৬৫/৩৩২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৮৮৯ - অভাবেও মেহমানকে প্রাধান্য
আল্লাহর বাণী: এবং তাঁরা তাঁদের নিজেদের উপর প্রাধান্য দেয় (নিজেরা অভাবগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও) শেষ পর্যন্ত। (সূরা আল-হাশর ৫৯/৯)
নিজের অভাবেও মেহমানদারির অনন্য শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪৮৮৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৮৮৯
يَعْقُوْبُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ بْنِ كَثِيْرٍ حَدَّثَنَا أَبُوْ أُسَامَةَ حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ غَزْوَانَ حَدَّثَنَا أَبُوْ حَازِمٍ الْأَشْجَعِيُّ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ أَتَى رَجُلٌ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَصَابَنِي الْجَهْدُ فَأَرْسَلَ إِلَى نِسَائِهِ فَلَمْ يَجِدْ عِنْدَهُنَّ شَيْئًا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَلَا رَجُلٌ يُضَيِّفُهُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ يَرْحَمُهُ اللهُ فَقَامَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ فَقَالَ أَنَا يَا رَسُوْلَ اللهِفَذَهَبَ إِلَى أَهْلِهِ فَقَالَ لِامْرَأَتِهِ ضَيْفُ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ لَا تَدَّخِرِيْهِ شَيْئًا قَالَتْ وَاللهِ مَا عِنْدِيْ إِلَّا قُوْتُ الصِّبْيَةِ قَالَ فَإِذَا أَرَادَ الصِّبْيَةُ الْعَشَاءَ فَنَوِّمِيْهِمْ وَتَعَالَيْ فَأَطْفِئِي السِّرَاجَ وَنَطْوِيْ بُطُوْنَنَا اللَّيْلَةَ فَفَعَلَتْ ثُمَّ غَدَا الرَّجُلُ عَلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقَالَ لَقَدْ عَجِبَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَوْ ضَحِكَ مِنْ فُلَانٍ وَفُلَانَةَ فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ ﴾وَيُؤْثِرُوْنَ عَلٰٓى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ﴿.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি রাসূল (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, আমি খুব ক্ষুধার্ত। তখন তিনি তাঁর সহধর্মিণীদের নিকট পাঠালেন; কিন্তু তিনি তাঁদের কাছে কিছুই পেলেন না। এরপর রাসূল (ﷺ) বললেন, এমন কেউ আছে কি, যে আজ রাতে এ লোকটিকে মেহমানদারী করতে পারে? আল্লাহ্ তাঁর প্রতি রহমত করবেন। তখন আনসারদের এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, আমি আছি, হে আল্লাহ্র রাসূল!এরপর তিনি তাঁকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে গেলেন এবং নিজ স্ত্রীকে বললেন, ইনি রাসূল (ﷺ)-এর মেহমান। কোন জিনিস জমা করে রাখবে না। মহিলা বলল, আল্লাহ্র কসম! আমার কাছে ছেলে-মেয়েদের খাবার ছাড়া আর কিছুই নেই। তিনি বললেন, ছেলেমেয়েরা রাতের খাবার চাইলে তুমি তাঁদেরকে ঘুম পাড়িয়ে দিও, (খাবার নিয়ে) আমার কাছে আসিও, অতঃপর বাতিটি নিভিয়ে দিও। আজ রাতে আমরা ভুখা থাকব। সুতরাং মহিলা তা-ই করল।পরদিন সকালে আনসারী সাহাবী রাসূল (ﷺ)-এর খিদমাতে আসলেন। তিনি বললেন, অমুক ব্যক্তি ও তার স্ত্রীর প্রতি আল্লাহ্ সন্তুষ্ট হয়েছেন অথবা অমুক অমুকের কাজে আল্লাহ্ হেসেছেন। এরপর আল্লাহ্ অবতীর্ণ করলেন ঃ “এবং তাঁরা তাঁদের নিজেদের উপর অন্যদের প্রাধান্য দেয় নিজেরা অভাবগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও।”
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৮৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ক্ষুধার্ত ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আসেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) ঘরে কিছু না পেয়ে সাহাবীদের জিজ্ঞেস করেন, কে তাকে আজ রাতে মেহমানদারি করবে। এক আনসারী সাহাবী তাকে বাড়িতে নেন। ঘরে ছিল শুধু সন্তানদের খাবার। তবু স্বামী-স্ত্রী মিলে সন্তানদের ঘুম পাড়িয়ে, বাতি নিভিয়ে, নিজেরা না খেয়ে মেহমানকে খাবার দেন। পরদিন নবী (صلى الله عليه وسلم) জানান, তাদের কাজে আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন বা হেসেছেন। এরপর আয়াত নাযিল হয় যে, তারা নিজেদের অভাব থাকা সত্ত্বেও অন্যকে প্রাধান্য দেয়। এই হাদিস মেহমানদারি, ইসার এবং আন্তরিক ত্যাগের বড় শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিজের অভাব থাকলেও সামর্থ্য অনুযায়ী মেহমানের সম্মান করা প্রশংসনীয়।
- স্বামী-স্ত্রীর মিলিত ভালো কাজ আল্লাহর কাছে মর্যাদার কারণ হতে পারে।
- অন্যকে প্রাধান্য দেওয়া সাহাবীদের একটি উজ্জ্বল গুণ।
- দান ও মেহমানদারিতে আন্তরিকতা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
