৬৮/১১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৬৯ - মনে মনে তালাক দিলে কি তালাক হয়
বাধ্য হয়ে, মাতাল ও পাগল অবস্থায় তালাক দেয়া আর এ দু’য়ের বিধান সম্পর্কে। ভুলবশতঃ তালাক দেয়া এবং শিরক ইত্যাদি সম্পর্কে। (এসব নিয়তের উপর নির্ভরশীল)।
لِقَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ وَلِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى وَتَلَا الشَّعْبِيُّ ﴾رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا﴿ وَمَا لَا يَجُوزُ مِنْ إِقْرَارِ الْمُوَسْوِسِوَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلَّذِي أَقَرَّ عَلَى نَفْسِهِ أَبِكَ جُنُونٌ وَقَالَ عَلِيٌّ بَقَرَ حَمْزَةُ خَوَاصِرَ شَارِفَيَّ فَطَفِقَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَلُومُ حَمْزَةَ فَإِذَا حَمْزَةُ قَدْ ثَمِلَ مُحْمَرَّةٌ عَيْنَاهُ ثُمَّ قَالَ حَمْزَةُ هَلْ أَنْتُمْ إِلَّا عَبِيدٌ لِأَبِي فَعَرَفَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَدْ ثَمِلَ فَخَرَجَ وَخَرَجْنَا مَعَهُ وَقَالَ عُثْمَانُ لَيْسَ لِمَجْنُونٍ وَلَا لِسَكْرَانَ طَلَاقٌ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ طَلَاقُ السَّكْرَانِ وَالْمُسْتَكْرَهِ لَيْسَ بِجَائِزٍ وَقَالَ عُقْبَةُ بْنُ عَامِرٍ لَا يَجُوزُ طَلَاقُ الْمُوَسْوِسِ وَقَالَ عَطَاءٌ إِذَا بَدَا بِالطَّلَاقِ فَلَهُ شَرْطُهُ وَقَالَ نَافِعٌ طَلَّقَ رَجُلٌ امْرَأَتَهُ الْبَتَّةَ إِنْ خَرَجَتْ فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ إِنْ خَرَجَتْ فَقَدْ بَنَتْ مِنْهُ وَإِنْ لَمْ تَخْرُجْ فَلَيْسَ بِشَيْءٍ وَقَالَ الزُّهْرِيُّ فِيمَنْ قَالَ إِنْ لَمْ أَفْعَلْ كَذَا وَكَذَا فَامْرَأَتِي طَالِقٌ ثَلَاثًا يُسْأَلُ عَمَّا قَالَ وَعَقَدَ عَلَيْهِ قَلْبُهُ حِينَ حَلَفَ بِتِلْكَ الْيَمِينِ فَإِنْ سَمَّى أَجَلًا أَرَادَهُ وَعَقَدَ عَلَيْهِ قَلْبُهُ حِينَ حَلَفَ جُعِلَ ذَلِكَ فِي دِينِهِ وَأَمَانَتِهِ وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ إِنْ قَالَ لَا حَاجَةَ لِي فِيكِ نِيَّتُهُ وَطَلَاقُ كُلِّ قَوْمٍ بِلِسَانِهِمْ وَقَالَ قَتَادَةُ إِذَا قَالَ إِذَا حَمَلْتِ فَأَنْتِ طَالِقٌ ثَلَاثًا يَغْشَاهَا عِنْدَ كُلِّ طُهْرٍ مَرَّةً فَإِنْ اسْتَبَانَ حَمْلُهَا فَقَدْ بَانَتْ مِنْهُ وَقَالَ الْحَسَنُ إِذَا قَالَ الْحَقِي بِأَهْلِكِ نِيَّتُهُ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ الطَّلَاقُ عَنْ وَطَرٍ وَالْعَتَاقُ مَا أُرِيدَ بِهِ وَجْهُ اللَّهِ وَقَالَ الزُّهْرِيُّ إِنْ قَالَ مَا أَنْتِ بِامْرَأَتِي نِيَّتُهُ وَإِنْ نَوَى طَلَاقًا فَهُوَ مَا نَوَى وَقَالَ عَلِيٌّ أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ الْقَلَمَ رُفِعَ عَنْ ثَلَاثَةٍ عَنِ الْمَجْنُونِ حَتَّى يُفِيقَ وَعَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يُدْرِكَ وَعَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ وَقَالَ عَلِيٌّ وَكُلُّ الطَّلَاقِ جَائِزٌ إِلَّا طَلَاقَ الْمَعْتُوهِ.