৬৪/৬৩. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৫৬ - যুল খালাসা অভিযানে দোয়ার বরকত

যুল খালাসার যুদ্ধ

যুল খালাসা অভিযান: নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর দোয়া ও তাওহিদের কাজ

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৩৫৬

مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيْلُ حَدَّثَنَا قَيْسٌ قَالَ قَالَ لِيْ جَرِيْرٌ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لِي النَّبِيُّ ﷺ أَلَا تُرِيْحُنِيْ مِنْ ذِي الْخَلَصَةِ وَكَانَ بَيْتًا فِيْ خَثْعَمَ يُسَمَّى الْكَعْبَةَ الْيَمانِيَةَ فَانْطَلَقْتُ فِيْ خَمْسِيْنَ وَمِائَةِ فَارِسٍ مِنْ أَحْمَسَ وَكَانُوْا أَصْحَابَ خَيْلٍ وَكُنْتُ لَا أَثْبُتُ عَلَى الْخَيْلِ فَضَرَبَ فِيْ صَدْرِيْ حَتَّى رَأَيْتُ أَثَرَ أَصَابِعِهِ فِيْ صَدْرِيْ وَقَالَ اللهُمَّ ثَبِّتْهُ وَاجْعَلْهُ هَادِيًا مَهْدِيًّافَانْطَلَقَ إِلَيْهَا فَكَسَرَهَا وَحَرَّقَهَا ثُمَّ بَعَثَ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقَالَ رَسُوْلُ جَرِيْرٍ وَالَّذِيْ بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا جِئْتُكَ حَتَّى تَرَكْتُهَا كَأَنَّهَا جَمَلٌ أَجْرَبُ قَالَ فَبَارَكَ فِيْ خَيْلِ أَحْمَسَ وَرِجَالِهَا خَمْسَ مَرَّاتٍ.

জারীর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন, তুমি কি আমাকে যুল খালাসা থেকে স্বস্তি দেবে না? যুল খালাসা ছিল খাসআম গোত্রের একটি ঘর, যার নাম দেয়া হয়েছিল ইয়ামানী কা'বা। এ কথা শুনে আমি আহ্‌মাস গোত্র থেকে একশ' পঞ্চাশ জন অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে চললাম। তাঁদের সকলেই অশ্ব পরিচালনায় পারদর্শী ছিল। আর আমি তখন ঘোড়ার পিঠে স্থিরভাবে বসতে পারছিলাম না। কাজেই নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার বুকের উপর হাত দিয়ে আঘাত করলেন। এমন কি আমি আমার বুকের উপর তাঁর আঙ্গুলগুলোর ছাপ পর্যন্ত দেখতে পেলাম। তিনি দোয়া করলেন, হে আল্লাহ! একে স্থির রাখুন এবং তাঁকে হিদায়াত দানকারী ও হিদায়াত লাভকারী বানিয়ে দিন।এরপর জারীর (রাঃ) সেখানে গেলেন এবং ঘরটি ভেঙ্গে দিলেন আর তা জ্বালিয়ে দিলেন। এরপর তিনি [জারীর (রাঃ)] রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর কাছে দূত পাঠালেন। তখন জারীরের দূত [রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে] বলল, সেই মহান সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্য বাণী দিয়ে পাঠিয়েছেন, আমি ঘরটিকে চর্মরোগে আক্রান্ত কাল উটের মতো রেখে আপনার কাছে এসেছি। রাবী বলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আহমাস গোত্রের অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনীর জন্য পাঁচবার বারাকাতের দোয়া করলেন।

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৫৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে জারীর (রাঃ)-এর যুল খালাসা অভিযানের বিস্তারিত এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে যুল খালাসা থেকে স্বস্তি দিতে বলেন। সেটি ছিল খাসআম গোত্রের একটি ঘর, যাকে ইয়ামানী কাবা বলা হতো। জারীর (রাঃ) আহমাস গোত্রের একশ পঞ্চাশ জন অশ্বারোহী নিয়ে বের হন। তাঁরা অশ্বচালনায় দক্ষ ছিলেন, কিন্তু জারীর (রাঃ) ঘোড়ায় স্থির থাকতে পারতেন না। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর বুকের উপর হাত রেখে দোয়া করেন—আল্লাহ তাঁকে স্থির রাখুন এবং হিদায়াতদানকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্ত করুন। এরপর তিনি যান, ঘরটি ভেঙে জ্বালিয়ে দেন এবং সংবাদ পাঠান। নবী (صلى الله عليه وسلم) আহমাস গোত্রের অশ্বারোহী ও পদাতিকদের জন্য পাঁচবার বরকতের দোয়া করেন। হাদিসে দোয়া, দায়িত্ব পালন ও তাওহিদের গুরুত্ব একসঙ্গে দেখা যায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর দোয়া জারীর (রাঃ)-এর কাজে সাহস ও স্থিরতার কারণ হয়েছে।
  • জারীর (রাঃ) নিজের দুর্বলতা নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে জানান।
  • নির্দিষ্ট নির্দেশ পেয়ে তিনি যুল খালাসার কাজ সম্পন্ন করেন।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم) কাজের পরে আহমাসের জন্য বরকতের দোয়া করেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন