৭০/৩৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৪৩৮ - কুরবানির গোশত সংরক্ষণ ও দুর্ভিক্ষের শিক্ষা
শুকনা গোশত প্রসঙ্গে
কুরবানির গোশত সংরক্ষণ: দুর্ভিক্ষে গরিবদের কথা ভাবা
সহীহ বুখারী : ৫৪৩৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৪৩৮
حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَابِسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ مَا فَعَلَهُ إِلاَّ فِي عَامٍ جَاعَ النَّاسُ، أَرَادَ أَنْ يُطْعِمَ الْغَنِيُّ الْفَقِيرَ، وَإِنْ كُنَّا لَنَرْفَعُ الْكُرَاعَ بَعْدَ خَمْسَ عَشْرَةَ، وَمَا شَبِعَ آلُ مُحَمَّدٍ ﷺ مَنْ خُبْزِ بُرٍّ مَأْدُومٍ ثَلاَثًا.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এ (তিন দিনের অধিক কুরবানীর গোশ্ত রাখার) নিষেধাজ্ঞা কেবল সে বছরের জন্যই ছিল, যে বছর লোকে দুর্ভিক্ষে পড়েছিল। তিনি চেয়েছিলেন ধনীরা যেন গরীবদের খাওয়ায়। নইলে আমরা তো পরবর্তী সময় পায়াগুলো পনের দিন রেখে দিতাম। মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর পরিবার পরপর তিন দিন পর্যন্ত তরকারী দিয়ে যবের রুটি পেট ভরে খাননি।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৪৩৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়েশা (রাঃ) বলেন, তিন দিনের বেশি কুরবানির গোশত রাখার নিষেধাজ্ঞা শুধু সেই বছরের জন্য ছিল, যে বছর মানুষ দুর্ভিক্ষে পড়েছিল। নবী صلى الله عليه وسلم চেয়েছিলেন, ধনী লোকেরা যেন গরিবদের খাওয়ায়। এরপর তিনি বলেন, পরে তারা পায়া পনের দিন পর্যন্ত রেখে দিতেন। শেষে তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-এর পরিবারের খাবারের কষ্টের কথাও বলেন—মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم-এর পরিবার পরপর তিন দিন পর্যন্ত তরকারি দিয়ে যবের রুটি পেট ভরে খাননি। এই হাদিসে কুরবানির গোশত সংরক্ষণ, গরিবদের সাহায্য এবং নবী পরিবারের সরল জীবনের শিক্ষা একসঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুর্ভিক্ষের সময় গরিবদের খাওয়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
- কুরবানির গোশত রাখার নিষেধাজ্ঞা ওই বিশেষ বছরের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
- খাবার সংরক্ষণ করা পরে প্রচলিত ছিল বলে বর্ণনায় এসেছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর পরিবারও খাবারের কষ্ট সহ্য করেছে।