কেননা নবী (ﷺ) বলেছেন: প্রতিটি কাজ নিয়্যত অনুযায়ী গণ্য হয়। প্রত্যেকে তা-ই পায়, যার সে নিয়্যত করে। শা‘বী (রহঃ) পাঠ করেন: “হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা যদি ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তাহলে আমাদেরকে পাকড়াও করো না।” (সূরা আল-বাকারা ২ : ২৮৬) ওয়াসওয়াসা সম্পন্ন ব্যক্তি স্বীকার করলে যা জায়িয হয় না।স্বীয় ব্যভিচারের কথা স্বীকারকারী এক ব্যক্তিকে নবী (ﷺ) বলেছিলেন: তুমি কি পাগল হয়েছ? ‘আলী (রাঃ) বলেন, হামযা (রাঃ) আমার দু’টি উটনীর পার্শ্বদেশ ফেড়ে ফেললে, নবী (ﷺ) হামযাকে তিরস্কার করতে থাকেন। হঠাৎ দেখা গেল নেশার ঘোরে হামযার চক্ষু দুটি লাল হয়ে গেছে। এরপর হামযা বললেন, তোমরা তো আমার বাবার গোলাম ব্যতীত নও। তখন নবী (ﷺ) বুঝতে পারলেন, তিনি নিশাগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে এলেন আমরাও তাঁর সঙ্গে বেরিয়ে এলাম।‘উসমান (রাঃ) বলেন, পাগল ও নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির তালাক জায়িয নয়। ‘উকবা ইবন ‘আমির (রাঃ) বলেন, ওয়াসওয়াসা সম্পন্ন (সন্দেহের বাতিকগ্রস্ত) ব্যক্তির তালাক কার্যকর হয় না। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, মাতাল ও বাধ্যকৃতের তালাক অবৈধ। ‘আত্বা (রহঃ) বলেন: শর্ত যুক্ত করে তালাক দিলে শর্ত পূরণের পরই তালাক হবে। নাফি (রহঃ) জিজ্ঞেস করলেন, ঘর থেকে বের হওয়ার শর্তে স্বীয় স্ত্রীকে জনৈক ব্যক্তি তিন তালাক দিল- (এর হুকুম কী?)।ইবন ‘উমার (রহঃ) বললেন: যদি সে মহিলা ঘর থেকে বের হয়, তাহলে সে তিন তালাকপ্রাপ্তা হবে। আর যদি বের না হয়, তাহলে কিছুই হবে না। যুহরী (রহঃ) বলেন, যে ব্যক্তি বলল: যদি আমি এরূপ না করি, তবে আমার স্ত্রীর প্রতি তিন তালাক প্রযোজ্য হবে। তার সম্বন্ধে যুহরী (রহঃ) বলেন, উক্ত ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করা হবে, শপথকালে তার ইচ্ছা কী ছিল? যদি সে ইচ্ছে করে মেয়াদ নির্ধারণ করে থাকে এবং শপথকালে তার এ ধরনের নিয়্যত থাকে, তাহলে এ বিষয়েকে তার দীন ও আমানতের উপর ন্যস্ত করা হবে।ইবরাহীম (রহঃ) বলেন, যদি সে বলে, “তোমাকে আমার কোনো প্রয়োজন নেই”; তবে তার নিয়্যত অনুসারে কাজ হবে। আর প্রত্যেক সম্প্রদায়ের লোক তাদের নিজস্ব ভাষায় তালাক দিতে পারে। কাতাদা (রহঃ) বলেন: যদি কেউ বলে তুমি গর্ভবতী হলে, তোমার প্রতি তিন তালাক। তাহলে সে প্রতি তুহরে স্ত্রীর সঙ্গে একবার সহবাস করবে। যখনই গর্ভ প্রকাশিত হবে, তখনই সে স্বামী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।