যায়, তবে অন্তর দুনিয়ার প্রতি আসক্ত না হওয়া দরকার।
