৬৬/২৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫০৩৫ - অল্প বয়সে মুহকাম সূরা শেখা
শিশুদের কুরআন শিক্ষাদান।
অল্প বয়সে কুরআন শেখা: মুহকাম ও মুফাস্সাল সূরার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৫০৩৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫০৩৫
مُوْسَى بْنُ إِسْمَاعِيْلَ حَدَّثَنَا أَبُوْ عَوَانَةَ عَنْ أَبِيْ بِشْرٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ إِنَّ الَّذِيْ تَدْعُوْنَهُ الْمُفَصَّلَ هُوَ الْمُحْكَمُ قَالَ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ تُوُفِّيَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَأَنَا ابْنُ عَشْرِ سِنِيْنَ وَقَدْ قَرَأْتُ الْمُحْكَمَ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যে সকল সূরাকে তোমরা মুফাস্সাল [১৬০] বলো, তা হচ্ছে মুহ্কাম।[১৬১] রাবী বলেন, ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, যখন আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) ইন্তিকাল করেন, তখন আমার বয়স দশ বছর এবং আমি ঐ বয়সেই মুহ্কাম আয়াতসমূহ শিখে নিয়েছিলাম।
[১৬০] সূরা হুজুরাত থেকে সূরা নাস পর্যন্ত সূরাসমূহকে মুফাস্সাল বলা হয়।[১৬১] যে সকল আয়াতের ভাষা প্রাঞ্জল এবং অর্থ নির্ধারণের ব্যাপারে কোন অসুবিধা হয় না ও সন্দেহের অবকাশ নেই তাকে ‘মুহ্কাম আয়াত’ বলে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫০৩৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাঈদ ইবনু জুবাইর (রহঃ) বলেন, যেসব সূরাকে তোমরা মুফাস্সাল বলো, তা-ই মুহকাম। এরপর ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর কথা এসেছে। তিনি বলেন, রাসূল صلى الله عليه وسلم ইন্তিকাল করার সময় তাঁর বয়স ছিল দশ বছর, আর তিনি তখন মুহকাম আয়াতসমূহ শিখে নিয়েছিলেন। এখানে মূল বিষয় হলো অল্প বয়সে কুরআন শেখার গুরুত্ব এবং সাহাবীদের কুরআন শিক্ষার প্রতি আগ্রহ। হাদিসে ‘মুহকাম’ ও ‘মুফাস্সাল’ শব্দ এসেছে, এবং বর্ণনাতেই এদের সম্পর্ক বোঝানো হয়েছে। তাই অতিরিক্ত ব্যাখ্যায় না গিয়ে বলা যায়, ইবনু আব্বাস (রাঃ) ছোট বয়সেই কুরআনের একটি অংশ শিখেছিলেন, যা কুরআন শিক্ষার আগ্রহকে সামনে আনে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অল্প বয়সে কুরআন শেখা সাহাবীদের জীবনে দেখা যায়।
- মুফাস্সাল সূরাকে এই বর্ণনায় মুহকাম বলা হয়েছে।
- কুরআন শিক্ষা বয়সের শুরু থেকেই গুরুত্ব পেতে পারে।
- হাদিসের শব্দ বুঝতে বর্ণনার ভেতরের ব্যাখ্যাকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
