৬৮/৪৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩৪১ - স্বামীর মৃত্যুতে ইদ্দত ও শোক
তুহুর অর্থাৎ পবিত্রতার সময় শোক পালনকারিণীর জন্য চন্দন কাঠের সুগন্ধি ব্যবহার।
স্বামীর মৃত্যুতে ইদ্দত: চার মাস দশ দিনের শোকের বিধান
সহীহ বুখারী : ৫৩৪১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৩৪১
عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ حَفْصَةَ عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ قَالَتْ كُنَّا نُنْهٰى أَنْ نُحِدَّ عَلٰى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثٍ إِلاَّ عَلٰى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا وَلاَ نَكْتَحِلَ وَلاَ نَطَّيَّبَ وَلاَ نَلْبَسَ ثَوْبًا مَصْبُوغًا إِلاَّ ثَوْبَ عَصْبٍ وَقَدْ رُخِّصَ لَنَا عِنْدَ الطُّهْرِ إِذَا اغْتَسَلَتْ إِحْدَانَا مِنْ مَحِيضِهَا فِي نُبْذَةٍ مِنْ كُسْتِ أَظْفَارٍ وَكُنَّا نُنْهٰى عَنْ اتِّبَاعِ الْجَنَائِزِ.
উম্মু ‘আতিয়্যাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশি শোক পালন করা হতে আমাদেরকে নিষেধ করা হত। তবে স্বামী মারা গেলে চার মাস দশ দিন শোক পালন করতে হবে এবং আমরা যেন সুরমা খুশবু ব্যবহার না করি আর রঙিন কাপড় যেন না পরি তবে হালকা রঙের ছাড়া। আমাদের কেউ যখন হায়িয শেষে গোসল করে পবিত্র হয়, তখন (দুর্গন্ধ দূর করার জন্য) আযফার নামক সুগন্ধি ব্যবহার করার আমাদেরকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। তাছাড়া আমাদেরকে জানাযার অনুসরণ করতে নিষেধ করা হতো।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে শোক পালন ও ইদ্দতের কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে এসেছে। সাধারণ কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশি শোক পালন করতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু স্বামীর মৃত্যু হলে চার মাস দশ দিন শোক পালন করতে বলা হয়েছে। এই সময়ে সুরমা, সুগন্ধি এবং রঙিন কাপড় থেকে বিরত থাকার কথা এসেছে। তবে হালকা রঙের কাপড়ের ছাড় আছে। আবার হায়েয শেষে গোসল করে পবিত্র হলে দুর্গন্ধ দূর করার জন্য অল্প সুগন্ধি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। হাদিসে জানাজায় অংশ নেওয়ার নিষেধের কথাও এসেছে। তাই এই বর্ণনা শোক পালনের নিয়ম, স্বামীর মৃত্যুতে ইদ্দত, নারীর সাজসজ্জা থেকে বিরত থাকা এবং প্রয়োজনের জায়গায় সীমিত ছাড়—সবকিছু বুঝতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন শোক পালনের কথা এসেছে।
- শোকের সময়ে সুরমা, সুগন্ধি ও রঙিন কাপড় থেকে বিরত থাকার শিক্ষা আছে।
- পবিত্রতার সময় দুর্গন্ধ দূর করার জন্য সীমিত ছাড় দেওয়া হয়েছে।
- হাদিসে জানাজা অনুসরণের নিষেধের কথাও উল্লেখ আছে।
