৬৫/১২২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬১৫ - হালালকে হারাম না করা
আল্লাহর বাণীঃ ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা হারাম করো না সেসব উৎকৃষ্ট বস্তু যা আল্লাহ তোমাদের জন্য হালাল করেছেন এবং সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না। (সূরা আল-মায়িদাহ ৫/৮৭)
হালালকে হারাম না করা: বৈধ পথ গ্রহণের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪৬১৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৬১৫
عَمْرُوْ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا خَالِدٌ عَنْ إِسْمَاعِيْلَ عَنْ قَيْسٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كُنَّا نَغْزُوْ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ وَلَيْسَ مَعَنَا نِسَاءٌ فَقُلْنَا أَلَا نَخْتَصِيْ فَنَهَانَا عَنْ ذَلِكَ فَرَخَّصَ لَنَا بَعْدَ ذَلِكَ أَنْ نَتَزَوَّجَ الْمَرْأَةَ بِالثَّوْبِ ثُمَّ قَرَأَ ﴾يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تُحَرِّمُوْا طَيِّبٰتِ مَآ أَحَلَّ اللهُ لَكُمْ﴿.
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেছেন যে, আমরা নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে যুদ্ধে বের হতাম, তখন আমাদের সঙ্গে স্ত্রীগণ থাকত না, তখন আমরা বলতাম আমরা কি খাসি হয়ে যাব না? তিনি আমাদেরকে এ থেকে নিষেধ করলেন এবং কাপড়ের বিনিময়ে হলেও মহিলাদেরকে বিয়ে করার অর্থাৎ নিকাহে মুত‘আর অনুমতি দিলেন এবং পাঠ করলেন ঃ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللهُ لَكُمْ।
[১] প্রকাশ থাকে যে, মুতআ বিবাহ খায়বারের যুদ্ধে চিরতরে হারাম করা হয়েছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬১৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো আল্লাহর হালালকে নিজের ওপর হারাম না করা। আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, তারা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে যুদ্ধে বের হতেন, সঙ্গে স্ত্রীগণ থাকতেন না। তখন তারা খাসি হয়ে যাওয়ার কথা বললে নবী (صلى الله عليه وسلم) তা নিষেধ করেন। পরে কাপড়ের বিনিময়ে হলেও নারীদের বিয়ে করার অনুমতির কথা আসে এবং আয়াত পাঠ করা হয়: “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ তোমাদের জন্য যে পবিত্র জিনিস হালাল করেছেন, তা হারাম করো না।” এই হাদিসে শরীর, আকাঙ্ক্ষা ও বৈধ পথের ভারসাম্যের শিক্ষা আছে। তবে এখানে যে মুত‘আর অনুমতির কথা এসেছে, তা নির্দিষ্ট বর্ণনার অংশ; অতিরিক্ত বিধান আলোচনা না করে হাদিসের সরাসরি বক্তব্যেই থাকা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিজের ওপর আল্লাহর হালাল জিনিস হারাম করা ঠিক নয়।
- চরম সিদ্ধান্তের বদলে বৈধ পথ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) খাসি হয়ে যাওয়ার চিন্তা থেকে নিষেধ করেছেন।
- ধর্মীয় জীবনে ভারসাম্য ও বৈধতার সীমা মানা দরকার।