হাসান (রহঃ) বলেন, যদি কেউ বলে, “তুমি তোমার পরিবারের কাছে চলে যাও”, তবে তার নিয়্যত অনুসারে ফায়সালা হবে। ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন: প্রয়োজনের তাগিদে তালাক দেয়া হয়। আর দাসমুক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য করা হয়। যুহরী (রহঃ) বলেন, যদি কেউ বলে: তুমি আমার স্ত্রী নও, তবে তালাক হওয়া বা না হওয়া নিয়্যতের উপর নির্ভর করবে। যদি সে তালাকের নিয়্যত করে থাকে, তবে তাই হবে।‘আলী (রাঃ) [উমার (রাঃ)-কে সম্বোধন করে] বলেন: আপনি কি জানেন না যে, তিন প্রকারের লোক থেকে কসম তুলে নেয়া হয়েছে। এক, পাগল ব্যক্তি, যতক্ষণ না সে জ্ঞান ফিরে পায়; দুই, শিশু যতক্ষণ না সে বয়ঃপ্রাপ্ত হয়; তিন, ঘুমন্ত ব্যক্তি, যতক্ষণ না সে জেগে উঠে। ‘আলী (রাঃ) (আরও) বলেন: পাগল ব্যতীত সকলের তালাক কার্যকর হয়।"
মনে মনে তালাক দিলে তালাক হয় কি: সহিহ হাদিসের আলোকে
সহীহ বুখারী : ৫২৬৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫২৬৯
مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفٰى عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِنَّ اللهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِه„ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَتَكَلَّمْقَالَ قَتَادَةُ إِذَا طَلَّقَ فِي نَفْسِه„ فَلَيْسَ بِشَيْءٍ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ আমার উম্মতের হৃদয়ে যে খেয়াল জাগ্রত হয় তা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না সে তা কার্যে পরিণত করে বা মুখে উচ্চারণ করে। ক্বাতাদাহ (রহঃ) বলেনঃ মনে মনে তালাক দিলে তাতে কিছুই (তালাক) হবে না।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৬৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মানুষের মনের খেয়াল সম্পর্কে বড় সান্ত্বনা ও পরিষ্কার শিক্ষা এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, আল্লাহ তাঁর উম্মতের হৃদয়ে যে খেয়াল জাগে তা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না সে তা কাজে পরিণত করে বা মুখে বলে। এরপর কাতাদাহ (রহঃ) বলেন, কেউ মনে মনে তালাক দিলে তাতে কিছুই হয় না। তাই এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, মনে কোনো কথা আসা আর সেটিকে মুখে বলা বা কাজে রূপ দেওয়া এক জিনিস নয়। অনেক সময় মানুষের মনে অনিচ্ছাকৃত চিন্তা আসে। হাদিসের ভাষা অনুযায়ী, তা কাজ বা কথায় না এলে তার ওপর ধরার বিষয় নেই। তালাকের ক্ষেত্রেও শুধু মনে ভাবা কার্যকর নয় বলে এখানে ব্যাখ্যা এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মনে খেয়াল আসা আর তা মুখে বলা এক বিষয় নয়।
- মনে মনে তালাক দিলে এই বর্ণনা অনুযায়ী তালাক হয় না।
- কথা ও কাজের আগে মানুষকে নিজের মন সামলাতে শেখা দরকার।
