৬৭/১১০. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৩০ - ফাতিমা (রাঃ)-এর মর্যাদা ও কষ্ট না দেওয়ার শিক্ষা
কন্যার মধ্যে ঈর্ষা সৃষ্টি হওয়া থেকে বাধা প্রদান এবং ইনসাফমূলক কথা।
ফাতিমা (রাঃ)-এর মর্যাদা: পরিবারকে কষ্ট না দেওয়ার হাদিস
সহীহ বুখারী : ৫২৩০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫২৩০
قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺيَقُوْلُ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ إِنَّ بَنِي هِشَامِ بْنِ الْمُغِيرَةِ اسْتَأْذَنُوا فِي أَنْ يُنْكِحُوا ابْنَتَهُمْ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ فَلاَ آذَنُ ثُمَّ لاَ آذَنُ ثُمَّ لاَ آذَنُ إِلاَّ أَنْ يُرِيدَ ابْنُ أَبِي طَالِبٍ أَنْ يُطَلِّقَ ابْنَتِي وَيَنْكِحَ ابْنَتَهُمْ فَإِنَّمَا هِيَ بَضْعَةٌ مِنِّي يُرِيبُنِي مَا أَرَابَهَا وَيُؤْذِينِي مَا آذَاهَا.
মিসওয়ার ইব্নু মাখরামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) - কে মিম্বরে বসে বলতে শুনেছি যে, বনি হিশাম ইব্নু মুগীরাহ, ‘আলী ইব্নু আবূ ত্বলিবের কাছে তাদের মেয়ে বিয়ে দেবার জন্য আমার কাছে অনুমতি চেয়েছে; কিন্তু আমি অনুমতি দেব না, আমি অনুমতি দেব না, আমি অনুমতি দেব না, যতক্ষণ পর্যন্ত না ‘আলী ইব্নু আবূ ত্বলিব আমার কন্যাকে তালাক দেয় এবং এর পরেই সে তাদের মেয়েকে বিয়ে করতে পারে। কেননা, ফাতিমা হচ্ছে আমার কলিজার টুকরা এবং সে যা ঘৃণা করে; আমিও তা ঘৃণা করি এবং তাঁকে যা কষ্ট দেয়, তা আমাকেও কষ্ট দেয়।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মিম্বরে দাঁড়িয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। বনি হিশাম ইবনে মুগীরা আলী (রাঃ)-এর সঙ্গে তাদের মেয়ের বিয়ের অনুমতি চেয়েছিল। নবী (صلى الله عليه وسلم) স্পষ্টভাবে বলেন, তিনি অনুমতি দেবেন না, যতক্ষণ না আলী (রাঃ) তাঁর কন্যা ফাতিমা (রাঃ)-কে তালাক দেন এবং এরপর অন্য বিয়ে করেন। এরপর তিনি বলেন, ফাতিমা তাঁর কলিজার টুকরা; সে যা ঘৃণা করে, তিনি তা ঘৃণা করেন; তাকে যা কষ্ট দেয়, তা তাঁকেও কষ্ট দেয়। এই হাদিসে ফাতিমা (রাঃ)-এর মর্যাদা এবং পরিবারের কষ্টের প্রতি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সংবেদনশীলতা দেখা যায়। এখানে মূল শিক্ষা হলো পরিবারের সম্মান, সন্তানের কষ্ট বোঝা এবং এমন সিদ্ধান্ত থেকে সতর্ক থাকা যা ঘরের কাউকে আঘাত দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফাতিমা (রাঃ)-এর মর্যাদা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কথায় স্পষ্ট।
- পরিবারের কারও কষ্টকে হালকা করে দেখা উচিত নয়।
- দাম্পত্য সিদ্ধান্তে অন্যের হৃদয়ের আঘাত বিবেচনা করা দরকার।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজের পরিবারের কষ্টকে গভীরভাবে অনুভব করতেন।
