৭/১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৩৩৪ - তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ مِنْهُ}.আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করে নাও- মাসেহ করবে স্বীয় মুখমণ্ডল ও হাত।” (সূরা আন-নিসা ৪/৪৩, সূরা আল-মায়িদা ৫/৬)"
তায়াম্মুমের আয়াত নাযিলের ঘটনা: আয়েশা (রাঃ)-এর হার হারানো
সহীহ বুখারী : ৩৩৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৩৩৪
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ، حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْبَيْدَاءِ ـ أَوْ بِذَاتِ الْجَيْشِ ـ انْقَطَعَ عِقْدٌ لِي، فَأَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَلَى الْتِمَاسِهِ، وَأَقَامَ النَّاسُ مَعَهُ، وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ، فَأَتَى النَّاسُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ فَقَالُوا أَلاَ تَرَى مَا صَنَعَتْ عَائِشَةُ أَقَامَتْ بِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَالنَّاسِ، وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ، وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ.فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ وَرَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَاضِعٌ رَأْسَهُ عَلَى فَخِذِي قَدْ نَامَ فَقَالَ حَبَسْتِ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَالنَّاسَ، وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ، وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ. فَقَالَتْ عَائِشَةُ فَعَاتَبَنِي أَبُو بَكْرٍ، وَقَالَ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقُولَ، وَجَعَلَ يَطْعُنُنِي بِيَدِهِ فِي خَاصِرَتِي، فَلاَ يَمْنَعُنِي مِنَ التَّحَرُّكِ إِلاَّ مَكَانُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ عَلَى فَخِذِي، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ حِينَ أَصْبَحَ عَلَى غَيْرِ مَاءٍ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ آيَةَ التَّيَمُّمِ فَتَيَمَّمُوا.فَقَالَ أُسَيْدُ بْنُ الْحُضَيْرِ مَا هِيَ بِأَوَّلِ بَرَكَتِكُمْ يَا آلَ أَبِي بَكْرٍ. قَالَتْ فَبَعَثْنَا الْبَعِيرَ الَّذِي كُنْتُ عَلَيْهِ، فَأَصَبْنَا الْعِقْدَ تَحْتَهُ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে কোন এক সফরে বের হয়েছিলাম যখন আমরা ‘বায়যা’ অথবা ‘যাতুল জায়শ’ নামক স্থানে পৌঁছলাম তখন একখানা হার হারিয়ে গেল। আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)-সেখানে হারের খোঁজে থেমে গেলেন আর লোকেরাও তাঁর সঙ্গে থেমে গেলেন, অথচ তাঁরা পানির নিকটে ছিলেন না। তখন লোকেরা আবূ বকর (রাঃ) এর নিকট এসে বললেনঃ ‘আয়িশা কী করেছেন আপনি কি দেখেন নি? তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-ও লোকদের আটকিয়ে ফেলেছেন, অথচ তাঁরা পানির নিকটে নেই এবং তাঁদের সাথেও পানি নেই।আবূ বকর (রাঃ) আমার নিকট আসলেন, তখন আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)-আমার উরুর উপরে মাথা রেখে ঘুমিয়েছিলেন। আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ তুমি আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) ও লোকদের আটকিয়ে ফেলেছ! অথচ আশেপাশে কোথাও পানি নেই। এবং তাঁদের সাথেও পানি নেই। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ আবূ বক্র আমাকে খুব তিরস্কার করলেন আর, আল্লাহ্র ইচ্ছা, তিনি যা খুশি তাই বললেন। তিনি আমার কোমরে আঘাত দিতে লাগলেন। আমার উরুর উপর আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)-এর মাথা থাকায় আমি নড়তে পারছিলাম না।আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)-ভোরে উঠলেন, কিন্তু পানি ছিল না। তখন আল্লাহ্ তা’আলা তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল করলেন। অতঃপর সবাই তায়াম্মুম করে নিলেন। উসায়দ ইব্নু হুযায়্র (রাঃ) বললেনঃ হে আবূ বকরের পরিবারবর্গ! এটাই আপনাদের প্রথম বরকত নয়। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ তারপর আমি যে উটে ছিলাম তাকে দাঁড় করালে দেখি আমার হারখানা তার নিচে পড়ে আছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৩৩৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তায়াম্মুমের আয়াত নাযিলের একটি দীর্ঘ ঘটনা এসেছে। সফরে আয়েশা (রাঃ)-এর হার হারিয়ে যায়। আল্লাহর রাসূল (صلى الله عليه وسلم) সেটি খুঁজতে থেমে যান এবং লোকেরাও থেমে যায়। কিন্তু তারা পানির কাছে ছিলেন না, তাঁদের সঙ্গেও পানি ছিল না। এতে লোকেরা উদ্বিগ্ন হয়। আবু বকর (রাঃ) আয়েশা (রাঃ)-কে তিরস্কার করেন, আর নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর উরুর ওপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে ছিলেন বলে তিনি নড়তে পারেননি। ভোরে পানি না থাকায় আল্লাহ তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল করেন এবং সবাই তায়াম্মুম করে। পরে দেখা যায় হারটি উটের নিচে ছিল। তাই তায়াম্মুম, পানি না থাকলে পবিত্রতা, আয়েশা রাঃ হার হারানো—এসব বিষয়ে এই হাদিস বড় শিক্ষা দেয়। এখানে বিপদ থেকে সহজ বিধান প্রকাশের দিকও আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পানি না থাকলে তায়াম্মুমের বিধান এই ঘটনার সঙ্গে এসেছে।
- সফরের কষ্টের মধ্যেও আল্লাহ সহজ পথ দিয়েছেন।
- আয়েশা (রাঃ)-এর হার হারানোর ঘটনা মুসলিমদের জন্য কল্যাণের কারণ হয়।
- ইবাদতের জন্য পবিত্রতার বিকল্প ব্যবস্থা শরিয়তে আছে।
