৬৫/২৯৩. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৮২৭ - কুরআনের আয়াত কাউকে ভুলভাবে প্রয়োগ না করা

পরিচ্ছেদ নাই।

কুরআনের আয়াত প্রয়োগে সতর্কতা: আয়িশা (রাঃ)-এর জবাব

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৮২৭

مُوْسَى بْنُ إِسْمَاعِيْلَ حَدَّثَنَا أَبُوْ عَوَانَةَ عَنْ أَبِيْ بِشْرٍ عَنْ يُوْسُفَ بْنِ مَاهَكَ قَالَ كَانَ مَرْوَانُ عَلَى الْحِجَازِ اسْتَعْمَلَهُ مُعَاوِيَةُ فَخَطَبَ فَجَعَلَ يَذْكُرُ يَزِيْدَ بْنَ مُعَاوِيَةَ لِكَيْ يُبَايَعَ لَهُ بَعْدَ أَبِيْهِ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِيْ بَكْرٍ شَيْئًا فَقَالَ خُذُوْهُ فَدَخَلَ بَيْتَ عَائِشَةَ فَلَمْ يَقْدِرُوْا فَقَالَ مَرْوَانُ إِنَّ هَذَا الَّذِيْ أَنْزَلَ اللهُ فِيْهِ {وَالَّذِيْ قَالَ لِوَالِدَيْهِ أُفٍّ لَّكُمَآ أَتَعِدَانِنِيْ} فَقَالَتْ عَائِشَةُ مِنْ وَرَاءِ الْحِجَابِ مَا أَنْزَلَ اللهُ فِيْنَا شَيْئًا مِنَ الْقُرْآنِ إِلَّا أَنَّ اللهَ أَنْزَلَ عُذْرِي.

ইউসুফ ইব্‌নু মাহাক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

মারওয়ান ছিলেন হিজাযের গভর্নর। তাকে নিয়োগ করেছিলেন মু‘আবিয়াহ (রাঃ)। তিনি একদা খুতবা দিলেন এবং তাতে ইয়াযীদ ইব্‌নু মু‘আবিয়ার কথা বারবার বলতে লাগলেন, যেন তাঁর পিতার মৃত্যুর পর তার বায়‘আত গ্রহণ করা হয়। এ সময় তাকে ‘আবদুর রহমান ইব্‌নু আবূ বাক্র কিছু কথা বললেন। মারওয়ান বললেন, তাঁকে পাকড়াও কর। তৎক্ষণাৎ তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঘরে চলে গেলেন। তারা তাঁকে ধরতে পারল না।তারপর মারওয়ান বললেন, এ তো সেই লোক যার সম্বন্ধে আল্লাহ্ অবতীর্ণ করেছেন, “আর এমন লোক আছে যে, মাতাপিতাকে বলে, তোমাদের জন্য আফসোস! তোমরা কি আমাকে এ ভয় দেখাতে চাও যে, আমি পুনরুত্থিত হব যদিও আমার পূর্বে বহু পুরুষ গত হয়েছে, তখন তার মাতাপিতা আল্লাহ্‌র নিকট ফরিয়াদ করে বলে, দুর্ভোগ তোমার জন্য। বিশ্বাস স্থাপন কর, আল্লাহ্‌র প্রতিশ্র“তি অবশ্যই সত্য। কিন্তু সে বলে এ তো অতীতকালের উপকথা ব্যতীত কিছুই নয়।”

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৮২৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে একটি রাজনৈতিক খুতবার সময়কার ঘটনা এসেছে। মারওয়ান ইয়াজিদ ইবনু মুআবিয়ার বায়আতের কথা বলছিলেন। আবদুর রহমান ইবনু আবু বকর কিছু কথা বললে তাঁকে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়; তিনি আয়িশা (রাঃ)-এর ঘরে চলে যান। এরপর মারওয়ান একটি আয়াত তাঁর ওপর প্রয়োগ করতে চাইলে আয়িশা (রাঃ) পর্দার আড়াল থেকে পরিষ্কার করে বলেন, তাঁদের পরিবার সম্পর্কে কুরআনে কিছু নাজিল হয়নি, শুধু তাঁর নির্দোষিতা সম্পর্কে আয়াত নাজিল হয়েছে। এই হাদিসের শিক্ষা হলো, কুরআনের আয়াত কাউকে আঘাত করার জন্য ভুলভাবে ব্যবহার করা খুব সংবেদনশীল বিষয়। আয়াতের প্রয়োগে জ্ঞান, সততা এবং সাবধানতা দরকার। কারো ওপর কোনো আয়াত চাপিয়ে দেওয়ার আগে প্রমাণ ও সঠিক বোঝাপড়া থাকা জরুরি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কুরআনের আয়াত ব্যক্তির ওপর প্রয়োগে সতর্কতা দরকার।
  • ভুল অভিযোগের জবাব জ্ঞান ও দৃঢ়তার সঙ্গে দেওয়া যায়।
  • আয়িশা (রাঃ)-এর বর্ণনা তাঁর নির্দোষিতা বিষয়টি স্পষ্ট করে।
  • কথার উত্তাপে আয়াতের ভুল ব্যবহার করা উচিত নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন