৬৬/১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯৮১ - কুরআন ও নবীদের মুজিজা
ওহী কীভাবে অবতীর্ণ হয় এবং সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছিল।
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ ﴾الْمُهَيْمِنُ﴿ الْأَمِينُ الْقُرْآنُ أَمِينٌ عَلَى كُلِّ كِتَابٍ قَبْلَهُইবন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, الْمُهَيْمِنُ মানে-আমীন। কুরআন পূর্ববর্তী সমস্ত আসমানী গ্রন্থের জন্য আমীন স্বরূপ।"
ওহী হলো নবী صلى الله عليه وسلم-এর বড় মুজিজা: কুরআনের মর্যাদা
সহীহ বুখারী : ৪৯৮১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৯৮১
عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوْسُفَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ حَدَّثَنَا سَعِيْدٌ الْمَقْبُرِيُّ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّﷺ مَا مِنَ الْأَنْبِيَاءِ نَبِيٌّ إِلَّا أُعْطِيَ مَا مِثْلهُ آمَنَ عَلَيْهِ الْبَشَرُ وَإِنَّمَا كَانَ الَّذِيْ أُوْتِيْتُ وَحْيًا أَوْحَاهُ اللهُ إِلَيَّ فَأَرْجُوْ أَنْ أَكُوْنَ أَكْثَرَهُمْ تَابِعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, প্রত্যেক নবীকে তাঁর যুগের প্রয়োজন মুতাবিক কিছু মুজিযা দান করা হয়েছে, যা দেখে লোকেরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে। আমাকে যে মুজিযা দেয়া হয়েছে তা হচ্ছে, ওহী- যা আল্লাহ্ আমার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন। কাজেই আমি আশা করি, কেয়ামতের দিন তাঁদের অনুসারীদের অনুপাতে আমার অনুসারীদের সংখ্যা অনেক অধিক হবে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৯৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم নবীদের মুজিজা এবং নিজের ওপর অবতীর্ণ ওহীর কথা বলেছেন। প্রত্যেক নবীকে এমন কিছু নিদর্শন দেওয়া হয়েছিল, যা দেখে মানুষ ঈমান এনেছে। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, তাঁকে যে মুজিজা দেওয়া হয়েছে তা হলো ওহী, যা আল্লাহ তাঁর প্রতি নাজিল করেছেন। এ কথার মাধ্যমে কুরআনের মর্যাদা পরিষ্কার হয়। কুরআন শুধু পাঠের বই নয়, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিল হওয়া বার্তা। হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم আশা প্রকাশ করেছেন যে, কেয়ামতের দিন তাঁর অনুসারীর সংখ্যা বেশি হবে। এখানে কোনো বাহ্যিক চমক নয়, বরং আল্লাহর ওহীই মূল দাওয়াত ও ঈমানের কারণ হিসেবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রত্যেক নবীকে তাঁদের যুগের উপযোগী মুজিজা দেওয়া হয়েছিল।
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর বিশেষ মুজিজা হলো আল্লাহর অবতীর্ণ ওহী।
- কুরআন ঈমানের পথে মানুষের জন্য বড় নিদর্শন।
- নবী صلى الله عليه وسلم কেয়ামতের দিন উম্মতের সংখ্যার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছেন।
