৬৪/৫৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩২২ - যুদ্ধলব্ধ সম্পদে প্রমাণের গুরুত্ব
মহান আল্লাহর বাণীঃ
﴾وَيَوْمَ حُنَيْنٍ إِذْ أَعْجَبَتْكُمْ كَثْرَتُكُمْ فَلَمْ تُغْنِ عَنْكُمْ شَيْئًا وَضَاقَتْ عَلَيْكُمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ ثُمَّ وَلَّيْتُمْ مُدْبِرِينَ (٢٥) ثُمَّ أَنْزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ إِلَى قَوْلِهِ غَفُورٌ رَحِيمٌ (٢٧)﴿এবং হুনাইনের দিনে, যখন তোমাদের সংখ্যাধিক্য তোমাদেরকে গর্বিত করে তুলেছিল; কিন্তু সে সংখ্যাধিক্য তোমাদের কোনো কাজে আসেনি এবং সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিল তোমাদের প্রতি এ পৃথিবী এত প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও, পরে তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পালিয়েছিলে। অতঃপর আল্লাহ নিজের তরফ থেকে প্রশান্তি অবতীর্ণ করলেন তাঁর রাসূলের প্রতি এবং মুমিনদের প্রতি, আর তিনি অবতীর্ণ করলেন এমন এক সেনাবাহিনী যাদের তোমরা দেখতে পাওনি। তিনি কাফিরদের শাস্তি দিলেন এবং তা ছিল কাফিরদের কর্মফল। আর আল্লাহ এরপরও তাওবার তাওফীক দেন যাদের ইচ্ছা করেন। আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আত-তাওবা ৯/২৫-২৭)"
যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ও সাক্ষ্য: সালাব পাওয়ার হাদিস
সহীহ বুখারী : ৪৩২২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৩২২
وَقَالَ اللَّيْثُ حَدَّثَنِيْ يَحْيَى بْنُ سَعِيْدٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ كَثِيْرِ بْنِ أَفْلَحَ عَنْ أَبِيْ مُحَمَّدٍ مَوْلَى أَبِيْ قَتَادَةَ أَنَّ أَبَا قَتَادَةَ قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمَ حُنَيْنٍ نَظَرْتُ إِلَى رَجُلٍ مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ يُقَاتِلُ رَجُلًا مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ وَآخَرُ مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ يَخْتِلُهُ مِنْ وَرَائِهِ لِيَقْتُلَهُ فَأَسْرَعْتُ إِلَى الَّذِيْ يَخْتِلُهُ فَرَفَعَ يَدَهُ لِيَضْرِبَنِيْ وَأَضْرِبُ يَدَهُ فَقَطَعْتُهَا ثُمَّ أَخَذَنِيْ فَضَمَّنِيْ ضَمًّا شَدِيْدًا حَتَّى تَخَوَّفْتُ ثُمَّ تَرَكَ فَتَحَلَّلَ وَدَفَعْتُهُ ثُمَّ قَتَلْتُهُ وَانْهَزَمَ الْمُسْلِمُوْنَ وَانْهَزَمْتُ مَعَهُمْ فَإِذَا بِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فِي النَّاسِ فَقُلْتُ لَهُ مَا شَأْنُ النَّاسِ قَالَ أَمْرُ اللهِ ثُمَّ تَرَاجَعَ النَّاسُ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ أَقَامَ بَيِّنَةً عَلَى قَتِيْلٍ قَتَلَهُ فَلَهُ سَلَبُهُ فَقُمْتُ لِأَلْتَمِسَ بَيِّنَةً عَلَى قَتِيْلِيْ فَلَمْ أَرَ أَحَدًا يَشْهَدُ لِيْ فَجَلَسْتُ ثُمَّ بَدَا لِيْ فَذَكَرْتُ أَمْرَهُ لِرَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ جُلَسَائِهِ سِلَاحُ هَذَا الْقَتِيْلِ الَّذِيْ يَذْكُرُ عِنْدِيْ فَأَرْضِهِ مِنْهُفَقَالَ أَبُوْ بَكْرٍ كَلَّا لَا يُعْطِهِ أُصَيْبِغَ مِنْ قُرَيْشٍ وَيَدَعَ أَسَدًا مِنْ أُسْدِ اللهِ يُقَاتِلُ عَنْ اللهِ وَرَسُوْلِهِ ﷺ قَالَ فَقَامَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَأَدَّاهُ إِلَيَّ فَاشْتَرَيْتُ مِنْهُ خِرَافًا فَكَانَ أَوَّلَ مَالٍ تَأَثَّلْتُهُ فِي الإِسْلَامِ.
আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হুনাইন যুদ্ধের দিন আমি দেখলাম যে, এক মুসলিম এক মুশরিকের সঙ্গে লড়াই করছে। আরেক মুশরিক মুসলিম ব্যক্তিটির পেছন থেকে তাকে হত্যা করার জন্য আক্রমণ করছে। আমি দ্রুত সেই আক্রমণকারীর দিকে এগিয়ে গেলাম। সে আমাকে আঘাত করার জন্য হাত উঠাল, তখন আমি তার হাতের উপর আঘাত ক'রে তা কেটে ফেললাম। সে আমাকে ধরে ভীষণ ভাবে চাপ দিল। এমনকি আমি শঙ্কিত হয়ে পড়লাম। এরপর সে আমাকে ছেড়ে দিল ও দুর্বল হয়ে পড়ল। আমি তাকে আক্রমণ করে হত্যা করলাম। মুসলিমগণ পালাতে লাগলে আমিও তাঁদের সঙ্গে পালালাম। হঠাৎ লোকের মাঝে 'উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)- কে দেখতে পেলাম। তাকে বললাম, লোকজনের অবস্থা কী? তিনি বললেন, আল্লাহ্র যা ইচ্ছা।এরপর লোকেরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর নিকট ফিরে এলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “যে (মুসলিম) ব্যক্তি কাউকে হত্যা করেছে বলে প্রমাণ পেশ করতে পারবে নিহত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পদ সে-ই পাবে। আমি যাকে হত্যা করেছি তার সম্পর্কে সাক্ষী খোঁজার জন্য আমি দাঁড়ালাম। কিন্তু আমার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে এমন কাউকে পেলাম না। তখন বসে পড়লাম। এরপর আমার সুযোগমত ঘটনাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- কে জানালাম। তখন তাঁর পাশে উপবিষ্ট একজন বললেন- উল্লিখিত নিহত ব্যক্তির হাতিয়ার আমার কাছে আছে, সেগুলো আমাকে দিয়ে দেয়ার জন্য আপনি তাকে সম্মত করুন।তখন আবূ বাক্র (রাঃ) বললেন, না, তা হতে পারে না। আল্লাহ্র সিংহদের এক সিংহ যে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের পক্ষ হয়ে যুদ্ধ করেছে তাকে না দিয়ে এ কুরাইশী দুর্বল ব্যক্তিকে তিনি [নবী (ﷺ)] দিতে পারেন না। রাবী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়ালেন এবং আমাকে তা দিয়ে দিলেন। আমি এর দ্বারা একটি বাগান কিনলাম। আর ইসলাম গ্রহণের পর এটিই ছিল প্রথম সম্পদ, যদ্দারা আমি আমার আর্থিক বুনিয়াদ করেছি।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩২২-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায়ও আবু কাতাদাহ রাঃ-এর হুনাইন যুদ্ধের ঘটনা এসেছে। তিনি দেখলেন, এক মুশরিক পেছন দিক থেকে এক মুসলিমকে হত্যা করতে চাইছে। তিনি দ্রুত তাকে প্রতিহত করেন এবং পরে তাকে হত্যা করেন। এরপর মুসলিমরা সাময়িকভাবে পিছিয়ে গেলেও পরে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে ফিরে আসে। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, যে ব্যক্তি নিজের নিহত শত্রুর বিষয়ে প্রমাণ পেশ করবে, সে তার সালাব পাবে। আবু কাতাদাহ রাঃ প্রথমে সাক্ষী পাননি, পরে তিনি বিষয়টি নবী صلى الله عليه وسلم-কে জানান। এক ব্যক্তি অস্ত্র নিজের কাছে থাকার কথা জানালে আবু বকর রাঃ ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ান। এই হাদিসের শিক্ষা হলো, সাহসের সঙ্গে ন্যায় এবং প্রমাণ—দুইটিই গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কঠিন সময়ে মুসলিম ভাইকে রক্ষা করা বড় দায়িত্ব।
- দাবি প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।
- যে ব্যক্তি প্রকৃত প্রাপ্য, তার অধিকার অন্যের হাতে থাকা ঠিক নয়।
- নেতার কাছে বিষয় পরিষ্কারভাবে জানানো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।
