৮/৫৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৯ - অপবাদ থেকে মুক্তি ও মসজিদে আশ্রয়
মসজিদে পুরুষদের নিদ্রা যাওয়া
وَقَالَ أَبُو قِلَابَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَدِمَ رَهْطٌ مِنْ عُكْلٍ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ فَكَانُوا فِي الصُّفَّةِ وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ ؓ كَانَ أَصْحَابُ الصُّفَّةِ الْفُقَرَاءَ.আবূ কিলাবাহ (রহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন: ‘উকল গোত্রের কতিপয় ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট আসলেন এবং সুফ্ফায় অবস্থান করলেন। ‘আবদুর রহমান ইবন আবূ বকর (রাঃ) বলেন: সুফ্ফাবাসীগণ ছিলেন দরিদ্র।"
মিথ্যা অপবাদ থেকে মুক্তি ও আল্লাহর আশ্চর্য সাহায্য
সহীহ বুখারী : ৪৩৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৩৯
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ وَلِيدَةً، كَانَتْ سَوْدَاءَ لِحَىٍّ مِنَ الْعَرَبِ، فَأَعْتَقُوهَا، فَكَانَتْ مَعَهُمْ قَالَتْ فَخَرَجَتْ صَبِيَّةٌ لَهُمْ عَلَيْهَا وِشَاحٌ أَحْمَرُ مِنْ سُيُورٍ قَالَتْ فَوَضَعَتْهُ أَوْ وَقَعَ مِنْهَا، فَمَرَّتْ بِهِ حُدَيَّاةٌ وَهْوَ مُلْقًى، فَحَسِبَتْهُ لَحْمًا فَخَطَفَتْهُ قَالَتْ فَالْتَمَسُوهُ فَلَمْ يَجِدُوهُ قَالَتْ فَاتَّهَمُونِي بِهِ قَالَتْ فَطَفِقُوا يُفَتِّشُونَ حَتَّى فَتَّشُوا قُبُلَهَا قَالَتْ وَاللَّهِ إِنِّي لَقَائِمَةٌ مَعَهُمْ، إِذْ مَرَّتِ الْحُدَيَّاةُ فَأَلْقَتْهُ قَالَتْ فَوَقَعَ بَيْنَهُمْ قَالَتْ فَقُلْتُ هَذَا الَّذِي اتَّهَمْتُمُونِي بِهِ ـ زَعَمْتُمْ ـ وَأَنَا مِنْهُ بَرِيئَةٌ، وَهُوَ ذَا هُوَ قَالَتْ فَجَاءَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَأَسْلَمَتْ.قَالَتْ عَائِشَةُ فَكَانَ لَهَا خِبَاءٌ فِي الْمَسْجِدِ أَوْ حِفْشٌ قَالَتْ فَكَانَتْ تَأْتِينِي فَتَحَدَّثُ عِنْدِي قَالَتْ فَلاَ تَجْلِسُ عِنْدِي مَجْلِسًا إِلاَّ قَالَتْ وَيَوْمَ الْوِشَاحِ مِنْ أَعَاجِيبِ رَبِّنَا أَلاَ إِنَّهُ مِنْ بَلْدَةِ الْكُفْرِ أَنْجَانِي قَالَتْ عَائِشَةُ فَقُلْتُ لَهَا مَا شَأْنُكِ لاَ تَقْعُدِينَ مَعِي مَقْعَدًا إِلاَّ قُلْتِ هَذَا قَالَتْ فَحَدَّثَتْنِي بِهَذَا الْحَدِيثِ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কোন আরব গোত্রের একটা কালো দাসী ছিল। তারা তাকে আযাদ করে দিল। অতঃপর সে তাদের সাথেই থেকে গেল। সে বলেছে যে, তাদের একটি মেয়ে গলায় লাল চামড়ার উপর মূল্যবান পাথর খচিত হার পরে বাইরে গেল। দাসী বলেছেঃ সে হারটা হয়ত নিজে কোথাও রেখে দিয়েছিল, অথবা কোথাও পড়ে গিয়েছিল। তখন একটা চিল তা পড়ে থাকা অবস্থায় গোশ্তের টুকরা মনে করে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল।দাসী বলেছেঃ অতঃপর গোত্রের লোকেরা বেশ খোঁজাখুঁজি করতে লাগলো। কিন্তু তারা তা পেল না। তখন তারা আমার উপর এর দোষ চাপাল। সে বলেছেঃ তারা আমার উপর তল্লাশী শুরু করলো, এমন কি আমার লজ্জাস্থানেও। দাসীটি বলেছেঃ আল্লাহ্র কসম! আমি তাদের সাথে সেই অবস্থায় দাঁড়ানো ছিলাম, এমন সময় চিলটি উড়ে যেতে যেতে হারটি ফেলে দিল। সে বলেছেঃ তাদের সামনেই তা পড়লো। তখন আমি বললামঃ তোমরা তো এর জন্যই আমার উপর দোষ চাপিয়েছিলে। তোমরা আমার সম্পর্কে সন্দেহ করেছিলে অথচ আমি এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নির্দোষ। এই তো সেই হার!সে বলেছেঃ অতঃপর সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে ইসলাম গ্রহণ করলো। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ তার জন্য মসজিদে (নাবাবীতে) একটা তাঁবু অথবা ছাপড়া করে দেয়া হয়েছিল। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ সে (দাসীটি) আমার নিকট আসতো আর আমার সঙ্গে কথাবার্তা বলতো।সে আমার নিকট যখনই বসতো তখনই বলতোঃ (وَيَومُ الوِشَاحِ مِن تَحَاجِيبِ رَبِّنَا * اَلاَ اِنَّهُ مِن بَلدَةِ الكُفرِ اَنجَانِي) “সেই হারের দিনটি আমার প্রতিপালকের আশ্চর্য ঘটনা বিশেষ। জেনে রাখুন সে ঘটনাটি আমাকে কুফরের শহর হতে মুক্তি দিয়েছে।”‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি তাকে বললামঃ কি ব্যাপার, তুমি আমার নিকট বসলেই সে এ কথাটা বলে থাক? ‘আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ সে তখন আমার নিকট উক্ত ঘটনা বর্ণনা করল।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক মুক্ত দাসীর ঘটনা এসেছে। একটি মেয়ের লাল চামড়ার হার হারিয়ে যায়। একটি চিল সেটিকে গোশত ভেবে নিয়ে যায়। কিন্তু গোত্রের লোকেরা দাসীটির উপর অপবাদ দেয় এবং তাকে কঠোরভাবে তল্লাশি করে। পরে সেই চিল হারটি ফেলে দিলে সবার সামনে তার নির্দোষতা প্রমাণিত হয়। এরপর সে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে ইসলাম গ্রহণ করে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, তার জন্য মসজিদে একটি তাঁবু বা ছাপড়া ছিল। সে প্রায়ই এসে সেই ঘটনার কথা বলত এবং এটিকে তার রবের আশ্চর্য ঘটনা হিসেবে মনে করত। হাদিসটি অপবাদ, নির্দোষতা, আল্লাহর সাহায্য এবং মসজিদে আশ্রয়ের শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী করা অন্যায়।
- নির্দোষ মানুষের সম্মান রক্ষা করা জরুরি।
- কঠিন ঘটনায় আল্লাহর সাহায্য আসতে পারে, তবে তা তাঁর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল।
- মসজিদ অসহায় মানুষের আশ্রয়ের জায়গা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে।
