৬৫/৯৪. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৫৮০ - উত্তরাধিকার ও ওসিয়তের সঠিক বোঝাপড়া

আল্লাহর বাণীঃ আমি উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করে দিয়েছি সে সম্পত্তির যা ছেড়ে যায় পিতা-মাতা ও নিকট-আত্মীয়রা। আর যাদের সঙ্গে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছ তাদের দিয়ে দাও তাদের প্রাপ্য অংশ। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা। (সূরা আন-নিসা ৪/৩৩)

উত্তরাধিকার বিধান: চুক্তি, ভ্রাতৃত্ব ও ওসিয়তের শিক্ষা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৫৮০

الصَّلْتُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا أَبُوْ أُسَامَةَ عَنْ إِدْرِيْسَ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا ﴾وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ﴿ قَالَ وَرَثَةً ﴾وَالَّذِيْنَ عَاقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ﴿ كَانَ الْمُهَاجِرُوْنَ لَمَّا قَدِمُوا الْمَدِيْنَةَ يَرِثُ الْمُهَاجِرِيُّ الْأَنْصَارِيَّ دُوْنَ ذَوِيْ رَحِمِهِ لِلْأُخُوَّةِ الَّتِيْ آخَى النَّبِيُّ ﷺ بَيْنَهُمْ فَلَمَّا نَزَلَتْ : ﴾وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ﴿ نُسِخَتْ ثُمَّ قَالَ : {وَالَّذِيْنَ عَاقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ﴿مِنْ النَّصْرِ وَالرِّفَادَةِ وَالنَّصِيْحَةِ وَقَدْ ذَهَبَ الْمِيْرَاثُ وَيُوْصَي لَهُسَمِعَ أَبُوْ أُسَامَةَ إِدْرِيْسَ وَسَمِعَ إِدْرِيْسُ طَلْحَةَ.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ হচ্ছে বংশীয় উত্তরাধিকারী, وَالَّذِينَ عَاقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ হচ্ছে মুহাজিরগণ যখন মদিনায় এসেছিলেন তখন তাঁরা আনসারদের উত্তরাধিকারী হতেন। আত্মীয়তার জন্য নয় বরং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কর্তৃক তাঁদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপনের কারণে। যখন وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ অবতীর্ণ হল, তখন এ হুকুম রহিত হয়ে গেল। তারপর বললেন, যাদের সঙ্গে তোমরা চুক্তি করে থাক সাহায্য-সহযোগিতা ও পরস্পরের উপকার করার। আগের উত্তরাধিকার ব্যবস্থা রহিত হল এবং এদের জন্য ওয়াসীয়াত বৈধ করা হল। হাদীসটি আবূ উসামাহ ইদরীসের কাছে থেকে এবং ইদরীস ত্বলহার নিকট হতে শুনেছেন।

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৫৮০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় হলো উত্তরাধিকার। এখানে ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূরা আন-নিসার আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, “মাওয়ালী” বলতে বংশীয় উত্তরাধিকারী বোঝানো হয়েছে। মদিনায় মুহাজিররা আসার পর নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের সঙ্গে আনসারদের ভ্রাতৃত্ব গড়ে দেন। তখন সেই ভ্রাতৃত্বের কারণে একজন মুহাজির একজন আনসারীর উত্তরাধিকারী হতেন। পরে যখন “প্রত্যেকের জন্য আমি উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করেছি” আয়াত নাযিল হলো, তখন আগের সেই উত্তরাধিকার ব্যবস্থা রহিত হয়ে গেল। তবে চুক্তিবদ্ধ সম্পর্কের জায়গা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি; সাহায্য, সহযোগিতা, উপকার ও নসিহতের সম্পর্ক বাকি থাকল। আর তাদের জন্য ওসিয়ত করার সুযোগ বৈধ করা হলো। তাই এই হাদিস উত্তরাধিকার আইন, ওসিয়ত এবং চুক্তির সম্পর্ককে আলাদা করে বুঝতে সাহায্য করে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • উত্তরাধিকার মূলত বংশীয় হকদারদের জন্য নির্ধারিত।
  • ভ্রাতৃত্বের বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে আগে উত্তরাধিকার চালু থাকলেও পরে তা রহিত হয়।
  • চুক্তিবদ্ধ মানুষের সঙ্গে সাহায্য, উপকার ও নসিহতের সম্পর্ক রাখা যায়।
  • যেখানে উত্তরাধিকার নেই, সেখানে বৈধ সীমায় ওসিয়তের সুযোগ থাকতে পারে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন