৬৪/৬১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৪৭ - তাওহিদ, সালাত ও যাকাতের দাওয়াত
বিদায় হাজ্জের পূর্বে আবু মূসা আশআরী (রাযিআল্লাহু তা‘আলা আনহু) এবং মু‘আয ইবনু জাবল (রাযিআল্লাহু তা‘আলা আনহু)-কে ইয়ামানে প্রেরণ
তাওহিদ, সালাত ও যাকাত: দাওয়াতের ধাপভিত্তিক শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪৩৪৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৩৪৭
حِبَّانُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ عَنْ زَكَرِيَّاءَ بْنِ إِسْحَاقَ عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ صَيْفِيٍّ عَنْ أَبِيْ مَعْبَدٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لِمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ حِيْنَ بَعَثَهُ إِلَى الْيَمَنِ إِنَّكَ سَتَأْتِيْ قَوْمًا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ فَإِذَا جِئْتَهُمْ فَادْعُهُمْ إِلَى أَنْ يَشْهَدُوْا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُوْلُ اللهِ فَإِنْ هُمْ طَاعُوْا لَكَ بِذَلِكَ فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللهَ قَدْ فَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِيْ كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ فَإِنْ هُمْ طَاعُوْا لَكَ بِذَلِكَ فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللهَ قَدْ فَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ فَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ فَإِنْ هُمْ طَاعُوْا لَكَ بِذَلِكَ فَإِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أَمْوَالِهِمْ وَاتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُوْمِ فَإِنَّهُ لَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ اللهِ حِجَابٌ.قَالَ أَبُوْ عَبْد اللهِ طَوَّعَتْ طَاعَتْ وَأَطَاعَتْ لُغَةٌ طِعْتُ وَطُعْتُ وَأَطَعْتُ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ)-কে ইয়ামানে পাঠানোর সময় তাঁকে বললেন, অচিরেই তুমি আহলে কিতাবদের এক গোত্রের কাছে যাচ্ছ। যখন তুমি তাদের কাছে গিয়ে পৌঁছবে তখন তাদেরকে এ দা‘ওয়াত দেবে তারা যেন সাক্ষ্য দেয় যে ‘আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল’, এরপর তারা যদি তোমার এ কথা মেনে নেয়, তখন তাদেরকে এ কথা জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তোমাদের উপর দিনে ও রাতে পাঁচবার সালাত ফরজ করে দিয়েছেন।তারা তোমার এ কথা মেনে নিলে তুমি তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তোমাদের উপর যাকাত ফরজ করে দিয়েছেন, যা তাদের বিত্তশালীদের নিকট হতে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের অভাবগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে। যদি তারা তোমার এ কথা মেনে নেয়, তা হলে (যাকাত গ্রহণ কালে) তাদের মালের উৎকৃষ্টতম অংশ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে। মাযলুমদের বদদোয়াকে ভয় করবে, কেননা মাযলুমের বদদোয়া এবং আল্লাহর মাঝখানে কোন আড়াল থাকে না।
আবূ ‘আবদুল্লাহ [ইমাম বুখারী (রহঃ)] বলেন, طَوَّعَتْ، طَاعَتْ এবং أَطَاعَتْ সমার্থবোধক শব্দ, طِعْتُ، طُعْتُ এবং أَطَعْتُ -এগুলোর একই অর্থ।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৪৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) মু‘আয ইবন জাবাল (রাঃ)-কে ইয়ামানে পাঠানোর সময় দাওয়াতের ধাপ শিখিয়েছেন। তিনি জানালেন, তিনি আহলে কিতাবের কাছে যাবেন। প্রথমে তাদেরকে সাক্ষ্য দেওয়ার দাওয়াত দিতে হবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহর রাসূল। তারা তা মেনে নিলে জানাতে হবে, আল্লাহ দিনে ও রাতে পাঁচবার সালাত ফরজ করেছেন। তারপর তারা তা মেনে নিলে জানাতে হবে, যাকাত ফরজ; যা ধনীদের থেকে নেওয়া হবে এবং অভাবগ্রস্তদের মাঝে দেওয়া হবে। যাকাত নেওয়ার সময় উৎকৃষ্ট মাল নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। শেষে নবী (صلى الله عليه وسلم) মাজলুমের বদদোয়া থেকে ভয় করতে বলেছেন, কারণ তার ও আল্লাহর মাঝে কোনো আড়াল থাকে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাওয়াতের শুরু তাওহিদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য দিয়ে।
- সালাত ও যাকাত ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ফরজ কাজ।
- যাকাত গ্রহণে মানুষের সেরা মাল নিয়ে কষ্ট দেওয়া ঠিক নয়।
- মাজলুমের বদদোয়া থেকে সতর্ক থাকা উচিত।
