৭০/২৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৪১৭ - তালবিনা ও শোকের প্রশান্তি
তালবীনা প্রসঙ্গে
তালবিনা হাদিস: অসুস্থতা ও শোকে প্রশান্তির খাবার
সহীহ বুখারী : ৫৪১৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৪১৭
يَحْيٰى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهَا كَانَتْ إِذَا مَاتَ الْمَيِّتُ مِنْ أَهْلِهَا فَاجْتَمَعَ لِذ‘لِكَ النِّسَاءُ ثُمَّ تَفَرَّقْنَ إِلاَّ أَهْلَهَا وَخَاصَّتَهَا أَمَرَتْ بِبُرْمَةٍ مِنْ تَلْبِينَةٍ فَطُبِخَتْ ثُمَّ صُنِعَ ثَرِيدٌ فَصُبَّتْ التَّلْبِينَةُ عَلَيْهَا ثُمَّ قَالَتْ كُلْنَ مِنْهَا فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺيَقُوْلُ التَّلْبِينَةُ مُجِمَّةٌ لِفُؤَادِ الْمَرِيضِ تَذْهَبُ بِبَعْضِ الْحُزْنِ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁর পরিবারের কোন ব্যক্তি মারা গেলে মহিলারা এসে জড় হলো। তারপর তাঁর আত্মীয়রা ও বিশেষ ঘনিষ্ঠ মহিলারা ব্যতীত বাকি সবাই চলে গেলে, তিনি ডেগে ‘তালবীনা’ (আটা, মধু ইত্যাদি দিয়ে তৈরি খাবার) পাক করতে বললেন। তা পাকানো হলো। এরপর ‘সারীদ’ (গোশতের মধ্যে রুটির টুকরো দিয়ে তৈরি খাবার) প্রস্তুত করা হলো এবং তাতে তালবীনা ঢালা হলো। তিনি বললেনঃ তোমরা এ থেকে খাও। কারণ, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি যে, ‘তালবীনা’ রুগ্ন ব্যক্তির হৃদয়ে প্রশান্তি আনে এবং শোক দুঃখ কিছুটা দূর করে।
[১] আধুনিক গবেষণা এবং নবী (ﷺ)-এর হাদীস অনুযায়ী যবের উপকারিতাসমূহ অপরিসীম। পাকস্থলী এবং অস্ত্রতে আলসারের রুগীদেরকে সকালের নাস্তায় নবীর (ﷺ) যামানায় উন্নত মানের ব্যবস্থা পত্র স্বরূপ তালবীনা প্রদান করা হত (যব পিষিয়ে, দুধে পাকিয়ে তাতে মধু মিশ্রিত করলে তাকে তালবীনা বলা হয়) এতে আলসারের প্রতিটি রুগী ২/৩ মাসের মধ্যে আরোগ্য লাভ করত। প্রসাবের সাথে রক্ত ও পুঁজ পড়া রুগীদের, তা যে কারণেই হোক না কেন, উপযুক্ত চিকিৎসার সাথে যবের পানি যদি মধুর সাথে মিশ্রণ করে পান করান যায় তাহলে এ রোগ পনের দিনের মধ্যে নিঃশেষ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। আবার কখনো এ পদ্ধতি পেটের পাথর বের করার জন্যও খুব কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে। পুরাতন কোষ্ঠ কাঠিন্যের জন্য যবের দলিয়া থেকে উত্তম কোন ঔষধ পাওয়া মুশকিল।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৪১৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তালবিনার উপকারিতা সম্পর্কে আয়েশা (রাঃ)-এর আমল ও নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কথা এসেছে। তাঁর পরিবারের কেউ মারা গেলে নারীরা জড়ো হতেন। পরে আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠজন ছাড়া অন্যরা চলে গেলে তিনি তালবিনা রান্না করতে বলতেন। এরপর সরীদ তৈরি করে তার ওপর তালবিনা ঢেলে দিতেন এবং বলতেন, তোমরা তা খাও। কারণ তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে বলতে শুনেছেন, তালবিনা রুগ্ন ব্যক্তির হৃদয়ে প্রশান্তি আনে এবং শোক-দুঃখ কিছুটা দূর করে। এখানে অতিরঞ্জন নেই; হাদিসে ‘কিছুটা’ দূর করার কথা এসেছে। তাই তালবিনা হাদিসে খাবার, সান্ত্বনা, অসুস্থতা এবং শোকের সময় যত্ন নেওয়ার শিক্ষা পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শোকের সময় কাছের মানুষদের খাবার দিয়ে যত্ন নেওয়া ভালো কাজ।
- তালবিনা রুগ্ন হৃদয়ে প্রশান্তির কারণ হতে পারে।
- শোক কিছুটা কমাতে নরম যত্ন ও উপকারী খাবারের ভূমিকা আছে।
- হাদিসের ভাষা অনুযায়ী অতিরঞ্জন না করে কথা বলা উচিত।
