৬৭/৩৭. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৫১৩০ - সম্মতি থাকলে বিয়েতে বাধা না দেওয়ার শিক্ষা

যারা বলে, ওয়ালী বা অভিভাবক ছাড়া বিয়ে শুদ্ধ হয় না, তারা আল্লাহ তা‘আলার কালাম দলিল হিসাবে পেশ করে:

﴾فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ﴿ فَدَخَلَ فِيهِ الثَّيِّبُ وَكَذَلِكَ الْبِكْرُ وَقَالَ ﴾وَلاَ تَنْكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ﴿ وَقَالَ ﴾وَأَنْكِحُوا الأَيَامَى مِنْكُمْ﴿“যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দাও, তারপর তাদের ইদ্দত পূর্ণ হয়ে যায়, সে অবস্থায় তারা স্বামীদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাইলে তাদেরকে বাধা দিও না” (সূরা আল-বাকারা ২/২৩২)-এ নির্দেশের আওতায় বয়স্কা বিবাহিতা মহিলারা যেমন, তেমনি কুমারী মেয়েরাও এসে গেছে। মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “তোমরা মুশরিক মহিলাদেরকে কখনও বিয়ে করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ঈমান না আনবে” (সূরা আল-বাকারা ২/২২১)। আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন, “তোমাদের ভিতরে যারা অবিবাহিতা আছে তাদের বিয়ে দিয়ে দাও” (সূরা আন-নূর ২৪/৩২)।"

বিবাহে বাধা নয়: নারীর ইচ্ছা ও অভিভাবকের দায়িত্ব

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫১৩০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي عَمْرٍو، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الْحَسَنِ، {فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ} قَالَ حَدَّثَنِي مَعْقِلُ بْنُ يَسَارٍ، أَنَّهَا نَزَلَتْ فِيهِ قَالَ زَوَّجْتُ أُخْتًا لِي مِنْ رَجُلٍ فَطَلَّقَهَا، حَتَّى إِذَا انْقَضَتْ عِدَّتُهَا جَاءَ يَخْطُبُهَا، فَقُلْتُ لَهُ زَوَّجْتُكَ وَفَرَشْتُكَ وَأَكْرَمْتُكَ، فَطَلَّقْتَهَا، ثُمَّ جِئْتَ تَخْطُبُهَا، لاَ وَاللَّهِ لاَ تَعُودُ إِلَيْكَ أَبَدًا، وَكَانَ رَجُلاً لاَ بَأْسَ بِهِ وَكَانَتِ الْمَرْأَةُ تُرِيدُ أَنَّ تَرْجِعَ إِلَيْهِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ هَذِهِ الآيَةَ {فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ} فَقُلْتُ الآنَ أَفْعَلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ فَزَوَّجَهَا إِيَّاهُ.

মা’কিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

“তোমরা তাদেরকে আটকে রেখো না” – এ আয়াত তাঁর সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। আমি আমার বোনকে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেই, সে তাকে তালাক দিয়ে দেয়। যখন তাঁর ইদ্দতকাল অতিক্রান্ত হয় তখন সেই ব্যক্তি আমার কাছে আসে এবং তাকে পুনরায় বিয়ের পয়গাম দেয়। কিন্তু আমি তাকে বলে দিই, আমি তাকে তোমার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলাম এবং তোমরা মেলামেশা করেছ এবং আমি তোমাকে মর্যাদা দিয়েছি। তারপরেও তুমি তাকে তালাক দিলে? পুনরায় তুমি তাকে চাওয়ার জন্য এসেছ? আল্লাহ্‌র কসম, সে আবারও কখনও তোমার কাছে ফিরে যাবে না।মা’কিল (রাঃ) বলেন, সে লোকটি অবশ্য খারাপ ছিল না এবং তার স্ত্রীও তার কাছে ফিরে যেতে আগ্রহী ছিল। এমতাবস্থায় আল্লাহ্‌ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ এরপর আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি আমার বোনকে তার কাছে বিয়ে দেব। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তাকে তার সঙ্গে পুনরায় বিয়ে দিলেন।

সহীহ বুখারী হাদিস ৫১৩০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে মা’কিল ইবন ইয়াসার রাঃ-এর ঘটনা এসেছে। তিনি তাঁর বোনকে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন। পরে সে ব্যক্তি তালাক দেয়। ইদ্দত শেষ হলে সেই ব্যক্তি আবার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে। মা’কিল রাঃ পূর্বের তালাকের কারণে কষ্ট পেয়ে বলেন, তিনি আর কখনও তাঁর বোনকে তার কাছে ফিরতে দেবেন না। কিন্তু বর্ণনায় এসেছে, লোকটি খারাপ ছিল না এবং তাঁর বোনও ফিরে যেতে আগ্রহী ছিলেন। তখন আল্লাহর আয়াত নাযিল হয়, তাদেরকে বাধা দিও না। এরপর মা’কিল রাঃ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল صلى الله عليه وسلم, এখন আমি করব, এবং তিনি বোনকে সেই ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেন। এই ঘটনা দেখায়, অভিভাবক ভালো উদ্দেশ্যে হলেও কখনও ব্যক্তিগত কষ্টের কারণে অন্যের ইচ্ছার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নারীর ইচ্ছা থাকলে অযথা বিয়েতে বাধা দেওয়া ঠিক নয়।
  • অভিভাবকের কষ্ট বা রাগ সিদ্ধান্তকে অন্যায় পথে নিতে পারে।
  • ইদ্দত শেষ হওয়ার পর নতুনভাবে বিয়ের প্রস্তাবের কথা এসেছে।
  • আল্লাহর নির্দেশ জানার পর সাহাবি তা মেনে নিয়েছেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন