৬৪/৪৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪২৬১ - মুতার যুদ্ধে সেনাপতির ধারাবাহিকতা
সিরিয়া ভূমিতে সংঘটিত মুতার যুদ্ধের ঘটনা
মুতার যুদ্ধের নেতৃত্ব: যায়দ, জাফর ও ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)-এর ঘটনা
সহীহ বুখারী : ৪২৬১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪২৬১
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِيْ بَكْرٍ حَدَّثَنَا مُغِيْرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَعِيْدٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ أَمَّرَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فِيْ غَزْوَةِ مُؤْتَةَ زَيْدَ بْنَ حَارِثَةَ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنْ قُتِلَ زَيْدٌ فَجَعْفَرٌ وَإِنْ قُتِلَ جَعْفَرٌ فَعَبْدُ اللهِ بْنُ رَوَاحَةَ قَالَ عَبْدُ اللهِ كُنْتُ فِيْهِمْ فِيْ تِلْكَ الْغَزْوَةِ فَالْتَمَسْنَا جَعْفَرَ بْنَ أَبِيْ طَالِبٍ فَوَجَدْنَاهُ فِي الْقَتْلَى وَوَجَدْنَا مَا فِيْ جَسَدِهِ بِضْعًا وَتِسْعِيْنَ مِنْ طَعْنَةٍ وَرَمْيَةٍ.
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মূতার যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যায়দ ইবনু হারিসাহ (রাঃ)-কে (সেনাপতি নিযুক্ত করে) বলেছিলেন, যদি যায়দ (রাঃ) শহীদ হয়ে যায় তাহলে জা'ফার ইবনু আবূ ত্বলিব (রাঃ) (সেনাপতি হবে)। যদি জা'ফার (রাঃ)-ও শহীদ হয়ে যায় তাহলে 'আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) (সেনাপতি হবে)। 'আবদুল্লাহ [ইবনু 'উমর (রাঃ)] বলেন, ঐ যুদ্ধে তাঁদের সঙ্গে আমিও ছিলাম। (যুদ্ধ শেষে) আমরা জা'ফার ইবনু আবূ ত্বলিব (রাঃ)-কে তালাশ করলে তাঁকে শহীদগণের মধ্যে পেলাম। তখন আমরা তাঁর দেহে বর্শা ও তীরের নব্বইটিরও বেশি আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছি।
[১] পূর্বোক্ত হাদীসের পঞ্চাশটি আঘাতের চিহ্নের কথা বলা হয়েছিল যা কেবল বর্শা ও তরবারির আঘাত গণনা করা হয়েছে। অত্র হাদীসে তীর, বর্শা ও তরবারি সকল আঘাত চিহ্নের গণনা হয়েছে। পূর্বের হাদীসে তীর বাদ দিয়ে গণনা করার কারণে তারতম্য হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে উভয় হাদীসের মধ্যে কোনরূপ বিরোধ নেই। (ফতহুল বারী)
সহীহ বুখারী হাদিস ৪২৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুতার যুদ্ধের নেতৃত্বের একটি স্পষ্ট চিত্র এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে যায়দ ইবনু হারিসা (রাঃ)-কে সেনাপতি করেন। তিনি শহীদ হলে জাফর ইবনু আবু তালিব (রাঃ), আর জাফর (রাঃ) শহীদ হলে আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) সেনাপতি হবেন—এভাবে আগে থেকেই দায়িত্ব ঠিক করে দেন। এতে বোঝা যায়, বড় কাজের জন্য পরিকল্পনা ও দায়িত্ব বণ্টন কত জরুরি। এরপর ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, তাঁরা জাফর (রাঃ)-কে শহীদদের মধ্যে পান এবং তাঁর দেহে নব্বইটিরও বেশি আঘাত দেখেন। মুতার যুদ্ধের হাদিস হিসেবে এটি নেতৃত্ব, দায়িত্ব পালন এবং সাহসের একটি শক্তিশালী শিক্ষা দেয়। এখানে ঘটনা যতটুকু এসেছে, ব্যাখ্যাও ততটুকুর মধ্যেই সীমিত রাখা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুরুত্বপূর্ণ কাজে দায়িত্ব আগে থেকে পরিষ্কার করে দেওয়া দরকার।
- নেতা শহীদ হলেও কাজ থেমে যায় না; দায়িত্বের ধারাবাহিকতা থাকে।
- জাফর (রাঃ)-এর আঘাতের সংখ্যা তাঁর কঠিন সংগ্রামের সাক্ষ্য দেয়।
