৬৬/৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫০০০ - ইবনু মাসউদের কুরআন জ্ঞানের মর্যাদা
নবী (ﷺ)-এর যে সব সাহাবী কারী ছিলেন।
কুরআন জ্ঞান ও ইবনু মাসউদ রাঃ-এর বিনয়ের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৫০০০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫০০০
عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ حَدَّثَنَا شَقِيْقُ بْنُ سَلَمَةَ قَالَ خَطَبَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْعُوْدٍ فَقَالَ وَاللهِ لَقَدْ أَخَذْتُ مِنْ فِيْ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ بِضْعًا وَسَبْعِيْنَ سُوْرَةً وَاللهِ لَقَدْ عَلِمَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ ﷺ أَنِّيْ مِنْ أَعْلَمِهِمْ بِكِتَابِ اللهِ وَمَا أَنَا بِخَيْرِهِمْ قَالَ شَقِيْقٌ فَجَلَسْتُ فِي الْحِلَقِ أَسْمَعُ مَا يَقُوْلُوْنَ فَمَا سَمِعْتُ رَادًّا يَقُوْلُ غَيْرَ ذَلِكَ
শাকীক ইব্নু সালামাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু মাস’উদ (রাঃ) আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন এবং বললেন, আল্লাহ্র শপথ! সত্তরেরও কিছু অধিক সূরা আমি রাসূল (ﷺ)- এর মুখ থেকে হাসিল করেছি। আল্লাহ্র কসম! নবী (ﷺ)- এর সাহাবীরা জানেন, আমি তাঁদের চেয়ে আল্লাহ্র কিতাব সম্বন্ধে অধিক জ্ঞাত; অথচ আমি তাঁদের মধ্যে সর্বোত্তম নই। শাকীক (রহঃ) বলেন, সাহাবীগণ তাঁর কথা শুনে কী বলেন তা শোনার জন্য আমি মাজলিসে বসে থাকলাম, কিন্তু আমি কাউকে অন্যরকম কথা বলে আপত্তি করতে শুনিনি।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫০০০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাঃ নিজের কুরআন জ্ঞানের কথা খুব পরিষ্কারভাবে বলেছেন। তিনি জানান, তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর মুখ থেকে সত্তরেরও বেশি সূরা সরাসরি শিখেছেন। এ কথা শুধু নিজের দাবি হিসেবে বলা হয়নি; তিনি বলেন, নবী صلى الله عليه وسلم-এর সাহাবীরাও জানতেন যে তিনি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে খুব জ্ঞানী। তবে এখানেই হাদিসের বড় শিক্ষা আছে। এত জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও তিনি বলেন, আমি তাঁদের মধ্যে সর্বোত্তম নই। অর্থাৎ কুরআন শিক্ষা মানুষকে অহংকারী নয়, বিনয়ী করে। শাকীক রহঃ মজলিসে বসে দেখলেন, কেউ তাঁর কথার বিরোধিতা করেননি। এতে বোঝা যায়, সাহাবীদের মাঝে তাঁর কুরআন জ্ঞান পরিচিত ছিল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআন সরাসরি রাসূল صلى الله عليه وسلم থেকে শেখার মর্যাদা অনেক বড়।
- ইলম থাকলেও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দাবি না করে বিনয় রাখা উচিত।
- সাহাবীরা যোগ্য ব্যক্তির কুরআন জ্ঞান স্বীকার করতেন।
- কুরআন শিক্ষার সঙ্গে আদব ও নম্রতা থাকা দরকার।
