৬৫/৯৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৫৮২ - কুরআন তিলাওয়াত শুনে নবীর অশ্রু
‘‘আর তখন কী অবস্থা হবে যখন আমি উপস্থিত করব প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী এবং আপনাকে তাদের উপর উপস্থিত করব সাক্ষী রূপে?’’ (সূরা আন-নিসা ৪/৪১)
কুরআন তিলাওয়াত শোনার ফজিলত: নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর চোখে অশ্রু
সহীহ বুখারী : ৪৫৮২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৫৮২
صَدَقَةُ أَخْبَرَنَا يَحْيَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ عَنْ عَبِيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ يَحْيَى بَعْضُ الْحَدِيْثِ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ قَالَ قَالَ لِي النَّبِيُّ ﷺ اقْرَأْ عَلَيَّ قُلْتُ آقْرَأُ عَلَيْكَ وَعَلَيْكَ أُنْزِلَ قَالَ فَإِنِّيْ أُحِبُّ أَنْ أَسْمَعَهُ مِنْ غَيْرِيْ فَقَرَأْتُ عَلَيْهِ سُوْرَةَ النِّسَاءِ حَتَّى بَلَغْتُ ﴾فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍم بِشَهِيْدٍ وَّجِئْنَا بِكَ عَلٰى هٰٓؤُلَآءِ شَهِيْدًا﴿ قَالَ : أَمْسِكْ فَإِذَا عَيْنَاهُ تَذْرِفَانِ.
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) আমাকে বললেন, আমার কাছে কুরআন পাঠ কর। আমি বললাম, আমি আপনার কাছে পাঠ করব? অথচ আপনার কাছেই তা অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেন, অন্যের মুখ থেকে শুনতে আমি পছন্দ করি। এরপর আমি তাঁর নিকট সূরা ‘নিসা’ পাঠ করলাম, যখন আমি فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلَاءِ شَهِيدًا পর্যন্ত পাঠ করলাম, তিনি বললেন, থাম, থাম, তখন তাঁর দু’চোখ হতে টপ টপ করে অশ্রু ঝরছিল।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৫৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো কুরআন তিলাওয়াত। নবী (صلى الله عليه وسلم) ইবনু মাসউদ (রাঃ)-কে বললেন, তাঁর কাছে কুরআন পাঠ করতে। ইবনু মাসউদ (রাঃ) অবাক হয়ে বললেন, কুরআন তো আপনার কাছেই নাযিল হয়েছে, আমি কীভাবে আপনার কাছে পড়ব? নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, তিনি অন্যের মুখ থেকে কুরআন শুনতে ভালোবাসেন। এরপর সূরা নিসা পাঠ করা হলো। যখন সেই আয়াতে পৌঁছানো হলো, যেখানে প্রত্যেক উম্মত থেকে সাক্ষী আনা এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে তাঁদের উপর সাক্ষী করা নিয়ে কথা আছে, তখন তিনি থামতে বললেন। তখন তাঁর দুই চোখ থেকে অশ্রু ঝরছিল। এই হাদিস কুরআন শুনে হৃদয় নরম হওয়া, আখিরাতের কথা মনে করা এবং তিলাওয়াতের প্রতি ভালোবাসার সুন্দর শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআন নিজে পড়ার পাশাপাশি মন দিয়ে শোনাও গুরুত্বপূর্ণ।
- আখিরাতের আয়াত হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) অন্যের মুখ থেকে কুরআন শুনতে পছন্দ করতেন।
- কুরআন শুনে কান্না দুর্বলতা নয়; এটি হৃদয়ের নরমতার পরিচয় হতে পারে।
