৯/১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২১ - সালাতের ওয়াক্ত নির্ধারণের শিক্ষা
সালাতের সময় ও তার গুরুত্ব।
وَقَوْلُهُ ﴾إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا مُوَقَّتًا وَقَّتَهُ عَلَيْهِمْ﴿আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “নিশ্চয়ই সালাত নির্ধারিত সময়ে আদায় করা মুমিনদের উপর ফরজ।” (সূরা আন-নিসা ৪/১০৩)"
সালাতের ওয়াক্ত: জিবরীল (আঃ)-এর মাধ্যমে সময় নির্ধারণের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৫২১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫২১
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، أَخَّرَ الصَّلاَةَ يَوْمًا، فَدَخَلَ عَلَيْهِ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، فَأَخْبَرَهُ أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ أَخَّرَ الصَّلاَةَ يَوْمًا وَهْوَ بِالْعِرَاقِ، فَدَخَلَ عَلَيْهِ أَبُو مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيُّ فَقَالَ مَا هَذَا يَا مُغِيرَةُ أَلَيْسَ قَدْ عَلِمْتَ أَنَّ جِبْرِيلَ نَزَلَ فَصَلَّى، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ " بِهَذَا أُمِرْتُ ". فَقَالَ عُمَرُ لِعُرْوَةَ اعْلَمْ مَا تُحَدِّثُ أَوَإِنَّ جِبْرِيلَ هُوَ أَقَامَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقْتَ الصَّلاَةِ. قَالَ عُرْوَةُ كَذَلِكَ كَانَ بَشِيرُ بْنُ أَبِي مَسْعُودٍ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ. قَالَ عُرْوَةُ وَلَقَدْ حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ، وَالشَّمْسُ فِي حُجْرَتِهَا قَبْلَ أَنْ تَظْهَرَ.
আবূ মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উমর ইবনু ‘আবদুল’ ‘আযীয (রহঃ) একদা কোন এক সালাত আদায়ে বিলম্ব করলেন। তখন ‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ) তাঁর নিকট গেলেন এবং তাঁর নিকট বর্ণনা করলেন যে, ইরাকে অবস্থানকালে মুগিরা ইব্নু শুবা (রাঃ) একদা এক সালাত আদায়ে বিলম্ব করছিলেন। ফলে আবূ মাস’উদ আনসারী (রাঃ) তাঁর নিকট গিয়ে বললেনঃ হে মুগিরাহ! একী? তুমি কি অবগত নও যে, জিবরীল (আঃ) অবতরণ করে সালাত আদায় করলেন আর, আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) ও সালাত আদায় করলেন। আবার তিনি সালাত আদায় করলেন। আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) ও সালাত আদায় করলেন। পুনরায় তিনি সালাত আদায় করলেন এবং আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) ও সালাত আদায় করলেন। আবার তিনি সালাত আদায় করলেন এবং আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) ও সালাত আদায় করলেন। পুনরায় তিনি সালাত আদায় করলেন এবং আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) ও সালাত আদায় করলেন। অতঃপর জিবরীল (আঃ) বললেন, আমি এজন্য আদিষ্ট হয়েছি।‘উমর (ইব্নু ‘আবদুল ‘আযীয) (রহঃ) ‘উরওয়াহ (রহঃ)-কে বললেন, “তুমি যা রিওয়ায়াত করছ তা একটু ভেবে দেখ। জিবরীলই কি আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) এঁর জন্য সালাতের ওয়াক্ত নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন?” উরওয়াহ (রহঃ) বললেন, বাশির ইবনু আবু মাস’উদ (রহঃ) তাঁর পিতা হতে এমনই বর্ণনা করতেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালাতের ওয়াক্ত নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এসেছে। উমর ইবন আবদুল আজিজ (রহঃ) একদিন সালাত আদায়ে দেরি করলে উরওয়া ইবন যুবাইর (রহঃ) তাঁকে একটি বর্ণনা স্মরণ করিয়ে দেন। সেই বর্ণনায় আছে, মুগিরা ইবন শু’আবা (রাঃ) সালাতে দেরি করলে আবু মাসউদ আনসারী (রাঃ) তাঁকে বলেন যে, জিবরীল (আঃ) নেমে সালাত আদায় করেছিলেন এবং আল্লাহর রসূল (صلى الله عليه وسلم) তাঁর অনুসরণে সালাত আদায় করেছিলেন। এভাবে পাঁচবার সালাতের কথা আসে। শেষে জিবরীল (আঃ) বলেন, তিনি এ কাজের জন্য আদিষ্ট হয়েছেন। তাই এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, সালাতের ওয়াক্ত হালকা বিষয় নয়; এটি নির্দেশিত ও নির্ধারিত একটি আমল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতের সময়ের ব্যাপারে সচেতন থাকা মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
- সালাত বিলম্ব হলে জ্ঞানী লোকেরা নসীহত করতে পারেন।
- সালাতের ওয়াক্ত নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আমলের মাধ্যমে শেখানো হয়েছে।
- হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও যাচাইয়ের গুরুত্ব রয়েছে।
