৬৫/১২৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬২১ - অনর্থক প্রশ্ন থেকে সাবধান থাকার শিক্ষা
আল্লাহর বাণীঃ ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা এমন বিষয়ে প্রশ্ন করো না যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তোমাদের খারাপ লাগবে। (সূরা আল-মায়িদাহ ৫/১০১)
অনর্থক প্রশ্ন: যে কথা জানলে কষ্ট হতে পারে
সহীহ বুখারী : ৪৬২১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৬২১
مُنْذِرُ بْنُ الْوَلِيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجَارُوْدِيُّ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُوْسَى بْنِ أَنَسٍ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ خَطَبَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ خُطْبَةً مَا سَمِعْتُ مِثْلَهَا قَطُّ قَالَ لَوْ تَعْلَمُوْنَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيْلًا وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيْرًا قَالَ فَغَطَّى أَصْحَابُ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وُجُوْهَهُمْ لَهُمْ خَنِيْنٌ فَقَالَ رَجُلٌ مَنْ أَبِيْ قَالَ فُلَانٌ فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ : ﴾لَا تَسْأَلُوْا عَنْ أَشْيَآءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ﴿رَوَاهُ النَّضْرُ وَرَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ عَنْ شُعْبَةَ.
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন একটি খুতবা দিলেন যেমনটি আমি আর কখনো শুনিনি। তিনি বলেছেন, “আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে তবে তোমরা হাসতে খুব কমই এবং অধিক অধিক করে কাঁদতে”। তিনি বলেন, সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) নিজ নিজ চেহারা আবৃত করে গুনগুন করে কাঁদতে শুরু করলেন, এরপর এক ব্যক্তি (‘আবদুল্লাহ ইবনু হুযাইফাহ বা অন্য কেউ) বলল, আমার পিতা কে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “অমুক”। তখন এই আয়াত অবতীর্ণ হল لاَ تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ এই হাদীসটি শু’বাহ থেকে নযর এবং রাওহ ইবনু ‘উবাদাহ বর্ণনা করেছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৬২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর এক গভীর খুতবার কথা এসেছে। আনাস (রাঃ) বলেন, এমন খুতবা তিনি আর কখনো শোনেননি। নবীজি বলেন, তিনি যা জানেন, মানুষ তা জানলে তারা কম হাসত এবং বেশি কাঁদত। এই কথা শুনে সাহাবীরা মুখ ঢেকে কান্না শুরু করেন। এরপর এক ব্যক্তি নিজের পিতার পরিচয় জানতে প্রশ্ন করে। তখন আয়াত নাজিল হয়, এমন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করো না, যা প্রকাশ হলে তোমাদের কষ্ট দেবে। এখানে অনর্থক প্রশ্ন, অহেতুক কৌতূহল এবং এমন জিজ্ঞাসার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে যা মানুষের উপকারের বদলে দুঃখ বাড়াতে পারে। হাদিসটি শেখায়, দ্বীনের বিষয়ে প্রশ্ন করা ভালো, কিন্তু প্রশ্নে আদব, প্রয়োজন এবং নিয়ত থাকা দরকার। যা জানলে ক্ষতি বা কষ্ট হতে পারে, সে ধরনের প্রশ্ন থেকে বেঁচে থাকা মুমিনের জন্য নিরাপদ পথ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দ্বীনের বিষয়ে প্রশ্ন করার সময় আদব ও প্রয়োজন বিবেচনা করা উচিত।
- যে জ্ঞান মানুষকে অহেতুক কষ্টে ফেলতে পারে, তা জানতে জেদ করা ঠিক নয়।
- নবীজির সতর্কবাণী সাহাবীদের অন্তরে গভীর ভয় সৃষ্টি করেছিল।
- হাসি-তামাশার মানসিকতায় ধর্মীয় প্রশ্ন করা অনুচিত।
