৫৬/১৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৮০৯ - হারিসা (রাঃ) ও জান্নাতুল ফেরদৌস
অজ্ঞাত তীর এসে যাকে হত্যা করে
হারিসা (রাঃ)-এর শাহাদাত ও জান্নাতুল ফেরদৌসের সুসংবাদ
সহীহ বুখারী : ২৮০৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৮০৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ أَبُو أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ قَتَادَةَ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ أُمَّ الرُّبَيِّعِ بِنْتَ الْبَرَاءِ، وَهْىَ أُمُّ حَارِثَةَ بْنِ سُرَاقَةَ أَتَتِ النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَتْ يَا نَبِيَّ اللَّهِ، أَلاَ تُحَدِّثُنِي عَنْ حَارِثَةَ وَكَانَ قُتِلَ يَوْمَ بَدْرٍ أَصَابَهُ سَهْمٌ غَرْبٌ، فَإِنْ كَانَ فِي الْجَنَّةِ، صَبَرْتُ، وَإِنْ كَانَ غَيْرَ ذَلِكَ اجْتَهَدْتُ عَلَيْهِ فِي الْبُكَاءِ. قَالَ «يَا أُمَّ حَارِثَةَ، إِنَّهَا جِنَانٌ فِي الْجَنَّةِ، وَإِنَّ ابْنَكِ أَصَابَ الْفِرْدَوْسَ الأَعْلَى».
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উম্মু রুবায়্যি বিনতে বারা, যিনি হারিস ইব্নু সুরাকার মা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এসে বলেন, ‘হে আল্লাহর নবী! আপনি হারিসাহ (রাঃ) সম্পর্কে আমাকে কিছু বলবেন কি? হারিসা (রাঃ) বদরের যুদ্ধে অজ্ঞাত তীরের আঘাতে শাহাদাত লাভ করেন। সে যদি জান্নাতবাসী হয়ে থাকে তবে আমি সবর করব, তা না হলে আমি তার জন্য অবিরাম কাঁদতে থাকবো।’ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, ‘হে হারিসার মা! জান্নাতে অসংখ্য বাগান আছে, আর তোমার ছেলে সর্বোচ্চ জান্নাতুল ফেরদাউস পেয়ে গেছে।’
সহীহ বুখারী হাদিস ২৮০৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো শহীদের মর্যাদা ও সবর। হারিসা ইবন সুরাকাহ (রাঃ) বদরের যুদ্ধে অজ্ঞাত তীরের আঘাতে শহীদ হন। তাঁর মা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে জানতে চান, তাঁর ছেলে জান্নাতে আছে কি না। যদি জান্নাতে থাকে, তিনি সবর করবেন; অন্যথায় তাঁর কষ্ট আরও বেড়ে যাবে। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে জানান, জান্নাতে অনেক বাগান আছে এবং তাঁর ছেলে সর্বোচ্চ জান্নাতুল ফেরদৌস পেয়েছে। এই হাদিসে মায়ের মমতা, শহীদের মর্যাদা, জান্নাতের আশা এবং বিপদের সময় নবীজির সান্ত্বনার শিক্ষা আছে। এটি শোকের মধ্যে ঈমানি ভরসার সুন্দর উদাহরণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শোকের সময় আল্লাহর কাছে আশা রাখা মুমিনের গুণ।
- শহীদের মর্যাদা আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ দান।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) কষ্টে থাকা মানুষকে সান্ত্বনা দিতেন।
- সবর করা ঈমানি শক্তির পরিচয়।
