৬৭/৮৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫১৯৭ - সূর্যগ্রহণের সালাত ও শোকর
আল-আশীর অর্থাৎ স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ হওয়া। আল-আশীর বলতে সাথী-সঙ্গী বা বন্ধুকে বোঝায়। এ শব্দ মু‘আশারা থেকে গৃহীত।
فِيهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ.এ প্রসঙ্গে আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে হাদীস বর্ণনা করেন"
সূর্যগ্রহণের সালাত: আল্লাহর নিদর্শন ও অকৃতজ্ঞতার সতর্কতা
সহীহ বুখারী : ৫১৯৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫১৯৭
عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّه“ قَالَ خَسَفَتْ الشَّمْسُ عَلٰى عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَصَلّٰى رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَالنَّاسُ مَعَه“ فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلاً نَحْوًا مِنْ سُورَةِ الْبَقَرَةِ ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً ثُمَّ رَفَعَ فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلاً وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الأَوَّلِ ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الأَوَّلِ ثُمَّ سَجَدَ ثُمَّ قَامَ فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلاً وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الأَوَّلِ ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الأَوَّلِ ثُمَّ رَفَعَ فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلاً وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الأَوَّلِ ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الأَوَّلِ ثُمَّ رَفَعَ ثُمَّ سَجَدَ ثُمَّ انْصَرَفَ وَقَدْ تَجَلَّتْ الشَّمْسُ فَقَالَ إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللهِ لاَ يَخْسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلاَ لِحَيَاتِه„ فَإِذَا رَأَيْتُمْ ذ‘لِكَ فَاذْكُرُوا اللهَ قَالُوا يَا رَسُوْلَ اللهِ رَأَيْنَاكَ تَنَاوَلْتَ شَيْئًا فِي مَقَامِكَ هٰذَا ثُمَّ رَأَيْنَاكَ تَكَعْكَعْتَ فَقَالَ إِنِّي رَأَيْتُ الْجَنَّةَ أَوْ أُرِيتُ الْجَنَّةَ فَتَنَاوَلْتُ مِنْهَا عُنْقُودًا وَلَوْ أَخَذْتُه“ لأَ×كَلْتُمْ مِنْه“ مَا بَقِيَتْ الدُّنْيَا وَرَأَيْتُ النَّارَ فَلَمْ أَرَ كَالْيَوْمِ مَنْظَرًا قَطُّ وَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا النِّسَاءَ قَالُوا لِمَ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ بِكُفْرِهِنَّ قِيلَ يَكْفُرْنَ بِاللهِ قَالَ يَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ وَيَكْفُرْنَ الإِحْسَانَ لَوْ أَحْسَنْتَ إِلٰى إِحْدَاهُنَّ الدَّهْرَ ثُمَّ رَأَتْ مِنْكَ شَيْئًا قَالَتْ مَا رَأَيْتُ مِنْكَ خَيْرًا قَطُّ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) - এর জীবদ্দশায় একদিন সূর্য গ্রহণ আরম্ভ হলো। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সালাতুল খুসুফ বা সূর্যগ্রহণের সালাত পড়লেন এবং লোকেরাও তাঁর সঙ্গে অংশগ্রহণ করল। তিনি এত দীর্ঘক্ষণ কিয়াম করলেন, যাতে সূরা বাকারাহ্র পরিমাণ কোরআন পাঠ করা যায়। এরপর তিনি দীর্ঘক্ষণ রুকূ করলেন এবং মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকলেন; এটা প্রথম কিয়ামের চেয়ে কম সময়ের ছিল। তারপর কোরআন তিলাওয়াত করলেন, পুনরায় দীর্ঘক্ষণ রুকু করলেন। কিন্তু এবারের রুকূর পরিমাণ পূর্বের চেয়ে সংক্ষিপ্ত ছিল। এরপর তিনি দাঁড়ালেন এবং সিজদায় গেলেন।