৬৭/১০৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২২৬ - উমর (রাঃ)-এর জান্নাতী প্রাসাদ ও মর্যাদা
আত্মমর্যাদাবোধ।
وَقَالَ وَرَّادٌ عَنِ الْمُغِيرَةِ قَالَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ لَوْ رَأَيْتُ رَجُلاً مَعَ امْرَأَتِي لَضَرَبْتُهُ بِالسَّيْفِ غَيْرَ مُصْفِحٍ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ أَتَعْجَبُونَ مِنْ غَيْرَةِ سَعْدٍ لأَنَا أَغْيَرُ مِنْهُ وَاللَّهُ أَغْيَرُ مِنِّي.সা‘দ ইবন ‘উবাদা (রাঃ) বললেন, আমি যদি অন্য কোনো পুরুষকে আমার স্ত্রীর সঙ্গে দেখতে পাই; তাহলে আমি তাকে তরবারির ধারালো দিক দিয়ে আঘাত করব অর্থাৎ হত্যা করব। নবী (ﷺ) তাঁর সাহাবীগণকে বললেন, তোমরা কি সা‘দের আত্মমর্যাদাবোধের কারণে আশ্চর্যান্বিত হচ্ছ? (আল্লাহর কসম!) আমার আত্মমর্যাদাবোধ তার চেয়েও অনেক অধিক এবং আল্লাহর আত্মমর্যাদাবোধ আমার চেয়েও অনেক অধিক।"
উমর (রাঃ)-এর জান্নাতী প্রাসাদ: মর্যাদা ও আত্মমর্যাদার হাদিস
সহীহ বুখারী : ৫২২৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫২২৬
مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ الله ِ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ أَوْ أَتَيْتُ الْجَنَّةَ فَأَبْصَرْتُ قَصْرًا فَقُلْتُ لِمَنْ هٰذَا قَالُوا لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَأَرَدْتُ أَنْ أَدْخُلَه“ فَلَمْ يَمْنَعْنِي إِلاَّ عِلْمِي بِغَيْرَتِكَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَا رَسُوْلَ اللهِ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَا نَبِيَّ اللهِ أَوَعَلَيْكَ أَغَارُ.
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমি জান্নাতে প্রবেশ করে একটি প্রাসাদ দেখতে পেলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম, এটি কার প্রাসাদ? তাঁরা (ফেরেশতাগণ) বললেন, এ প্রাসাদটি ‘উমর ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) - এর। আমি তার মধ্যে প্রবেশ করতে চাইলাম; কিন্তু [তিনি সেখান উপস্থিত ‘উমর (রাঃ) - এর উদ্দেশে বললেন] তোমার আত্মমর্যাদাবোধ আমাকে সেখানে প্রবেশে বাধা দিল। এ কথা শুনে ‘উমর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আপনার কাছেও আমি (‘উমর) আত্মমর্যাদাবোধ প্রকাশ করব?
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জান্নাতে একটি প্রাসাদ দেখার কথা বলেছেন। তিনি জানতে চান, প্রাসাদটি কার। তাঁকে বলা হয়, এটি উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-এর। নবী (صلى الله عليه وسلم) প্রাসাদে প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু উমর (রাঃ)-এর আত্মমর্যাদাবোধের কথা মনে করে প্রবেশ করেননি। এখানে উমর (রাঃ)-এর মর্যাদা এবং তাঁর চরিত্রের একটি বিশেষ দিক দেখা যায়। একই সঙ্গে দেখা যায়, নবী (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীর অনুভূতিকেও সম্মান করেছেন। উমর (রাঃ) এই কথা শুনে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনার কাছেও কি আমি আত্মমর্যাদাবোধ প্রকাশ করব? এতে তাঁর গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ পায়। হাদিসটি জান্নাতের সুসংবাদ, সাহাবীর মর্যাদা এবং পারস্পরিক সম্মানের সুন্দর শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উমর (রাঃ)-এর মর্যাদা এই হাদিসে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীর অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন।
- আত্মমর্যাদা ভালো গুণ হতে পারে, যদি তা শালীনতার মধ্যে থাকে।
- সাহাবীদের প্রতি ভালো ধারণা রাখা ঈমানী শিক্ষার অংশ।