এরপর তিনি কিয়াম করলেন, কিন্তু এবারের সময় ছিল পূর্বের কিয়ামের চেয়ে স্বল্পস্থায়ী। এরপর পুনরায় তিনি রুকুতে গেলেন, কিন্তু এবারের রুকূর সময় পূর্ববর্তী রুকূর সময়ের চেয়ে কম ছিল। এরপর পুনরায় তিনি দাঁড়ালেন। কিন্তু এবারের দাঁড়াবার সময় ছিল পূর্বের চেয়েও কম। এরপরে রুকূতে গেলেন, এবারের রুকূর সময় পূর্ববর্তী রুকূর চেয়ে কম ছিল। তারপর সিজদাহয় গেলেন এবং সালাত শেষ করলেন। ততক্ষণে সূর্যগ্রহণ শেষ হয়ে গেছে।এরপর নবী (ﷺ) বললেন, চন্দ্র এবং সূর্য এ দু’টি আল্লাহ্র নিদর্শনের অন্যতম। কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে এদের গ্রহণ হয় না। তাই তোমরা যখন প্রথম গ্রহণ দেখতে পাও, তখন আল্লাহ্কে স্মরণ কর। এরপর তাঁরা বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমরা আপনাকে দেখতে পেলাম যে, আপনি কিছু নেয়ার জন্য হাত বাড়িয়েছেন, এরপর আবার আপনাকে দেখতে পেলাম যে, আপনি পিছনের দিকে সরে এলেন।নবী (ﷺ) বললেন, আমি জান্নাত দেখতে পেলাম অথবা আমাকে জান্নাত দেখানো হয়েছে এবং আমি সেখান থেকে আঙ্গুরের থোকা ছিঁড়ে আনার জন্য হাত বাড়ালাম এবং তা যদি ধরতে পারতাম, তবে তোমরা তা থেকে পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত খেতে পারতে। এরপর আমি জাহান্নামের আগুন দেখতে পেলাম। আমি এর পূর্বে কখনও এত ভয়াবহ দৃশ্য দেখিনি এবং আমি আরও দেখতে পেলাম যে, তার অধিকাংশ অধিবাসীই নারী।লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহ্র রাসূল! এর কারণ কী? তিনি বললেন, এটা তাদের অকৃতজ্ঞতার ফল। লোকেরা বলল, তারা কি আল্লাহ্ তা’আলার সঙ্গে নাফরমানী করে? তিনি বললেন, তারা তাদের স্বামীদের প্রতি অকৃতজ্ঞ এবং তাদের প্রতি যে অনুগ্রহ দেখানো হয়, তার জন্য তাদের শোকর নেই। তোমরা যদি সারা জীবন তাদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার কর; কিন্তু তারা যদি কখনও তোমার দ্বারা কষ্টদায়ক কোন ব্যবহার দেখতে পায়, তখন বলে বসে, আমি তোমার থেকে জীবনে কখনও ভাল ব্যবহার পেলাম না।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫১৯৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো সূর্যগ্রহণের সালাত, আল্লাহর নিদর্শন এবং অকৃতজ্ঞতা থেকে সতর্কতা। নবীজি صلى الله عليه وسلم-এর সময়ে সূর্যগ্রহণ হলে তিনি দীর্ঘ সালাত আদায় করেন। সালাতে দীর্ঘ কিয়াম, রুকু ও সিজদার বর্ণনা এসেছে। সালাত শেষে তিনি বলেন, সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন; কারো মৃত্যু বা জীবনের কারণে এদের গ্রহণ হয় না। তাই গ্রহণ দেখলে আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে। এরপর সাহাবীরা তাঁর সামনে হাত বাড়ানো ও পিছিয়ে আসার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি জান্নাত ও জাহান্নাম দেখার কথা বলেন। জাহান্নামে অধিকাংশ নারী দেখার কারণ হিসেবে তিনি অকৃতজ্ঞতার কথা বলেন—স্বামীর অনুগ্রহ ও ভালো ব্যবহার অস্বীকার করা। তাই সূর্যগ্রহণের নামাজ, আল্লাহর নিদর্শন, অকৃতজ্ঞতা, স্বামীর প্রতি শোকর—এসব এই হাদিসের মূল কীওয়ার্ড। হাদিসটি ইবাদত ও চরিত্র—দুই দিকেই সতর্ক করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ আল্লাহর নিদর্শন; কারো জন্ম-মৃত্যুর কারণে নয়।
- গ্রহণ দেখলে আল্লাহকে স্মরণ করার নির্দেশ এসেছে।
- সূর্যগ্রহণের সালাতে নবীজি صلى الله عليه وسلم দীর্ঘ কিয়াম, রুকু ও সিজদা করেছেন।
- অনুগ্রহ অস্বীকার করা এবং অকৃতজ্ঞতা সম্পর্কে হাদিসে কঠোর সতর্কতা এসেছে।
